ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

শিবালয়ে রাস্তার ইট লুট, প্রশাসনের লিখিত অভিযোগের দোহাই

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪২ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দক্ষিণাড়া গ্রামে সরকারি রাস্তার বিপুল পরিমাণ ইট আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যবহারের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা এখন জনমনে চরম বিষোদ্গার সৃষ্টি করেছে। জনপথের ইট দিয়ে ইতালি প্রবাসী ইব্রাহিম শিকদারের বাড়ির আঙিনা ও বাথরুম তৈরির সচিত্র প্রমাণ গণমাধ্যমে আসার পরও ‘লিখিত অভিযোগের’ দোহাই দিয়ে শিবালয় উপজেলা প্রশাসনের নীরব থাকার বিষয়টি এখন আর সাধারণ গাফিলতি নয়, বরং অপরাধীর প্রতি ‘রহস্যজনক আনুকূল্য’ হিসেবেই দেখছে সচেতন মহল।
স্থানীয়রা জানায়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকারের কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নয়াবাড়ি-দক্ষিণাড়া সড়কের ইটের সলিং ধসে পড়ার পর থেকেই প্রভাবশালী ইব্রাহিম শিকদার তা পৈতৃক সম্পত্তির মতো লুটে নেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি সম্পদ চুরি করে নিজস্ব স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও সংবাদমাধ্যমে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রাণী কর্মকারের “কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”-এমন দায়সারা মন্তব্য সরকারি চাকুরির বিধিমালা ও জনস্বার্থের পরিপন্থী।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি সম্পদ রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব কি তবে সাধারণ মানুষের? সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পরও যেখানে প্রশাসনের স্বপ্রণোদিত (Suo Moto) পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখানে লিখিত অভিযোগের অজুহাত তুলে কালক্ষেপণ করা মূলত অভিযুক্তকে দেশত্যাগের সুযোগ করে দেওয়ার শামিল।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় সরাসরি অ-জামিনযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। এছাড়াও দ্য পাবলিক প্রপার্টি (প্রিভেনশন অফ ড্যামেজ) অ্যাক্ট, ১৯৮৪ আইন অনুযায়ী, সরকারি সম্পদ নষ্ট বা চুরি হওয়া রোধ করা এবং দোষীদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা প্রশাসনের ওপর অর্পিত দায়িত্ব। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের রুটিন কাজ হলো সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গণমাধ্যমে খবর আসার পর তদন্ত কমিটি গঠন না করা ‘দ্য গভর্মেন্ট সার্ভেন্টস (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল) রুলস, ২০১৮’ অনুযায়ী কর্তব্যে অবহেলার (Negligence of duty) শামিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রভাবশালী প্রবাসী ইব্রাহিম শিকদার ও তার দোসররা মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু সংবাদকর্মী ও প্রশাসনের নিচুতলার কিছু অংশকে আর্থিক সুবিধায় ‘ম্যানেজ’ করার দাপট দেখাচ্ছেন। সড়কের ইটের সাথে বাড়ির ইটের হুবহু মিল থাকার পরও আইনি ব্যবস্থায় গড়িমসি প্রমাণ করে যে, সরিষার ভেতরেই ভূত লুকিয়ে আছে। প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা সুযোগসন্ধানী চোরদের জন্য ‘গ্রিন সিগন্যাল’ হিসেবে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা অসম্ভব করে তুলবে।
বর্তমানে অভিযুক্ত ইব্রাহিম শিকদার এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং আইনি জটিলতা এড়াতে দ্রুত ইতালি পাড়ি জমানোর পায়তারা করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে ইব্রাহিমের পাসপোর্ট জব্দ করা হোক। অন্যথায় প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা ও দুর্নীতির পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে সাধারণ মানুষ।
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত কর্মকর্তাদের এমন ‘খামখেয়ালি’ ও দায়িত্বহীনতার দায় জেলা প্রশাসনকেও নিতে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের শীর্ষ মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র প্রত্যাশা করছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শিবালয়ে রাস্তার ইট লুট, প্রশাসনের লিখিত অভিযোগের দোহাই

