ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

স্মৃতিধন্য ১১৭ নম্বর কেবিন এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪ ১৯০ বার পড়া হয়েছে

ঐতিহাসিক ১১৭নম্বর কেবিন

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যে কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন বিদ্রোহী কবির স্মৃতিধন্য সেই ঐতিহাসিক ১১৭নম্বর কেবিন সংরক্ষণের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি তা আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের জন্য আমাদের জাতীয় কবিকে জানতে ও জাতীয় কবির স্মৃতিসংরক্ষণে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

১১ জ্যৈষ্ঠ, বাংলাভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম প্রাণ পুরুষ, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন। বাঙালির আবেগ, অনুভূতিতে জড়িয়ে থাকা চিরবিদ্রোহী এই কবির ১২৪তম জন্মজয়ন্তী। কবি বেঁচে ছিলেন ৭৭ বছর। জন্মের পর থেকে মাত্র ৪৩ বছর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবন কাটিয়েছেন। এরমধ্যে সাহিত্য রচনার কাল ছিলো মাত্র ২৪বছর। তারপরও বাঙালির জীবনে নজরুলের দিগন্ত বিস্তৃত প্রভাব। মানবতাবাদী কবি নজরুল একুশ শতকে এসে হয়ে উঠেছেন মনুষ্যত্বের কবি। যখন দেশে দেশে সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, ধর্মীয় কুসংস্কার বাড়ছে তখন অসাম্প্রদায়িক ও মানবতার কবি নজরুল চর্চার বিকল্প নেই।

কাজী নজরুল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবার কাজী ফকিরআহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। দরিদ্র পরিবারে জন্মের পর দুঃখ-দারিদ্র্য ছিলো তাঁর নিত্যসঙ্গী। তার ডাক নাম ছিলো দুখু মিয়া। বাবার অকাল মৃত্যুতে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য শিশু বয়সেই মক্তবে শিক্ষকতা, হাজি পালোয়ানের মাজারে খাদেম, মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করেন। তবে নিজের দুঃখ নিয়ে নয়, তিনি জাতির দুঃখ-ক্লেশ, দৈন্য-লজ্জাঘোচানোর জন্য ভাবতেন সব সময়।

কাজী নজরুল ইসলাম বিশশতকের বিশ ও ত্রিশের দশকে উপমহাদেশের অবিভক্ত বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব। তিনিই রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার পথিকৃৎ।নজরুল তার কবিতা, গান ও উপন্যাসে পরাধীন ভারতে বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা, সামন্তবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকর, সাংবাদিক ও সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে অনন্য অবদানে বাংলাভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ করেছেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে রচনা করেন অমর কবিতা ‘বিদ্রোহী’, যেখানে নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন, ‘আমি চির বিদ্রোহী বীর-আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নতশির’।

অত্যাচারী ও উৎপীড়কের বিরুদ্ধে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন বিদ্রোহী।একই সঙ্গে কৃষক-শ্রমিক, মেহনতী মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলে নিবেদিত। বাংলাদেশের মহান মুক্তি সংগ্রামে তিনি ছিলেন প্রেরণা। মুক্তিযোদ্ধারা মহান এ কবির ‘জয়বাংলা’ ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে নির্ভয়ে এগিয়ে যেতো রণাঙ্গণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে বিজয়কেতন ওড়াতে, কন্ঠে তাঁদের প্রেরণা দায়ী গান চলচলচল…। তাঁর জন্মদিনটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছিলো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক সূচনার দিন হিসেবে।

১৯৪২ সালে জাতীয় কবি রনিউরোডিস অর্ডারজনিত জটিলব্যাধিতে আক্রান্ত হন। এই ভয়ংকর রোগের কারণে ৩৪ বছরের বেশি সময় সাহিত্য ও সঙ্গীত জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও ধূমকেতু, ভাঙার গান ও অগ্নিবীণার স্রষ্টা মহান কবির সাম্য-সম্প্রীতি-মানবতারবাণী আমাদের চির কালের প্রেরণা।

