ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মিয়ানমার বাহিনীর সদস্যরা আসছেই * গ্রামগুলো থেকে নাগরিকদের সরে যাবার পরামর্শ

৩ শতাধিক বিজিপি’র আশ্রয়

গণমুক্তি রিপোর্ট
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মিয়ানমার থেকে গতকাল বুধবার আরও ৬৩ জন বর্ডার গার্ডসহ মোট ৩২৭ জন নিরাপত্তা রক্ষী পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় মিয়ানমারের বাহিনীর লড়াই তীব্র হয়ে ওঠেছে। তুমব্রু সীমান্ত গতকাল পরিদর্শন করেন বিজিবির ডিজি। ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু গ্রাম থেকে সাংবাদিকরা জানান, স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে এবং অনেক গ্রামবাসী বাড়িঘর ছেড়েছে। সাধারণত ঘুমধুমের বাজার অত্যন্ত জনাকীর্ণ থাকলেও এখন অনেকটা ফাঁকা। গ্রামের ঘরগুলো এখন জনমানব শূন্য হয়ে পড়ে আছে।

মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় আরাকান আর্মিসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চলমান লড়াইয়ের কারণে যেন কারও কোনও ক্ষতি না হয়, সেজন্য বিজিবি মহাপরিচালক স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটা একেবারে বর্ডার সংলগ্ন। আমাদের সাধারণ জনসাধারণের জন্য এই জায়গাটুকু আসলে নিরাপদ নয়। বিশেষ করে যখন গোলাগুলি শুরু হয়, সেই সময়টুকুতে তো একেবারেই নয়।’ তাই, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে বাড়ি ছাড়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

“এটা স্বাভাবিক যে নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকাটা আদৌ সুখকর কিছু না। তবে এই ধরনের পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষার্থে কিছুটা তো করতেই হবে,” যোগ করেন তিনি।
জানা গেছে, গোলাগুলির ভয়ে ইতোমধ্যে ঘুমধুম এলাকার অনেক বাসিন্দা স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।
“কোনও কোনও বাড়িতে দুই একটা গবাদি পশু ও সেই বাড়ির পুরুষ সদস্যদের দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সেটার সংখ্যাও খুবই কম। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দিনের বেলা কেউ বাড়িতে থাকছে না।”

‘মনে হচ্ছে, ওপারের ক্যাম্পগুলো মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী দখল করে নিয়েছে। সেজন্যই সীমান্তের ওপাশে গোলাগুলি হচ্ছে না এবং অনেকটাই শান্ত।’
তবে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কোনও কোনও পরিবার বাড়ি ফিরে আসছে, তার কারণ হলো আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা বা সুযোগ নেই। সীমান্তের অস্থিরতার জন্য যে পাঁচটি স্কুল বন্ধ করা হয়েছিলো। সেগুলো বন্ধই আছে।

আরাকান আর্মিসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা জোরদার হওয়ার পর গত তিনদিন ধরে মিয়ারমার থেকে পালিয়ে আসছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা।
এ পর্যন্ত মোট ৩২৭ জন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ-বিজিপি’র সদস্যকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বুধবার আসা ৬৩ জন বিজিপি সদস্য রয়েছে।

তাদের সবাইকে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে। তবে বিজিপি সদস্যদেরকে আশ্রয় দেয়ার আগে তাদেরকে নিরস্ত্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যরা বাংলাদেশে প্রবেশ করা শুরু করে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসাদের নিরাপত্তা, খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে বিজিবি। এছাড়া, এদের মাঝে যারা আহত আছে, তাদেরকে চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেলের আঘাতে বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জলপাইতলী সীমান্তে এক নারীসহ ২ জন নিহত হন। সীমান্তে সশস্ত্র বাহিনীকে ধৈর্য ধরতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মিয়ানমার বাহিনীর সদস্যরা আসছেই * গ্রামগুলো থেকে নাগরিকদের সরে যাবার পরামর্শ

৩ শতাধিক বিজিপি’র আশ্রয়

আপডেট সময় : ০৩:১৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মিয়ানমার থেকে গতকাল বুধবার আরও ৬৩ জন বর্ডার গার্ডসহ মোট ৩২৭ জন নিরাপত্তা রক্ষী পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় মিয়ানমারের বাহিনীর লড়াই তীব্র হয়ে ওঠেছে। তুমব্রু সীমান্ত গতকাল পরিদর্শন করেন বিজিবির ডিজি। ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু গ্রাম থেকে সাংবাদিকরা জানান, স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে এবং অনেক গ্রামবাসী বাড়িঘর ছেড়েছে। সাধারণত ঘুমধুমের বাজার অত্যন্ত জনাকীর্ণ থাকলেও এখন অনেকটা ফাঁকা। গ্রামের ঘরগুলো এখন জনমানব শূন্য হয়ে পড়ে আছে।

মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় আরাকান আর্মিসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চলমান লড়াইয়ের কারণে যেন কারও কোনও ক্ষতি না হয়, সেজন্য বিজিবি মহাপরিচালক স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটা একেবারে বর্ডার সংলগ্ন। আমাদের সাধারণ জনসাধারণের জন্য এই জায়গাটুকু আসলে নিরাপদ নয়। বিশেষ করে যখন গোলাগুলি শুরু হয়, সেই সময়টুকুতে তো একেবারেই নয়।’ তাই, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে বাড়ি ছাড়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

“এটা স্বাভাবিক যে নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকাটা আদৌ সুখকর কিছু না। তবে এই ধরনের পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষার্থে কিছুটা তো করতেই হবে,” যোগ করেন তিনি।
জানা গেছে, গোলাগুলির ভয়ে ইতোমধ্যে ঘুমধুম এলাকার অনেক বাসিন্দা স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন।
“কোনও কোনও বাড়িতে দুই একটা গবাদি পশু ও সেই বাড়ির পুরুষ সদস্যদের দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সেটার সংখ্যাও খুবই কম। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দিনের বেলা কেউ বাড়িতে থাকছে না।”

‘মনে হচ্ছে, ওপারের ক্যাম্পগুলো মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী দখল করে নিয়েছে। সেজন্যই সীমান্তের ওপাশে গোলাগুলি হচ্ছে না এবং অনেকটাই শান্ত।’
তবে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কোনও কোনও পরিবার বাড়ি ফিরে আসছে, তার কারণ হলো আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা বা সুযোগ নেই। সীমান্তের অস্থিরতার জন্য যে পাঁচটি স্কুল বন্ধ করা হয়েছিলো। সেগুলো বন্ধই আছে।

আরাকান আর্মিসহ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা জোরদার হওয়ার পর গত তিনদিন ধরে মিয়ারমার থেকে পালিয়ে আসছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা।
এ পর্যন্ত মোট ৩২৭ জন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ-বিজিপি’র সদস্যকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বুধবার আসা ৬৩ জন বিজিপি সদস্য রয়েছে।

তাদের সবাইকে ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে। তবে বিজিপি সদস্যদেরকে আশ্রয় দেয়ার আগে তাদেরকে নিরস্ত্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যরা বাংলাদেশে প্রবেশ করা শুরু করে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসাদের নিরাপত্তা, খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে বিজিবি। এছাড়া, এদের মাঝে যারা আহত আছে, তাদেরকে চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেলের আঘাতে বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জলপাইতলী সীমান্তে এক নারীসহ ২ জন নিহত হন। সীমান্তে সশস্ত্র বাহিনীকে ধৈর্য ধরতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।