আপডেট সময় :

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দক্ষিণাড়া গ্রামে সরকারি রাস্তার বিপুল পরিমাণ ইট আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যবহারের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা এখন জনমনে চরম বিষোদ্গার সৃষ্টি করেছে। জনপথের ইট দিয়ে ইতালি প্রবাসী ইব্রাহিম শিকদারের বাড়ির আঙিনা ও বাথরুম তৈরির সচিত্র প্রমাণ গণমাধ্যমে আসার পরও ‘লিখিত অভিযোগের’ দোহাই দিয়ে শিবালয় উপজেলা প্রশাসনের নীরব থাকার বিষয়টি এখন আর সাধারণ গাফিলতি নয়, বরং অপরাধীর প্রতি ‘রহস্যজনক আনুকূল্য’ হিসেবেই দেখছে সচেতন মহল।
স্থানীয়রা জানায়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকারের কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নয়াবাড়ি-দক্ষিণাড়া সড়কের ইটের সলিং ধসে পড়ার পর থেকেই প্রভাবশালী ইব্রাহিম শিকদার তা পৈতৃক সম্পত্তির মতো লুটে নেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি সম্পদ চুরি করে নিজস্ব স্থাপনা নির্মাণ করা হলেও সংবাদমাধ্যমে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রাণী কর্মকারের “কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”-এমন দায়সারা মন্তব্য সরকারি চাকুরির বিধিমালা ও জনস্বার্থের পরিপন্থী।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি সম্পদ রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব কি তবে সাধারণ মানুষের? সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পরও যেখানে প্রশাসনের স্বপ্রণোদিত (Suo Moto) পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেখানে লিখিত অভিযোগের অজুহাত তুলে কালক্ষেপণ করা মূলত অভিযুক্তকে দেশত্যাগের সুযোগ করে দেওয়ার শামিল।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় সরাসরি অ-জামিনযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। এছাড়াও দ্য পাবলিক প্রপার্টি (প্রিভেনশন অফ ড্যামেজ) অ্যাক্ট, ১৯৮৪ আইন অনুযায়ী, সরকারি সম্পদ নষ্ট বা চুরি হওয়া রোধ করা এবং দোষীদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা প্রশাসনের ওপর অর্পিত দায়িত্ব। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের রুটিন কাজ হলো সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গণমাধ্যমে খবর আসার পর তদন্ত কমিটি গঠন না করা ‘দ্য গভর্মেন্ট সার্ভেন্টস (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল) রুলস, ২০১৮’ অনুযায়ী কর্তব্যে অবহেলার (Negligence of duty) শামিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রভাবশালী প্রবাসী ইব্রাহিম শিকদার ও তার দোসররা মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু সংবাদকর্মী ও প্রশাসনের নিচুতলার কিছু অংশকে আর্থিক সুবিধায় ‘ম্যানেজ’ করার দাপট দেখাচ্ছেন। সড়কের ইটের সাথে বাড়ির ইটের হুবহু মিল থাকার পরও আইনি ব্যবস্থায় গড়িমসি প্রমাণ করে যে, সরিষার ভেতরেই ভূত লুকিয়ে আছে। প্রশাসনের এই নির্লিপ্ততা সুযোগসন্ধানী চোরদের জন্য ‘গ্রিন সিগন্যাল’ হিসেবে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা অসম্ভব করে তুলবে।
বর্তমানে অভিযুক্ত ইব্রাহিম শিকদার এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং আইনি জটিলতা এড়াতে দ্রুত ইতালি পাড়ি জমানোর পায়তারা করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে ইব্রাহিমের পাসপোর্ট জব্দ করা হোক। অন্যথায় প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা ও দুর্নীতির পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে সাধারণ মানুষ।
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত কর্মকর্তাদের এমন ‘খামখেয়ালি’ ও দায়িত্বহীনতার দায় জেলা প্রশাসনকেও নিতে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের শীর্ষ মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র প্রত্যাশা করছেন তারা।