ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

শরীয়তপুরে পেঁয়াজ-রসুনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে, ন্যায্যমূল্যের দাবি

মো. ফিরোজ আলম, নড়িয়া (শরীয়তপুর)
  • আপডেট সময় : ১০১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিনা চাষে পিয়াজ রসুন রোপনে খরচ কম, আর আগাম ফলনে লাভজনক হওয়া, শরীয়পুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলায় বৃদ্ধি পেয়েছে পিয়াজ ও রসুনের চাষ। আগাম ফলন পাওয়ায় দ্বি-ফসলী জমি তিন ফসলী আর তিন ফসলী জমি চার ফসলী জমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে । ফলে শরীয়তপুরে বাড়ছে কৃষিতে ফসলের উৎপাদন।কৃষকের পাশে থেকে উৎপাদন বাড়াতে চাষাবাদে আাধুনিক পরামর্শ দিয়ে কাজ করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। একের পর এক পতিত জমিও আনা হচ্ছে চাষের আওতায়।
জমি থেকে বর্ষার পানি নামার পর মাটি নরম থাকায় বর্তমানে পিয়াজ ও রসুন রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার কৃষকরা। জমি পরিস্কার করেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারি সারি করে রোপন করা হচ্ছে পিয়াজ ও রসুনের বীছন। চলতি বছর পিয়াজের দাম ভাল পেলেও রসুনের দাম কম ছিল। পিয়াজ রসুনের দাম কাঙ্খিত ভাবে পায়নি কৃষক।
তবে সার ও বীছনের দাম ও শ্রমিকের মজুরী বেশি হওয়ায় ক্ষতির মধ্যেই রয়েছে কৃষক । আগামীতে ফলন ভাল হলে ও ফসলের কাঙ্ক্ষিত ন্যায্য মূল্য পেলে লোকসান পুষিয়ে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার কৃষকরা। বর্তমানে সারের দাম বেশি ও হাতের নাগালে সার না পাওয়ার অভিযোগ করে নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চরের কৃষক মোঃ আমিনুল ইসলাম মাদবর ও ইউনুছ মাদবরসহ আন্যান্য কৃষকরা জানায়, যদি আগামিতে সরকার আমাদের উৎপাদিত পিয়াজ রসুনের ন্যায্য দামের ব্যবস্থা না করে তাহলে আমরা চরম ক্ষতির মধ্যে পড়বো । আমাদের পিয়াজ রসুন যখন বিক্রির উপযোগী হবে তখন বিদেশি পিয়াজ রসুন আমদানি বন্ধ রাখতে হবে । সারের দাম ও বালাই নাশকের দাম কমাতে হবে । দেশ বাচাতে হলে কৃষককে বাচাতে হবে । আগামীতে পিয়াজ রসুনের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার দাবী সকল পিয়াজ রসুন চাষীদের ।
এদিকে কৃষকদের লাভবান করতে ও চাষেবাদে অধিকতর আগ্রহী করতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারীভাবে কৃষককে দেয়া হচ্ছে কৃষি প্রণোদনা। বিনা চাষে পিয়াজ ও রসুনের আবাদ বিজ্ঞান ভিত্তিক মাটির পরিবেশ রক্ষা হয়। এছাড়া আগাম সময়ে ফলন পেলে বাজার দরে কৃষক হয় লাভবান। সময় বাচাতে পারায় দ্বি ফসলী জমি তিন ফসলীতে আর তিন ফসলী জমি চার ফসলীতে রুপান্তর হওয়ায় কৃষি উৎপাদন বেড়েছে দাবি করলেন নড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সবুজ চৌধুরী ।
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পিয়াজ রসুনের আবাদ হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এ বছর শরীয়তপুরে পিয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা সরকারি ভাবে ধরা হয়েছ ৪ হাজার ৩শত ৫২ হেক্টর ও রসুন আবাদের লক্ষমাত্র ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৭ শত ৫০. হেক্টর জমিতে । পিয়াজের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬১ হাজার ৫১ মেট্রিকটন আর রসূনের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ৭ শত৫০ মেট্রিকটন । সরকারী প্রনোদনা থাকায় ও বীছনের অভাব না থাকায় আবাদের লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শরীয়তপুরে পেঁয়াজ-রসুনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে, ন্যায্যমূল্যের দাবি

