ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঝিনাইদহে সংরক্ষিত নারী আসনে তহুরা  খাতুনকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা Logo নওগাঁর ঠাকুরমান্দার ২শ বছরের পূরনো রাজখাড়া দেবত্তোর ষ্টেটের শ্রী শ্রী জয় কালি মাতা মন্দির ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের পরিদর্শন Logo সদর মডেল থানা ও রামু থানায় ১৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo এপেক্স বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন নুরুল আমিন চৌধুরী Logo জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের জোর তৎপরতা, সচেতনতার আহ্বান Logo ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্যের ডাক দিলেন তানিয়া রব Logo মানিকগঞ্জে পেটে লাথি মেরে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ Logo তারাকান্দায় বসতবাড়ি সংলগ্ন মাটি খনন করায় বসতবাড়ি ধসে যাওয়ার শঙ্কা Logo বলাৎকারের খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের মামলা Logo তারাকান্দায় ফখরুদ্দিন হত্যার জেরে ধরে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

ঝিনাইদহে সংরক্ষিত নারী আসনে তহুরা  খাতুনকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা

নজরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-
  • আপডেট সময় : ৫৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝিনাইদহের রাজনীতিতে ত্যাগ, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত তহুরা খাতুন এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই নেত্রীকে ঘিরে দলীয় তৃণমূলের মধ্যে উদ্দীপনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তহুরা খাতুন নিজেকে একজন আপসহীন ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ বছরে তিনি রাজনৈতিক হয়রানি ও একাধিক গায়েবী মামলার শিকার হয়ে বছরের পর বছর আদালত প্রাঙ্গণে ঘুরেছেন। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন তিনি।

১৯৯৮ সালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী হিসেবে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন তহুরা খাতুন। এরপর ধাপে ধাপে সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাড়া-মহল্লায় নারী কর্মীদের সংগঠিত করে তিনি ঝিনাইদহে মহিলা দলকে একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছেন।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলছেন, তহুরা খাতুনের নেতৃত্বে মহিলা দল শুধু সাংগঠনিকভাবেই শক্তিশালী হয়নি, বরং রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেও দৃশ্যমান ভূমিকা রেখেছে। ঝিনাইদহ পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শামিমা সুলতানা ইতি বলেন, “ঝিনাইদহে যেহেতু একটি আসনে সরকারি দলের এমপি রয়েছেন এবং বাকি আসনগুলোতে বিরোধীদলের প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেখানে সংরক্ষিত নারী আসনে তহুরা খাতুনকে মনোনয়ন দিলে দল যেমন আরও সুসংগঠিত হবে, তেমনি এলাকার উন্নয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।”

হরিনাকুন্ডু উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা খাতুন বলেন, “তহুরা খাতুন একজন পরীক্ষিত ও নিবেদিত নেতা। তার নেতৃত্বে জেলায় মহিলা দল শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে। তাকে মনোনয়ন দিলে তা হবে তৃণমূলের মূল্যায়ন।”

মহিলাদলের কোটচাঁদপুরের নেত্রী নাসিমা খাতুন বলেন, “জেলায় তহুরা খাতুনের বিকল্প কোনো শক্তিশালী নারী নেতৃত্ব এখনো গড়ে ওঠেনি। তিনি রাজপথে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, মিথ্যা মামলায় জর্জরিত থেকেও দল ছাড়েননি—এখন তাকে মূল্যায়নের সময়।”

মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নার্গিস সুলতানা দীপা বলেন, “দলের দুঃসময়ে তহুরা খাতুনই মহিলা দলের হাল ধরেছিলেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তিনি তার জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন।”

ব্যক্তিগত জীবনে তহুরা খাতুন একজন পরিবারের অভিভাবকও বটে। তিনি স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন, যিনি নিজেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

