সংবাদ শিরোনাম ::
জলঢাকায় গাছ কেটে জমি দখলের অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০২:০৯:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
নীলফামারী জলঢাকার শৌলমারী ইউনিয়নের চরভরট এলাকায় এক অসহায় ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক গাছ কেটে জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে আব্দুল মজিদ ওরফে কালা মজিদের বিরুদ্ধে। গত ১৭ মার্চ সকাল ১০টায় ওই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দলীয় প্রভাব ও পেশিশক্তির বলে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে চরভরট এলাকার অসহায় মানুষদের জমি জবরদখলেরও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। গোপালঝাড় চরভরট এলাকার নরুল হকের ছেলে রিয়াজুল ইসলামের লাগানো তিনটি ইউক্লিভটার গাছ দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভয় ভীতি দেখিয়ে কেটে নিজ বাড়িতে নেয় আব্দুল মজিদ। এঘটনায় জলঢাকা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন করেন রিয়াজুল ইসলাম। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ভূমিদস্যু নামে খ্যাত মৃত মোঃ আলীর ছেলে আব্দুল মজিদ ওরফে কালা মজিদ। তার ভয়ে ওই এলাকায় পুলিশ যেতেও ভয় পান বলে জানান অভিযোগকারীসহ এলাকাবাসী।
সরেজমিন ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মজিদ ও তাঁর ছেলেরা মিলে এলাকার সাধারণ মানুষদের বিভিন্ন ভয়-ভীতিসহ ফিল্মি কায়দায় জিম্মি করে তার বাড়ির আশপাশের জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা করেন। বাপ-ছেলেদের এই কর্মকান্ডে অনেকে হয়েছেন গ্রামছাড়া, তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পায়না, মামলা করলে হয় ঝামেলা। ভূয়া কাগজ তৈরি করে জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা করেন, অসহায় হয়ে অনেকে আবার দলিল করে দিলেও পায়না ন্যায্য মূল্য।
তার এসব কর্মকাণ্ডের সহযোগিতা করে তারেই ছেলে সাফিউল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, মোনাবেরুল ইসলাম, আল-আমিন, বেলাল হোসেন এবং স্ত্রী গোলাপী বেগম সহ আবেদা বেগম ও দুলালী বেগম। অনুরুপ কায়দায় এরা পরিকল্পিত ভাবে রিয়াজুল ইসলামের জমি বেদখল দেয়, গাছ কেটে নিজ বাড়িতে নেয়। গাছ কর্তন ও জমি দখলের অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী রিয়াজুল। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মজিদ ও তার ছেলেরা কুখ্যাত সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু ও চুরি ডাকাতের মত অপরাধের সাথে সরাসরি জরিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন মূখ খুলতে ভয় পায়। এমনকী তাদের নির্যাতন অত্যাচারে এলাকার অনেক মানুষ সহায় সম্ভল হারিয়ে এখন প্রায় নিঃস্ব। আব্দুল মজিদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা নানান অভিযোগ করে বলেন, কালা মজিদ সুবিধাবাদী লোক। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে,তখন সে সেদলের লোক। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে জলঢাকা উপজেলার এক নেতার প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষদের মানসিক চাপে ফেলে কয়েক একর জমি দখলে নেয়। এখন আবার বিএনপির নেতাদের সাথে রাতে-অন্ধকারে যোগাযোগ করে হয়ে যায় ওয়ার্ড বিএনপির নেতা। এজন্য দলের প্রভাব খাটিয়ে এবং পেশি শক্তির বলে মানুষের জমি জবরদখল এবং সাধারন মানুষদের জিম্মি করে জমি লিখে নেওয়া সহ হাজারো অভিযোগ কালা মজিদের বিরুদ্ধে ।
ভুক্তভোগী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আব্দুল মজিদ ওরফে কালা মজিদ একজন দুষ্ট প্রকৃতির মানুষ ও শীর্ষ ভূমিদস্যু হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ তার বিরুদ্ধে দাড়াতে পারে না। বিগত ৪০ বছর পূর্বে কালা মজিদ শূন্য হাতে হাতিবান্ধা এলাকা হতে জলঢাকার চরভরট এলাকায় ভূমিহীন হয়ে অবস্থান নেন। ভূমিহীন হয়ে আস্তানা পেয়ে শুরু করে দেন তার ভূমিদস্যুর কারিশমা। সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক জমি জবরদখল করে এবং লিখে নিয়ে এখন তিনি প্রায় ২১ একর জমির মালিক। কালা মজিদ ও তার ৬ ছেলের ভূমিদস্যুতার দাপটে জমি জবরদখলসহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সাবেক সেনা সদস্য সহ অর্ধশতাধিক সাধারন মানুষ। কালা মজিদ তার ছেলে বাহিনী সাথে নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে কাগজপত্র ছাড়া সরকারি খাস খতিয়ানের জমিসহ প্রায় ৫ একর জমি জোরপূর্বক জবরদখল করে রেখেছেন। এগুলো জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
অভিযোগ স্বীকার করে আব্দুল মজিদ বলেন, আমি তো এই এলাকার নওদা। আমার বাড়ি তো হাতিবান্ধা লালমনিতে। কি ভাবে হয় হউক? জমি নিয়েছি। এখন আমার জমির পরিমান ২৭ একর জমির মধ্যে ৪ ভাগের ৩ ভাগ জমিই আমার। আমি রিয়াজুলের গাছ কেটে নিয়ে গেছি সত্য। সে আমাকে সহজে কথা বললে গাছ দিতাম, এখন আর দিবো না। গাছ দিবো না, এতে কত লাখ টাকা খরচ হয়, হবে। এখানে পুলিশ পর্যন্ত এসে আমার কাছে মাইর খেয়ে গেছে।
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন, আব্দুল মজিদ দুষ্ট প্রকৃতির লোক। ওনার সম্পর্কে আমার বলার কিছুই নেই, আপনারা সাংবাদিক এলাকা ঘুরে দেখেন, এলাকার লোকজন কি বলে। তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে আমার দাবি সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।
এব্যাপারে জলঢাকা থানার এএসআই ফিরোজের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।