আপডেট সময় :

বিনা চাষে পিয়াজ রসুন রোপনে খরচ কম, আর আগাম ফলনে লাভজনক হওয়া, শরীয়পুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলায় বৃদ্ধি পেয়েছে পিয়াজ ও রসুনের চাষ। আগাম ফলন পাওয়ায় দ্বি-ফসলী জমি তিন ফসলী আর তিন ফসলী জমি চার ফসলী জমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে । ফলে শরীয়তপুরে বাড়ছে কৃষিতে ফসলের উৎপাদন।কৃষকের পাশে থেকে উৎপাদন বাড়াতে চাষাবাদে আাধুনিক পরামর্শ দিয়ে কাজ করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। একের পর এক পতিত জমিও আনা হচ্ছে চাষের আওতায়।
জমি থেকে বর্ষার পানি নামার পর মাটি নরম থাকায় বর্তমানে পিয়াজ ও রসুন রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার কৃষকরা। জমি পরিস্কার করেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারি সারি করে রোপন করা হচ্ছে পিয়াজ ও রসুনের বীছন। চলতি বছর পিয়াজের দাম ভাল পেলেও রসুনের দাম কম ছিল। পিয়াজ রসুনের দাম কাঙ্খিত ভাবে পায়নি কৃষক।
তবে সার ও বীছনের দাম ও শ্রমিকের মজুরী বেশি হওয়ায় ক্ষতির মধ্যেই রয়েছে কৃষক । আগামীতে ফলন ভাল হলে ও ফসলের কাঙ্ক্ষিত ন্যায্য মূল্য পেলে লোকসান পুষিয়ে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার কৃষকরা। বর্তমানে সারের দাম বেশি ও হাতের নাগালে সার না পাওয়ার অভিযোগ করে নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চরের কৃষক মোঃ আমিনুল ইসলাম মাদবর ও ইউনুছ মাদবরসহ আন্যান্য কৃষকরা জানায়, যদি আগামিতে সরকার আমাদের উৎপাদিত পিয়াজ রসুনের ন্যায্য দামের ব্যবস্থা না করে তাহলে আমরা চরম ক্ষতির মধ্যে পড়বো । আমাদের পিয়াজ রসুন যখন বিক্রির উপযোগী হবে তখন বিদেশি পিয়াজ রসুন আমদানি বন্ধ রাখতে হবে । সারের দাম ও বালাই নাশকের দাম কমাতে হবে । দেশ বাচাতে হলে কৃষককে বাচাতে হবে । আগামীতে পিয়াজ রসুনের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার দাবী সকল পিয়াজ রসুন চাষীদের ।
এদিকে কৃষকদের লাভবান করতে ও চাষেবাদে অধিকতর আগ্রহী করতে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারীভাবে কৃষককে দেয়া হচ্ছে কৃষি প্রণোদনা। বিনা চাষে পিয়াজ ও রসুনের আবাদ বিজ্ঞান ভিত্তিক মাটির পরিবেশ রক্ষা হয়। এছাড়া আগাম সময়ে ফলন পেলে বাজার দরে কৃষক হয় লাভবান। সময় বাচাতে পারায় দ্বি ফসলী জমি তিন ফসলীতে আর তিন ফসলী জমি চার ফসলীতে রুপান্তর হওয়ায় কৃষি উৎপাদন বেড়েছে দাবি করলেন নড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সবুজ চৌধুরী ।
শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পিয়াজ রসুনের আবাদ হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এ বছর শরীয়তপুরে পিয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা সরকারি ভাবে ধরা হয়েছ ৪ হাজার ৩শত ৫২ হেক্টর ও রসুন আবাদের লক্ষমাত্র ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৭ শত ৫০. হেক্টর জমিতে । পিয়াজের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬১ হাজার ৫১ মেট্রিকটন আর রসূনের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ৭ শত৫০ মেট্রিকটন । সরকারী প্রনোদনা থাকায় ও বীছনের অভাব না থাকায় আবাদের লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।