ঝিনাইদহ সদর থানা মহিলাদলের আহবায়ক আনোয়ারা বেগম ও শৈলকুপার নেত্রী রোখসানা আক্তার পুল জানান, আসন্ন সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হলে তহুরা খাতুন অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হবেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, তাকে মনোনয়ন দিলে এমপি-বিহীন ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলা সাংগঠনিকভাবে আরও গতিশীল হবে এবং নারী নেতৃত্বের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা জানান, আমি চাই দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে যারা মাঠে ছিলেন তারাই সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হোক। এই পদে যাতে কোন ভুইফোড় বা উড়ে এসে জুরে বসা লোক না বসে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি নেত্রী তহুরা খাতুন, লিজি বেগম ও আনজু রাজপথে থেকে মহিলাদলকে শক্তিশালী করেছেন। দলে তাদের গুরুত্বপুর্ন অবদান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঝিনাইদহে সংরক্ষিত নারী আসনে তহুরা  খাতুনকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা

আপডেট সময় :

ঝিনাইদহের রাজনীতিতে ত্যাগ, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত তহুরা খাতুন এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই নেত্রীকে ঘিরে দলীয় তৃণমূলের মধ্যে উদ্দীপনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তহুরা খাতুন নিজেকে একজন আপসহীন ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ বছরে তিনি রাজনৈতিক হয়রানি ও একাধিক গায়েবী মামলার শিকার হয়ে বছরের পর বছর আদালত প্রাঙ্গণে ঘুরেছেন। তবে সব বাধা উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন তিনি।

১৯৯৮ সালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী হিসেবে রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন তহুরা খাতুন। এরপর ধাপে ধাপে সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাড়া-মহল্লায় নারী কর্মীদের সংগঠিত করে তিনি ঝিনাইদহে মহিলা দলকে একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছেন।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলছেন, তহুরা খাতুনের নেতৃত্বে মহিলা দল শুধু সাংগঠনিকভাবেই শক্তিশালী হয়নি, বরং রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেও দৃশ্যমান ভূমিকা রেখেছে। ঝিনাইদহ পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শামিমা সুলতানা ইতি বলেন, “ঝিনাইদহে যেহেতু একটি আসনে সরকারি দলের এমপি রয়েছেন এবং বাকি আসনগুলোতে বিরোধীদলের প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেখানে সংরক্ষিত নারী আসনে তহুরা খাতুনকে মনোনয়ন দিলে দল যেমন আরও সুসংগঠিত হবে, তেমনি এলাকার উন্নয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।”

হরিনাকুন্ডু উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা খাতুন বলেন, “তহুরা খাতুন একজন পরীক্ষিত ও নিবেদিত নেতা। তার নেতৃত্বে জেলায় মহিলা দল শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে। তাকে মনোনয়ন দিলে তা হবে তৃণমূলের মূল্যায়ন।”

মহিলাদলের কোটচাঁদপুরের নেত্রী নাসিমা খাতুন বলেন, “জেলায় তহুরা খাতুনের বিকল্প কোনো শক্তিশালী নারী নেতৃত্ব এখনো গড়ে ওঠেনি। তিনি রাজপথে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, মিথ্যা মামলায় জর্জরিত থেকেও দল ছাড়েননি—এখন তাকে মূল্যায়নের সময়।”

মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নার্গিস সুলতানা দীপা বলেন, “দলের দুঃসময়ে তহুরা খাতুনই মহিলা দলের হাল ধরেছিলেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তিনি তার জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন।”

ব্যক্তিগত জীবনে তহুরা খাতুন একজন পরিবারের অভিভাবকও বটে। তিনি স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন, যিনি নিজেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

ঝিনাইদহ সদর থানা মহিলাদলের আহবায়ক আনোয়ারা বেগম ও শৈলকুপার নেত্রী রোখসানা আক্তার পুল জানান, আসন্ন সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হলে তহুরা খাতুন অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হবেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, তাকে মনোনয়ন দিলে এমপি-বিহীন ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলা সাংগঠনিকভাবে আরও গতিশীল হবে এবং নারী নেতৃত্বের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা জানান, আমি চাই দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে যারা মাঠে ছিলেন তারাই সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হোক। এই পদে যাতে কোন ভুইফোড় বা উড়ে এসে জুরে বসা লোক না বসে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি নেত্রী তহুরা খাতুন, লিজি বেগম ও আনজু রাজপথে থেকে মহিলাদলকে শক্তিশালী করেছেন। দলে তাদের গুরুত্বপুর্ন অবদান রয়েছে।