ঢাকা ০৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

বাগেরহাটে সবজির দাম এক সপ্তাহে দ্বিগুণ, নাভিশ্বাস ক্রেতাদের

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৩১ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগেরহাটের কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। বিশেষ করে করল্লা, উস্তে, বেগুন, পটলের ও মিস্টি কুমার দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ছুটির দিন হওয়ায় বাজারে ক্রেতার চাপ বাড়লেও সরবরাহ কম থাকায় মূল্যবৃদ্ধি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি উস্তে, বেগুন ও পটল ৪০–৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৮০–১০০ টাকায় উঠেছে। একইভাবে লাউ, টমেটো, ঢেঁড়শ, শসা ও গাজরসহ অন্যান্য সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০–২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারের খুচরা বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। আগের মতো সবজি আসছে না। আমরা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি, তাই খুচরায় দাম বাড়াতে হচ্ছে।
আরেক বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে সরবরাহ কমে গেছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে। মৌসুমি সবজির উৎপাদন কম থাকায় বাজারে প্রভাব পড়েছে।
শহরের নাগেরবাজার এলাকায় সবজি কিনতে আসা ক্রেতা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে সবজির দাম এভাবে বেড়ে যাবে ভাবিনি। এখন এক কেজির বদলে আধা কেজি করে কিনতে হচ্ছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
গৃহিণী সালমা বেগম বলেন, সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় রান্নার তালিকা বদলাতে হচ্ছে। বাজারে তদারকি না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
তবে সবজির বাজারে অস্থিরতা থাকলেও মাছ, মাংস ও মুদি পণ্যের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বিক্রেতারা জানান, মাছ ও মাংসের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। মুদি দোকানগুলোতেও চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সবজির দামও কমে আসতে পারে। এদিকে সাধারণ মানুষ বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাগেরহাটে সবজির দাম এক সপ্তাহে দ্বিগুণ, নাভিশ্বাস ক্রেতাদের

আপডেট সময় :

বাগেরহাটের কাঁচাবাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। বিশেষ করে করল্লা, উস্তে, বেগুন, পটলের ও মিস্টি কুমার দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ছুটির দিন হওয়ায় বাজারে ক্রেতার চাপ বাড়লেও সরবরাহ কম থাকায় মূল্যবৃদ্ধি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি উস্তে, বেগুন ও পটল ৪০–৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৮০–১০০ টাকায় উঠেছে। একইভাবে লাউ, টমেটো, ঢেঁড়শ, শসা ও গাজরসহ অন্যান্য সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০–২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারের খুচরা বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, পাইকারি বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। আগের মতো সবজি আসছে না। আমরা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছি, তাই খুচরায় দাম বাড়াতে হচ্ছে।
আরেক বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে সরবরাহ কমে গেছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে। মৌসুমি সবজির উৎপাদন কম থাকায় বাজারে প্রভাব পড়েছে।
শহরের নাগেরবাজার এলাকায় সবজি কিনতে আসা ক্রেতা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে সবজির দাম এভাবে বেড়ে যাবে ভাবিনি। এখন এক কেজির বদলে আধা কেজি করে কিনতে হচ্ছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
গৃহিণী সালমা বেগম বলেন, সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় রান্নার তালিকা বদলাতে হচ্ছে। বাজারে তদারকি না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
তবে সবজির বাজারে অস্থিরতা থাকলেও মাছ, মাংস ও মুদি পণ্যের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বিক্রেতারা জানান, মাছ ও মাংসের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। মুদি দোকানগুলোতেও চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সবজির দামও কমে আসতে পারে। এদিকে সাধারণ মানুষ বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।