ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঝিনাইদহে সংরক্ষিত নারী আসনে তহুরা  খাতুনকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা Logo নওগাঁর ঠাকুরমান্দার ২শ বছরের পূরনো রাজখাড়া দেবত্তোর ষ্টেটের শ্রী শ্রী জয় কালি মাতা মন্দির ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের পরিদর্শন Logo সদর মডেল থানা ও রামু থানায় ১৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo এপেক্স বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন নুরুল আমিন চৌধুরী Logo জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের জোর তৎপরতা, সচেতনতার আহ্বান Logo ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্যের ডাক দিলেন তানিয়া রব Logo মানিকগঞ্জে পেটে লাথি মেরে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ Logo তারাকান্দায় বসতবাড়ি সংলগ্ন মাটি খনন করায় বসতবাড়ি ধসে যাওয়ার শঙ্কা Logo বলাৎকারের খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের মামলা Logo তারাকান্দায় ফখরুদ্দিন হত্যার জেরে ধরে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

কুরআন শিক্ষার অনন্য প্রতিষ্ঠান চাঁদপুরের মুমিন বাড়ি মাদ্রাসা

চাঁদপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুসলিম পরিবারে নানা সীমাবদ্ধতায় ঐশিগ্রন্থ পবিত্র আল কুরআন সহিহ ও শুদ্ধভাবে পাঠ করতে না পারা লোকের সংখ্যাই বেশি। আর এই সংখ্যা কমিয়ে আনতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি কুরআন প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কুমুরুয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুমিন বাড়ি মাদ্রাসা। শতবছর পূর্বে এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠান করেন ক্বারী ইব্রাহীম খান (রহ.)। তারই ধারাবাহিকতায় এখনো প্রতি রমজান মাসে এই মাদ্রাসা বিভিন্ন বয়সী লোকজন কুরআন প্রশিক্ষণ গ্রহন করছেন।
সরেজমিন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছে।
মূলত এই মাদ্রাসার ক্বেরাত বিভাগের দেশ-বিদেশে সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ক্বেরাত বিভাগ সম্পন্ন করে দেশের বহু মাদ্রাসার ক্বেরাত বিভাগ পরিচালনা করছেন শত শত শিক্ষক। বর্তমানে শুধুমাত্র ক্বেরাত বিভাগই নয়, এই মাদ্রাসায় হিফজুল কুরআন ও নুরানী বিভাগ রয়েছে। যার ফলে স্থানীয় বহু শিশু খুবই মনোরম পরিবেশে ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন।
এ বছর এই মাদ্রাসায় জেনারেল শিক্ষিতসহ বিভিন্ন বয়সী লোকজন রমজান মাস জুড়ে কুরআন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ২৫ রমজান দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কুরআন শিক্ষার প্রশিক্ষণ সমাপ্তি হয়। আর এই দোয়ার অনুষ্ঠানে বহু ধর্মপ্রাণ মুসল্লী অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মাদ্রাসা মসজিদে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও এলাকার বহু মানুষ নামাজ আদায় করে। সদর দক্ষিণ অঞ্চলের লোকদের জন্য এই মাদ্রাসা একটি ধর্মীয় কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
মাদ্রাসার পাশের চাপিলা গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ খান বলেন, এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হওয়ার কারণে আশপাশের কয়েক গ্রামের মসজিদে প্রশিক্ষিত ইমাম এবং মক্তবগুলোতে শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে নামাজ আদায় ও কুরআন শিক্ষায় সুফল পাচ্ছে এলাকাবাসী। আর এই ধারাবাহিকতা যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি।
একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা হয় মাদ্রাসার পাঠদান সম্পর্কে। তারা জানান, মাদ্রাসায় আবাসিক ও অনাবাসিক পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অত্যন্ত দক্ষ হাফেজদের তত্ত্বাবধানে হিফজ বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে। এ বছর মাদ্রাসার হিফজ সম্পন্ন করা হাফেজ মুহাম্মদ জুবায়ের হোসেন, আবু সাঈদ, মো. শামছুদ্দিন ও আশরাফ আলী মাদ্রাসা মসজিদে খতমে তারাবি পড়িয়েছেন।
মাদ্রাসার বর্তমান মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মো. আশরাফ আলী খান বলেন, এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে সহীহ ও শুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষার পদ্ধতি চলমান। পূর্ব পুরুষদের সেই ধারাবাহিকতা তিনিও অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে রমজান মাসে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন এই মাদ্রাসায় এসে আবাসিক এবং লজিং থেকে কুরআন শিক্ষা গ্রহন করছেন। আর এই ব্যবস্থাপনায় বহু বছর স্থানীয় কয়েক গ্রামের লোকজন সহযোগিতা করে আসছেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসায় ক্বেরাত বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগ অত্যান্ত সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে। হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত বেশ কয়েকবছর মাদ্রাসা মসজিদে খতমে তারাবি পড়াচ্ছেন। এছাড়াও যুগ যুগ ধরে এখানে কোন প্রকার বিনিময় ছাড়া হাফেজগণ তারাবি পড়াচ্ছেন। তিনি সকলের কাছে মাদ্রাসার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কুরআন শিক্ষার অনন্য প্রতিষ্ঠান চাঁদপুরের মুমিন বাড়ি মাদ্রাসা