১৯৭৫ সালের ২২ জুলাই চিকিৎসকদের পরামর্শে বঙ্গবন্ধু ‘কবিভবন’ থেকে কবিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন আইপিজিএমআর)-এর ১১৭ নম্বর কেবিনে স্থানান্তর করেন। ১বছর ১ মাস ৮দিন এই কেবিনে চিকিৎসক ও নার্সদের নিবিড় যত্ন ও সেবা দেওয়া হয় মানবতার কবিকে। বিভিন্ন সময়ে কবির চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্যবিভাগের তৎকালীন মহাপরিচালক ডা. মেজর এ চৌধুরী। পরবর্তী সময়ে জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুলই সলাম, ডা. নাজিমুদ্দৌলা, ডা. আশিকুর রহমান খান প্রমুখ। বঙ্গবন্ধুর অনুমতি নিয়ে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাদেন ডা. বায়েজিদ খান। কবির সার্বক্ষণিক সেবাপ্রদানে যুক্তছিলেন সেবিকা শামসুন্নাহার ও সেবক ওয়াহিদুল্লাহ ভুঁইয়া। এই ১১৭ নম্বর কেবিনেই বাঙালির পরম প্রিয় কবির জীবনাবসান ঘটে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে শান্ত, সবুজ পরিবেশে সমাহিত করা হয় তাঁকে। কিন্তু আজও মধুর বাঁশুরী বাজে। তিনি আছেন আমাদের চেতনায়, অন্তরের অন্তঃস্থলে এবং থাকবেন চিরকাল। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ ও বাংলাসাহিত্য-সংস্কৃতির প্রবাদ পুরুষ। শোষিতেরপক্ষে আরশোষকদের বিরুদ্ধে আজন্মবিদ্রোহী কবি জীবন-সায়াহ্নে এসে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অমর কবির মৃত্যু নেই, কোটি বাঙালির কন্ঠে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-এর ১১৭ নম্বর কেবিনটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের শেষ বিদায়ের স্মৃতিধন্য, বাঙালির স্মরণীয় জায়গা।

শোষিত বঞ্চিত নিপীড়িত জনতার কবি, অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি, বিশ্বমানবতার কবি বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর স্মৃতিধন্য কক্ষ ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে বিগত ১২ই ভাদ্র ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০২১ সালের ২৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান বি-ব্লকের দ্বিতীয় তলায় ১১৭ নম্বর কেবিনটি জাতীয় কবির স্মৃতিকক্ষের উদ্বোধন করি। ঐতিহাসিক উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে আলোচনার সভার আয়োজন করা হয়। এই মহতী অনুষ্ঠানে প্রধানঅতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। উদ্বোধক হিসেবে স্মৃতিচারণমূলক মূল্যবান বক্তব্য
রাখেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

আলোচক হিসেবে অংশনেন বাংলা একাডেমির সম্মানিত মহাপরিচালক কবি নুরুল হুদা, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, সম্মিলিত সাংস্কৃতি জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, কলামিস্টসাংবাদিকরাজনৈতিকবিশ্লেষকওগবেষকসুভাষসিংহরায়, নজরুলসঙ্গীতশিল্পীসাদিয়া আফরিন মল্লিক, নজরুল সঙ্গীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল এবং আবৃত্তি করেন জয়ন্ত চট্টপাধ্যায়। ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে সভাপতিত্ব করেছিলাম আমি।

লেখক: সাবেকউপাচার্য, বঙ্গবন্ধুশেখমুজিবমেডিক্যালবিশ্ববিদ্যালয়

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্মৃতিধন্য ১১৭ নম্বর কেবিন এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম

আপডেট সময় : ১০:১১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪

 

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যে কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন বিদ্রোহী কবির স্মৃতিধন্য সেই ঐতিহাসিক ১১৭নম্বর কেবিন সংরক্ষণের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি তা আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের জন্য আমাদের জাতীয় কবিকে জানতে ও জাতীয় কবির স্মৃতিসংরক্ষণে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

১১ জ্যৈষ্ঠ, বাংলাভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম প্রাণ পুরুষ, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন। বাঙালির আবেগ, অনুভূতিতে জড়িয়ে থাকা চিরবিদ্রোহী এই কবির ১২৪তম জন্মজয়ন্তী। কবি বেঁচে ছিলেন ৭৭ বছর। জন্মের পর থেকে মাত্র ৪৩ বছর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবন কাটিয়েছেন। এরমধ্যে সাহিত্য রচনার কাল ছিলো মাত্র ২৪বছর। তারপরও বাঙালির জীবনে নজরুলের দিগন্ত বিস্তৃত প্রভাব। মানবতাবাদী কবি নজরুল একুশ শতকে এসে হয়ে উঠেছেন মনুষ্যত্বের কবি। যখন দেশে দেশে সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, ধর্মীয় কুসংস্কার বাড়ছে তখন অসাম্প্রদায়িক ও মানবতার কবি নজরুল চর্চার বিকল্প নেই।

কাজী নজরুল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবার কাজী ফকিরআহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। দরিদ্র পরিবারে জন্মের পর দুঃখ-দারিদ্র্য ছিলো তাঁর নিত্যসঙ্গী। তার ডাক নাম ছিলো দুখু মিয়া। বাবার অকাল মৃত্যুতে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য শিশু বয়সেই মক্তবে শিক্ষকতা, হাজি পালোয়ানের মাজারে খাদেম, মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করেন। তবে নিজের দুঃখ নিয়ে নয়, তিনি জাতির দুঃখ-ক্লেশ, দৈন্য-লজ্জাঘোচানোর জন্য ভাবতেন সব সময়।

কাজী নজরুল ইসলাম বিশশতকের বিশ ও ত্রিশের দশকে উপমহাদেশের অবিভক্ত বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব। তিনিই রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার পথিকৃৎ।নজরুল তার কবিতা, গান ও উপন্যাসে পরাধীন ভারতে বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা, সামন্তবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকর, সাংবাদিক ও সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে অনন্য অবদানে বাংলাভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ করেছেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে রচনা করেন অমর কবিতা ‘বিদ্রোহী’, যেখানে নিজেকে প্রকাশ করেছিলেন, ‘আমি চির বিদ্রোহী বীর-আমি বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির-উন্নতশির’।

