তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত মঞ্চ
- আপডেট সময় : ৩১৭ বার পড়া হয়েছে
তারেক রহমানের দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেয়া হয়েছে সব ধরনের ব্যবস্থা। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, দল থেকে তারেক রহমানের নিরাপত্তার সব প্রস্তুতি নিলেও দুশ্চিন্তার জায়গা রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারে ভূমিকাকে মুখ্য মনে করছেন তারা। আর এসব বিবেচনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নিরাপত্তায় কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা নেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমাাকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে রাজধানী। বিএনপির উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা তাদের শীর্ষ নেতাকে বরণ করে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নেতাকর্মীরা নগরীর প্রধান সড়ক, অলি-গলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঝুলিয়েছেন ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও বিলবোর্ড। এতে বড় অক্ষরে লেখা- ‘লিডার আসছে’, ‘হে বিজয়ী বীর, তোমাকে স্বাগত’ ইত্যাদি স্লোগান।
তারেক রহমান নিজেই দেশে ফেরার ঘোষণা দেয়ার মধ্যে দিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেলো ২৫ ডিসেম্বরে ফিরছেন তিনি। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয় সেদিন বেলা ১২টা নাগাদ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের যেটা নিয়মিত ফ্লাইট সেটাতেই তিনি আসছেন। এটার ল্যান্ডিং টাইম ১১টা ৫৫ মিনিট বাংলাদেশ বিমানবন্দরে।
দেশে ফিরে গুলশানের ১৯৬ নম্বরের এ বাড়িতেই উঠবেন তারেক রহমান, যা ইতিমধ্যে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। নিশ্চিত করা হয়েছে শতভাগ নিরাপত্তা। বাড়ির পুরো আঙ্গিনা ও সড়কেও বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, দেয়াল জুড়ে তারকাঁটা ও নিরাপত্তা রক্ষীদের কঠোর পাহাড়া।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফিরে ৩০০ ফিট এলাকায় খোলা মঞ্চে সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে। এ অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচলমুখী ৩০০ ফিট সড়কের একটি অংশ বন্ধ করে মঞ্চ তৈরি করা হয়।
বিএনপি নেতারা জানান, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের জন্য দেশবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় নেমে বনানী-কাকলী হয়ে ৩০০ ফিটে যাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সেখানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখবেন তিনি।
এ অপরদিকে তারেক রহমানের নিরাপত্তা বিষয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক জগলুল আহসান বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে আদর্শ, সে আদর্শকে ধারণ করে তিনি সামনে নিয়ে যাবেন। এ আদর্শকে ধারণ করতে গেলে বা সে অনুযায়ী কাজ করতে গেলে রিজিওনাল কোনো পাওয়ারের কোনো স্বার্থ আঘাত হানবে কী না এগুলো কিন্তু ভাবার অবকাশ রয়েছে। চায়না, ইউএসএ এবং ইন্ডিয়া তারা ইন্ডিয়া স্টেটস পাওয়ারে জড়িত যেখানে বাংলাদেশে একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। সেখানে নিয়ন্ত্রণ রাখতে তারা নিজেদের একটা সরকার রাখার চেষ্টা সবসময় করবে।
তবে সম্প্রতি ওসমান হাদির ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ভূমিকাই সবচেয়ে মুখ্য বলে মনে করেন এ বিশ্লেষক। এছাড়াও তারেক রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জোরদারে কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা নেয়ার পরামর্শ তার।
কর্নেল মো. জগলুল আহসান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এসএসএফের প্রটোকল দেয়া হয়েছে। সেভাবে রাষ্ট্র চিন্তা করলে তাকেও সেরকম এসএসএফ বা সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা প্রটোকল দেয়া যেতে পারে। কিছু ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটির বিষয় থাকে, কিছু ইন্টারনাল সিকিউরিটির ব্যাপার থাকে, অর্গানাইজেশন থাকে সেগুলোর মাধ্যমে কিন্তু ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। সবভাবে আপনাকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতার পালাবদলের রাজনীতি যখন দৃশ্যমান, সর্বত্র দেশের নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক প্রশ্ন, সেসময় বিএনপির প্রধান নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত কতটা সম্ভব সে প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে।