আপডেট সময় :

মুসলিম পরিবারে নানা সীমাবদ্ধতায় ঐশিগ্রন্থ পবিত্র আল কুরআন সহিহ ও শুদ্ধভাবে পাঠ করতে না পারা লোকের সংখ্যাই বেশি। আর এই সংখ্যা কমিয়ে আনতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি কুরআন প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কুমুরুয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুমিন বাড়ি মাদ্রাসা। শতবছর পূর্বে এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠান করেন ক্বারী ইব্রাহীম খান (রহ.)। তারই ধারাবাহিকতায় এখনো প্রতি রমজান মাসে এই মাদ্রাসা বিভিন্ন বয়সী লোকজন কুরআন প্রশিক্ষণ গ্রহন করছেন।
সরেজমিন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানাগেছে।
মূলত এই মাদ্রাসার ক্বেরাত বিভাগের দেশ-বিদেশে সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ক্বেরাত বিভাগ সম্পন্ন করে দেশের বহু মাদ্রাসার ক্বেরাত বিভাগ পরিচালনা করছেন শত শত শিক্ষক। বর্তমানে শুধুমাত্র ক্বেরাত বিভাগই নয়, এই মাদ্রাসায় হিফজুল কুরআন ও নুরানী বিভাগ রয়েছে। যার ফলে স্থানীয় বহু শিশু খুবই মনোরম পরিবেশে ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন।
এ বছর এই মাদ্রাসায় জেনারেল শিক্ষিতসহ বিভিন্ন বয়সী লোকজন রমজান মাস জুড়ে কুরআন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ২৫ রমজান দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কুরআন শিক্ষার প্রশিক্ষণ সমাপ্তি হয়। আর এই দোয়ার অনুষ্ঠানে বহু ধর্মপ্রাণ মুসল্লী অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মাদ্রাসা মসজিদে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও এলাকার বহু মানুষ নামাজ আদায় করে। সদর দক্ষিণ অঞ্চলের লোকদের জন্য এই মাদ্রাসা একটি ধর্মীয় কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
মাদ্রাসার পাশের চাপিলা গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ খান বলেন, এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হওয়ার কারণে আশপাশের কয়েক গ্রামের মসজিদে প্রশিক্ষিত ইমাম এবং মক্তবগুলোতে শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে নামাজ আদায় ও কুরআন শিক্ষায় সুফল পাচ্ছে এলাকাবাসী। আর এই ধারাবাহিকতা যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি।
একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা হয় মাদ্রাসার পাঠদান সম্পর্কে। তারা জানান, মাদ্রাসায় আবাসিক ও অনাবাসিক পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অত্যন্ত দক্ষ হাফেজদের তত্ত্বাবধানে হিফজ বিভাগ পরিচালিত হচ্ছে। এ বছর মাদ্রাসার হিফজ সম্পন্ন করা হাফেজ মুহাম্মদ জুবায়ের হোসেন, আবু সাঈদ, মো. শামছুদ্দিন ও আশরাফ আলী মাদ্রাসা মসজিদে খতমে তারাবি পড়িয়েছেন।
মাদ্রাসার বর্তমান মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মো. আশরাফ আলী খান বলেন, এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে সহীহ ও শুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষার পদ্ধতি চলমান। পূর্ব পুরুষদের সেই ধারাবাহিকতা তিনিও অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে রমজান মাসে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন এই মাদ্রাসায় এসে আবাসিক এবং লজিং থেকে কুরআন শিক্ষা গ্রহন করছেন। আর এই ব্যবস্থাপনায় বহু বছর স্থানীয় কয়েক গ্রামের লোকজন সহযোগিতা করে আসছেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে মাদ্রাসায় ক্বেরাত বিভাগের পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগ অত্যান্ত সুনামের সাথে পরিচালিত হচ্ছে। হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত বেশ কয়েকবছর মাদ্রাসা মসজিদে খতমে তারাবি পড়াচ্ছেন। এছাড়াও যুগ যুগ ধরে এখানে কোন প্রকার বিনিময় ছাড়া হাফেজগণ তারাবি পড়াচ্ছেন। তিনি সকলের কাছে মাদ্রাসার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।