ঢাকা ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

আগুলিয়ায় অর্ধশতাধিক মানুষকে গৃহবন্দি করে চাঁদা দাবির অভিযোগ

সাঈম সরকার, আশুলিয়া (ঢাকা)
  • আপডেট সময় : ৮৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আশুলিয়ায় চলাচলের একমাত্র রাস্তা উঁচু দেয়াল তুলে বন্ধ করে দিয়ে চাঁদাদাবি”র অভিযোগ উঠেছে এক ভূমি বিক্রেতা পরিবারের বিরুদ্ধে। এতে নারী ও শিশুসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী মো. বোরহান উদ্দিন জানান, ২০১৩ সালে পলাশবাড়ী মৌজায় পূর্বডেন্ডাবর,কবরস্থান রোড এলাকায় ১২ শতাংশ জমি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে তিনি ও তার দুই ভাই যৌথভাবে ক্রয় করেন।ঐ সময় জমির মালিক/মালকিনি জমি কেনার সময় সরকারি সড়কে যাতায়াতের জন্য ১০ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা দেখিয়ে জমি বিক্রি করা হয়। পরে সেখানে বোরহান উদ্দিনরা তিন ভাই টিনশেড ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন তারা। বর্তমানে ওই জমিতে প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে জমির বিক্রেতা মাবিয়া ও তার স্বামী হযরত মিয়া হঠাৎ করে চলাচলের ওই রাস্তায় ইটের দেয়াল নির্মাণ করে পথ বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের উদ্যোগে গ্রাম্য সালিশ বসে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সে সময় কৌশলে সাড়ে তিন লাখ টাকা নেওয়া হয় রাস্তার দাবিতে। সালিশে একজন সরকারি সার্বেয়ারসহ- আমিনও উপস্থিত ছিলেন বলে তারা জানান।তবে অভিযোগ রয়েছে, সালিশের পরও বিরোধের অবসান হয়নি। নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হয় বলে জানান বোরহান উদ্দিন।
চাঁদাদাবির বিষয়টি মাবিয়া ও তার স্বামী হযরত মিয়া অস্বীকার করলেও পাশের বাড়ীর মালিক সাবেক শিক্ষা অফিসার গোলাম মাওলাসহ অনেকেই চাঁদাদাবির ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী বলে জানান।তারা বলেন, সম্প্রতি বোরহান উদ্দিন জমির একটি অংশ বিক্রির উদ্যোগ নিলে বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রির চাপ দেওয়া হয়। অন্যত্র বিক্রি করতে চাইলে প্রতি শতাংশে দুই লাখ টাকা করে মোট ১৬ লাখ টাকা দাবি করেন মাবিয়া ও তার স্বামী হযরত মিয়া।সর্বশেষ গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আবারও প্রায় ১০ ফুট উঁচু দেয়াল তুলে রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে নারী-শিশুসহ অর্ধশতাধিক মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। জরুরি প্রয়োজনে কেউ বের হতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানান বাসিন্দারা।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক শেখর মল্লিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে তা ব্যর্থ হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীরা। অনুলিপি পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কাছেও। প্রয়োজনে মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে অবরুদ্ধ অসহায় পরিবারগুলোর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আগুলিয়ায় অর্ধশতাধিক মানুষকে গৃহবন্দি করে চাঁদা দাবির অভিযোগ

আপডেট সময় :

আশুলিয়ায় চলাচলের একমাত্র রাস্তা উঁচু দেয়াল তুলে বন্ধ করে দিয়ে চাঁদাদাবি”র অভিযোগ উঠেছে এক ভূমি বিক্রেতা পরিবারের বিরুদ্ধে। এতে নারী ও শিশুসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী মো. বোরহান উদ্দিন জানান, ২০১৩ সালে পলাশবাড়ী মৌজায় পূর্বডেন্ডাবর,কবরস্থান রোড এলাকায় ১২ শতাংশ জমি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে তিনি ও তার দুই ভাই যৌথভাবে ক্রয় করেন।ঐ সময় জমির মালিক/মালকিনি জমি কেনার সময় সরকারি সড়কে যাতায়াতের জন্য ১০ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা দেখিয়ে জমি বিক্রি করা হয়। পরে সেখানে বোরহান উদ্দিনরা তিন ভাই টিনশেড ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন তারা। বর্তমানে ওই জমিতে প্রায় ১৪ থেকে ১৫টি কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে জমির বিক্রেতা মাবিয়া ও তার স্বামী হযরত মিয়া হঠাৎ করে চলাচলের ওই রাস্তায় ইটের দেয়াল নির্মাণ করে পথ বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের উদ্যোগে গ্রাম্য সালিশ বসে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সে সময় কৌশলে সাড়ে তিন লাখ টাকা নেওয়া হয় রাস্তার দাবিতে। সালিশে একজন সরকারি সার্বেয়ারসহ- আমিনও উপস্থিত ছিলেন বলে তারা জানান।তবে অভিযোগ রয়েছে, সালিশের পরও বিরোধের অবসান হয়নি। নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হয় বলে জানান বোরহান উদ্দিন।
চাঁদাদাবির বিষয়টি মাবিয়া ও তার স্বামী হযরত মিয়া অস্বীকার করলেও পাশের বাড়ীর মালিক সাবেক শিক্ষা অফিসার গোলাম মাওলাসহ অনেকেই চাঁদাদাবির ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী বলে জানান।তারা বলেন, সম্প্রতি বোরহান উদ্দিন জমির একটি অংশ বিক্রির উদ্যোগ নিলে বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রির চাপ দেওয়া হয়। অন্যত্র বিক্রি করতে চাইলে প্রতি শতাংশে দুই লাখ টাকা করে মোট ১৬ লাখ টাকা দাবি করেন মাবিয়া ও তার স্বামী হযরত মিয়া।সর্বশেষ গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আবারও প্রায় ১০ ফুট উঁচু দেয়াল তুলে রাস্তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে নারী-শিশুসহ অর্ধশতাধিক মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। জরুরি প্রয়োজনে কেউ বের হতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানান বাসিন্দারা।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক শেখর মল্লিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে তা ব্যর্থ হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন ভুক্তভোগীরা। অনুলিপি পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কাছেও। প্রয়োজনে মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে অবরুদ্ধ অসহায় পরিবারগুলোর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন এলাকাবাসী।