অপরদিকে তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরা এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢাকায় যাতায়াতের উদ্দেশে বিশেষ ট্রেন ১০টি রুটে স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করার পাশাপাশি নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হচ্ছে। এ কারণে স্বল্প দূরত্বের রাজবাড়ী কমিউটার (রাজবাড়ী-পোড়াদহ), ঢালারচর এক্সপ্রেস (পাবনা-রাজশাহী) এবং রোহনপুর কমিউটার (রোহনপুর-রাজশাহী) ট্রেনের ২৫ ডিসেম্বরের যাত্রা স্থগিত রাখা হচ্ছে। এসব ট্রেনের এক দিনের যাত্রা স্থগিত করায় ওই রুটগুলোর যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার কারণে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে চাহিদার ভিত্তিতে কক্সবাজার-ঢাকা-কক্সবাজার, জামালপুর-ময়মনসিংহ-ঢাকা-জামালপুর,টাঙ্গাইল-ঢাকা-টাঙ্গাইল,ভৈরববাজার-নরসিংদী-ঢাকা-নরসিংদী-ভৈরববাজার, জয়দেবপুর-ঢাকা, ক্যান্টনমেন্ট-জয়দেবপুর (গাজীপুর), পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড়, খুলনা-ঢাকা-খুলনা, চাটমোহর-ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট-চাটমোহর, রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী এবং যশোর-ঢাকা-যশোর রুটে স্পেশাল ট্রেন পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত চলাচলকারী একাধিক ট্রেনে চাহিদার ভিত্তিতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হচ্ছে।
প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়বেন বগুড়া-৬ আসন থেকে। তার আগমন উপলক্ষে উচ্ছ্বসিত বগুড়ার নেতাকর্মীরা। সাজানো হয়েছে বগুড়া শহরের রিয়াজ কাজী লেনের ‘গ্রিন এস্টেট’ বাড়ি।
এদিকে দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমান দেশে ফিরছেন। তার ফেরাকে কেন্দ্র করে সারাদেশের মতো উচ্ছ্বসিত বগুড়াবাসীও। দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতার আগমন ঘিরে বগুড়ায় চলছে নানা আয়োজন। এরই মধ্যে বগুড়া শহরের রিয়াজ কাজী লেনের গ্রিন এস্টেট বাড়িটি নতুন সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বাড়িটি ২০০০ সালে সংস্কার করে ‘গ্রিন এস্টেট’ হিসেবে গড়ে তোলেন তারেক রহমান।
পরবর্তীতে ২০০১-২০০৭ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনার জন্য মাঝে মধ্যেই বাড়িটিতে অবস্থান করতেন তিনি। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, নির্বাচনি প্রচার চালাতে এবং নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিতে এবারও হয়তো এ বাড়িতিই অবস্থান করবেন তিনি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ার গাবতলী, যে আসন থেকে নির্বাচন করবেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং বগুড়া সদর-৬ আসন থেকে নির্বাচন করবেন তারেক রহমান। তাই নির্বাচনি প্রস্তুতিতে ব্যস্ত স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সাবেক সংসদ সদস্য ও বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির নির্বাচনি সমন্বয়ক হেলালুজ্জামান লালু জানান, নির্বাচনের আগে তারেক রহমান বগুড়ায় আসবেন। সে কারণে বাড়িটি সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ওনার আগমনের খবর পাওয়া মাত্রই, আমরা এটার ধোয়া-মোছার কাজ শুরু করেছি। কারণ এটাতো ওনার বাসা। উনি এখানে কতক্ষণ থাকবেন, কত ঘণ্টা থাকবেন, তা জানি না। তবে উনি এখানে আসবেনই। উনি এখানে আসবেন, নির্বাচন করবেন, এখানেই থাকবেন।
২০০১ সালে তারেক রহমান বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন বগুড়ার গাবতলী থেকে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ‘ওয়ান ইলেভেন’ সরকারের সময় তারেক রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই লন্ডনে অবস্থান করছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তাকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত বগুড়াবাসী।



















