ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

পাথরঘাটায় ৪ কোটির প্রকল্পে মাত্র ১০ লাখ টাকার কাজ!

মো. ফিরোজ হোসেন, পাথরঘাটা (বরগুনা)
  • আপডেট সময় : ২০০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরগুনার পাথরঘাটায় সরকারের কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ৪ কোটির বেশি টাকায় প্রকৃতপক্ষে মাত্র ১০ লাখ টাকার কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে কাগজে-কলমে উন্নয়ন দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ এটি একটি পরিকল্পিত লুটপাট।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাথরঘাটা উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ১৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৪ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এসব প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজই বাস্তবায়িত হয়নি। অনুমানিকভাবে ৪০-৫০ লাখ টাকার কাজ দৃশ্যমান হলেও প্রকৃতপক্ষে এর চেয়ে অনেক কম, প্রায় ১০ লাখ টাকার কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ও খাদ্যশস্য থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট রাস্তাগুলোর কোনো সংস্কার হয়নি। একাধিক প্রকল্পে এক ব্যক্তির সভাপতির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সরকারি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সগীর আলম ৯টি প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছেন যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড টাঙানোর কথা থাকলেও কোথাও সেগুলোর অস্তিত্ব নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে ওইসব এলাকায় কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি।
মাছেরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানী অধিকারী জানান, বিদ্যালয় ভবনের উন্নয়নে ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে মাত্র এক জাহাজ বালু ফেলেছে স্থানীয় সদস্য। এর বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
এমন অনিয়ম প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্যসহকারী মো. স্বপন বলেন, সব কাজ পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) করেছেন, আমি কিছু জানি না।
অন্যদিকে সাবেক ইউপি সদস্য শাহিন মোল্লা বলেন, ইউএনও বরাবর অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমন লুটপাট এর আগে দেখিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান সগীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সব কাজ ঠিকভাবে হয়েছে। একাধিক প্রকল্পে নাম থাকা নিয়ে সমস্যা নেই, উন্নয়নের স্বার্থে এমনটা করেছি।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রুনু বেগম অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য না করে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে তার কার্যালয় ত্যাগ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, যেসব প্রকল্পের কাজ হয়নি, সেসব বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টাকা আত্মসাৎ হলে তা ফেরতের আইনগত বিধান রয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, এই দুর্নীতি নজিরবিহীন। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও পিআইও অফিস যথাযথ তদারকি করেনি। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাই।
স্থানীয়রা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর শাস্তি ও প্রকল্পের অর্থ ফিরিয়ে আনার দাবিতে সরব হয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাথরঘাটায় ৪ কোটির প্রকল্পে মাত্র ১০ লাখ টাকার কাজ!

আপডেট সময় :

বরগুনার পাথরঘাটায় সরকারের কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে বরাদ্দকৃত ৪ কোটির বেশি টাকায় প্রকৃতপক্ষে মাত্র ১০ লাখ টাকার কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে কাগজে-কলমে উন্নয়ন দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ এটি একটি পরিকল্পিত লুটপাট।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাথরঘাটা উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ১৫০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৪ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এসব প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজই বাস্তবায়িত হয়নি। অনুমানিকভাবে ৪০-৫০ লাখ টাকার কাজ দৃশ্যমান হলেও প্রকৃতপক্ষে এর চেয়ে অনেক কম, প্রায় ১০ লাখ টাকার কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা গেছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ও খাদ্যশস্য থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট রাস্তাগুলোর কোনো সংস্কার হয়নি। একাধিক প্রকল্পে এক ব্যক্তির সভাপতির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সরকারি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সগীর আলম ৯টি প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করেছেন যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড টাঙানোর কথা থাকলেও কোথাও সেগুলোর অস্তিত্ব নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে ওইসব এলাকায় কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি।
মাছেরখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানী অধিকারী জানান, বিদ্যালয় ভবনের উন্নয়নে ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে মাত্র এক জাহাজ বালু ফেলেছে স্থানীয় সদস্য। এর বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
এমন অনিয়ম প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কার্যসহকারী মো. স্বপন বলেন, সব কাজ পিআইও (প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) করেছেন, আমি কিছু জানি না।
অন্যদিকে সাবেক ইউপি সদস্য শাহিন মোল্লা বলেন, ইউএনও বরাবর অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমন লুটপাট এর আগে দেখিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান সগীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সব কাজ ঠিকভাবে হয়েছে। একাধিক প্রকল্পে নাম থাকা নিয়ে সমস্যা নেই, উন্নয়নের স্বার্থে এমনটা করেছি।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রুনু বেগম অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য না করে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে তার কার্যালয় ত্যাগ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, যেসব প্রকল্পের কাজ হয়নি, সেসব বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টাকা আত্মসাৎ হলে তা ফেরতের আইনগত বিধান রয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, এই দুর্নীতি নজিরবিহীন। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও পিআইও অফিস যথাযথ তদারকি করেনি। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাই।
স্থানীয়রা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর শাস্তি ও প্রকল্পের অর্থ ফিরিয়ে আনার দাবিতে সরব হয়েছেন।