বাগেরহাট পতাকা উত্তোলন দিবস ও পতাকার সারথী বীর মুক্তিযোদ্ধা ভন্টু মিয়া
- আপডেট সময় : ৩৯ বার পড়া হয়েছে
১৯৭১ সালে বাগেরহাটের আকাশে প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে স্বাধীনতার জানান দেয় যারা তাদের ভেতর বাগেরহাটের অন্যতম নামটি ছিল ভন্টু মিয়া ।
১৯৭১ সালের ১ মার্চ যখন যুদ্ধ অবশ্যম্ভ্যাবী হয়েই গনগনে উত্তাল হয়ে ওঠে সারাদেশ তথা বাঙালী জাতী — বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নির্দেশে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ে নেতাকর্মীরা ১ মার্চ মধ্যরাতে । রাজপথ থেকে মেঠোপথের জনগনও আম জনতা সকলেই জেগে ওঠে শরীর ঝাড়া দিয়ে একটি স্বাধীন ভু-খনৃড পেয়ে নিজেদের মত করে বাঁচার আশায় । মুক্তি পাগল মানুষের উদ্দীপৃত চেতনায় একযোগে ঢাকা সহ সারাদেশে শুরু হয় আন্দোলন বাড়তে থাকে আন্দোলনের তীব্রতা । তারই সুত্র ধরে বাগেরহাটের নেতাকর্মীরাও সজাগ হয় , জ্বলে ওঠে । রাজনৈতিক অঙ্গনে সাধারণ মানুষের কাছে বাগেরহাটের ভাসানী খ্যাত এবং বঙ্গবন্ধুর দেওয়া বাগেরহাটের মাওলানা উপাধিতে ভূষিত বাগেরহাটের সৈয়দ আবুল মনসুর আহমেদ শফিক ওরফে ভন্টু মিয়া ও শান্ত থাকতে পারলেন না , তিনিও ঢাকার রাজপথ অবরোধ সংগ্রামে যোগ দেন এবং প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন বাগেরহাটের আওয়ামিলীগ নেতা যিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন ভন্টু মিয়া তার বাসায় চলে যান , প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন যিনি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলার ২ নং আসামীও ছিলেন । প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেবের ঢাকাস্থ বাসা হতে তারই নির্দেশে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত নক্সার নমুনা সংগ্রহ করে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকার সেই নক্সা এবং নিজ উদ্যোগে লাল সবুজ কাপড় কিনে বুকে বেঁধে নিয়ে সদর ঘাট হতে লঞ্চ যোগে বাগেরহাট এসে পৌঁছান । ঐ সময় ঐ কাপড় ঢাকা হতে কিনতে হওয়ার পায়ে হেটে সদরঘাট আসেন বাংলা মায়ের অকুতোভয় দুঃসাহসী সন্তান সেই উদ্দীপ্ত দেশপ্রেমিক বাঙালী সন্তান ভন্টু মিয়া ।
২ মার্চ দুপুরে বাগেরহাট পৌঁছে সকলের সাথে যোগাযোগ করেন এবং বিকেল তিনটায় পিসি কলেজ মাঠে জড়ো করে, বিশাল এক মিছিল নিয়ে বিকেলে সালতলা সাধনার মোড় হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন নিজে নেতৃত্ব দিয়ে এবং তৎকালীন পি এম জির মাঠ যেটা বর্তমান স্বাধীনতা উদ্যানে সকলকে নিয়ে সেখানে জড়ো হন এবং সিদ্ধান্ত নেন ঐদিনই পতাকা উত্তোলন করা হবে ।
তারপর সেই ধারাবাহিকতায় অনানুষ্ঠানিক ভাবেই ২ মার্চ মধ্যরাত মানে রাত বারোটার কিছু আগে বাগেরহাট নজরুল ইসলাম রোডের আনছার দর্জিকে দিয়ে স্বাধীন বাংলার বাগেরহাটের প্রথম পতাকা তৈরী করান এবং ঠিক রাত বারোটায় তা উত্তোলন করেন সকলে মিলে । সেদিন হাজার হাজার জনতার উপস্থিতিতে পাকিস্তানি পতাকা নামিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন সকলে মিলে এবং স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ান । এস ডি ও বিল্ডিং এ পতাকাটি টানাতে সর্বকনিষ্ঠ কিশের চিত্তরঞ্জন মহোদয়কে নির্বাচন করা হয় এবং তাকে সহায়তা করেন আরেক অকুতোভয়ী কিশোর আব্দুল মান্নান পাঠান । মসাইদ ইব্রাহিম হোসেন , লতিফ খন্দকার , আনোয়ার সরদার , মানিক সাহা সহ অনেক সহযোদ্ধা ছিলেন তার যুদ্ধকালীন সকল কর্মের সাথে পাশাপাশি । পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ২৩ মার্চ স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন হয় বাগেরহাট শহরে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রে ।
শেখ আবদুর রহমান ( তৎকালীন সময়ের এম পি ) , ডাঃ আব্দুর রাজ্জাক, বারিক শিকদার , অশোক দেবনাথ , ঋষিকেশ দাস মোল্লা নজরুল ইসলাম , শেখ আঃ মান্নান , শেখ আঃ হান্নান, মান্নান পাঠান সহ অসংখ্য দেশপ্রেমিক লোকজনের উপস্থিত থাকলেও পতাকা উত্তোলন ও পাকিস্তানি পতাকায় অগ্নিসংযোগ এর কারণে এম পি শেখ আবদুর রহমান এর সাথে ভন্টু মিয়া ও আতাহার ডাক্তারের নামে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা ও হুলিয়া জারি হয় ।
ভন্টু মিয়া খুলনা জেলা কমিটির ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট আজিজ মিয়ার সভাপতিত্বে গঠিত কমিটির একজন ভোটার সদস্য ছিল এবং পরে বাগেরহাট থানা কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন ৷ ফাতেমা জিন্নাহর নির্বাচন সহ ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এর সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান প্রদান, মুক্তি যোদ্ধাদের খাবার, অস্ত্র ইত্যাদি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করতেন নিজ দায়িত্বে । পরবর্তীতে যুদ্ধকালীন সময় ভারত থেকে যে তথ্য আদানের সময় সাতক্ষীরা জেলার তালা নামক স্থানে পাক আর্মিদের হাতে ধরা পড়েন এবং যশোর জেলে অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হন । যুদ্ধের শেষ মুহুর্তে যশোর জেল ভেঙে ইন্ডিয়ান আর্মি যখন দখল করে তখন কারামুক্ত হয়ে ২ দিন যশোর সদর থানায় দায়িত্ব পালনও করেন তাদেট সাথে এবং একজন সাথী নিয়ে পায়ে হেঁটে খুলনা অভিনুখে রওয়ানা হয়ে ৬ দিনের মাথা খুলনার দৌলতপুরের কাছে ফুলতলা নামক স্থানে পৌঁছালে স্বাধীনতার ঘোষণা জানতে পারেন পুরোপুরি । লোক মারখত খবর পেয়ে সেখান থেকে তার পরিবার তাকে উদ্ধার করে ।



















