ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ঈদের ছুটিতে সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজে পর্যটকের ঢল, উৎসবমুখর দক্ষিণাঞ্চল

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম দুই আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ এলাকায় নেমেছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের উপস্থিতিতে পুরো অঞ্চলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক প্রাণবন্ত, উৎসবমুখর পরিবেশ।
সুন্দরবনে প্রকৃতির টানে পর্যটকদের ভিড়
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বরাবরই প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ। এবারের ঈদেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বিশেষ করে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র পর্যটকদের প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়।
এছাড়া হাড়বাড়িয়া, হিরণ পয়েন্ট, কটকা, কচিখালী এবং দুবলার চর-সহ বিভিন্ন স্পটেও পর্যটকদের ছিল উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। নদী, বন আর বন্যপ্রাণীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করেছে।
তবে বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে বন বিভাগের কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক দম্পতি জানান, “সুন্দরবনের সৌন্দর্য অসাধারণ। তবে কিছু ফুট ট্রেইল ভাঙা ও অপরিষ্কার থাকায় চলাচলে অসুবিধা হয়েছে। নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের কয়েক দিনে শুধু করমজল এলাকাতেই প্রায় ১২ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হয়েছে।
ষাটগম্বুজ মসজিদে ইতিহাসের ছোঁয়া
অন্যদিকে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণেও ছিল দর্শনার্থীদের ঢল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষজন পরিবারসহ এখানে সময় কাটাচ্ছেন।
প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন এই মসজিদে কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা ইতিহাসের স্পর্শ অনুভব করছেন। মুন্সিগঞ্জ থেকে আগত এক দর্শনার্থী জানান, “দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল এখানে আসার। পরিবার নিয়ে এসে দারুণ অভিজ্ঞতা হলো।”
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের চার দিনে প্রায় ২২ হাজারের বেশি দর্শনার্থী এই প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছেন। এতে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।
বলেশ্বর তীরেও ভিড়
এছাড়া বলেশ্বর নদী তীরবর্তী শরণখোলার ইকোট্যুরিজম স্পটগুলোতেও দেখা গেছে পর্যটকদের ভিড়। নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য উপভোগ করছেন ভ্রমণপ্রেমীরা।
উন্নয়নের দাবি
পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপত্তা জোরদার এবং সেবার মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দর্শনার্থীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই অঞ্চল দেশের পর্যটন শিল্পে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঈদের ছুটিতে সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজে পর্যটকের ঢল, উৎসবমুখর দক্ষিণাঞ্চল

আপডেট সময় :

পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর দীর্ঘ ছুটিকে ঘিরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম দুই আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ এলাকায় নেমেছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের উপস্থিতিতে পুরো অঞ্চলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক প্রাণবন্ত, উৎসবমুখর পরিবেশ।
সুন্দরবনে প্রকৃতির টানে পর্যটকদের ভিড়
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বরাবরই প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য আকর্ষণ। এবারের ঈদেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বিশেষ করে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র পর্যটকদের প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয়।
এছাড়া হাড়বাড়িয়া, হিরণ পয়েন্ট, কটকা, কচিখালী এবং দুবলার চর-সহ বিভিন্ন স্পটেও পর্যটকদের ছিল উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। নদী, বন আর বন্যপ্রাণীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করেছে।
তবে বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে বন বিভাগের কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক দম্পতি জানান, “সুন্দরবনের সৌন্দর্য অসাধারণ। তবে কিছু ফুট ট্রেইল ভাঙা ও অপরিষ্কার থাকায় চলাচলে অসুবিধা হয়েছে। নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের কয়েক দিনে শুধু করমজল এলাকাতেই প্রায় ১২ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছেন, যা থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হয়েছে।
ষাটগম্বুজ মসজিদে ইতিহাসের ছোঁয়া
অন্যদিকে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণেও ছিল দর্শনার্থীদের ঢল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষজন পরিবারসহ এখানে সময় কাটাচ্ছেন।
প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন এই মসজিদে কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা ইতিহাসের স্পর্শ অনুভব করছেন। মুন্সিগঞ্জ থেকে আগত এক দর্শনার্থী জানান, “দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল এখানে আসার। পরিবার নিয়ে এসে দারুণ অভিজ্ঞতা হলো।”
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের চার দিনে প্রায় ২২ হাজারের বেশি দর্শনার্থী এই প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছেন। এতে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব অর্জিত হয়েছে।
বলেশ্বর তীরেও ভিড়
এছাড়া বলেশ্বর নদী তীরবর্তী শরণখোলার ইকোট্যুরিজম স্পটগুলোতেও দেখা গেছে পর্যটকদের ভিড়। নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য উপভোগ করছেন ভ্রমণপ্রেমীরা।
উন্নয়নের দাবি
পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপত্তা জোরদার এবং সেবার মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দর্শনার্থীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই অঞ্চল দেশের পর্যটন শিল্পে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।