অত্যাচারী ও উৎপীড়কের বিরুদ্ধে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন বিদ্রোহী।একই সঙ্গে কৃষক-শ্রমিক, মেহনতী মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলে নিবেদিত। বাংলাদেশের মহান মুক্তি সংগ্রামে তিনি ছিলেন প্রেরণা। মুক্তিযোদ্ধারা মহান এ কবির ‘জয়বাংলা’ ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে নির্ভয়ে এগিয়ে যেতো রণাঙ্গণে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে বিজয়কেতন ওড়াতে, কন্ঠে তাঁদের প্রেরণা দায়ী গান চলচলচল…। তাঁর জন্মদিনটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছিলো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক সূচনার দিন হিসেবে।

১৯৪২ সালে জাতীয় কবি রনিউরোডিস অর্ডারজনিত জটিলব্যাধিতে আক্রান্ত হন। এই ভয়ংকর রোগের কারণে ৩৪ বছরের বেশি সময় সাহিত্য ও সঙ্গীত জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও ধূমকেতু, ভাঙার গান ও অগ্নিবীণার স্রষ্টা মহান কবির সাম্য-সম্প্রীতি-মানবতারবাণী আমাদের চির কালের প্রেরণা।

১৯৭৫ সালের ২২ জুলাই চিকিৎসকদের পরামর্শে বঙ্গবন্ধু ‘কবিভবন’ থেকে কবিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন আইপিজিএমআর)-এর ১১৭ নম্বর কেবিনে স্থানান্তর করেন। ১বছর ১ মাস ৮দিন এই কেবিনে চিকিৎসক ও নার্সদের নিবিড় যত্ন ও সেবা দেওয়া হয় মানবতার কবিকে। বিভিন্ন সময়ে কবির চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্যবিভাগের তৎকালীন মহাপরিচালক ডা. মেজর এ চৌধুরী। পরবর্তী সময়ে জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুলই সলাম, ডা. নাজিমুদ্দৌলা, ডা. আশিকুর রহমান খান প্রমুখ। বঙ্গবন্ধুর অনুমতি নিয়ে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাদেন ডা. বায়েজিদ খান। কবির সার্বক্ষণিক সেবাপ্রদানে যুক্তছিলেন সেবিকা শামসুন্নাহার ও সেবক ওয়াহিদুল্লাহ ভুঁইয়া। এই ১১৭ নম্বর কেবিনেই বাঙালির পরম প্রিয় কবির জীবনাবসান ঘটে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে শান্ত, সবুজ পরিবেশে সমাহিত করা হয় তাঁকে। কিন্তু আজও মধুর বাঁশুরী বাজে। তিনি আছেন আমাদের চেতনায়, অন্তরের অন্তঃস্থলে এবং থাকবেন চিরকাল। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ ও বাংলাসাহিত্য-সংস্কৃতির প্রবাদ পুরুষ। শোষিতেরপক্ষে আরশোষকদের বিরুদ্ধে আজন্মবিদ্রোহী কবি জীবন-সায়াহ্নে এসে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অমর কবির মৃত্যু নেই, কোটি বাঙালির কন্ঠে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-এর ১১৭ নম্বর কেবিনটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের শেষ বিদায়ের স্মৃতিধন্য, বাঙালির স্মরণীয় জায়গা।

শোষিত বঞ্চিত নিপীড়িত জনতার কবি, অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি, বিশ্বমানবতার কবি বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর স্মৃতিধন্য কক্ষ ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে বিগত ১২ই ভাদ্র ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০২১ সালের ২৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান বি-ব্লকের দ্বিতীয় তলায় ১১৭ নম্বর কেবিনটি জাতীয় কবির স্মৃতিকক্ষের উদ্বোধন করি। ঐতিহাসিক উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে আলোচনার সভার আয়োজন করা হয়। এই মহতী অনুষ্ঠানে প্রধানঅতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। উদ্বোধক হিসেবে স্মৃতিচারণমূলক মূল্যবান বক্তব্য
রাখেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

আলোচক হিসেবে অংশনেন বাংলা একাডেমির সম্মানিত মহাপরিচালক কবি নুরুল হুদা, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, সম্মিলিত সাংস্কৃতি জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, কলামিস্টসাংবাদিকরাজনৈতিকবিশ্লেষকওগবেষকসুভাষসিংহরায়, নজরুলসঙ্গীতশিল্পীসাদিয়া আফরিন মল্লিক, নজরুল সঙ্গীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল এবং আবৃত্তি করেন জয়ন্ত চট্টপাধ্যায়। ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে সভাপতিত্ব করেছিলাম আমি।

লেখক: সাবেকউপাচার্য, বঙ্গবন্ধুশেখমুজিবমেডিক্যালবিশ্ববিদ্যালয়