ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

বাবুরহাটে ঈদে আড়াই হাজার কোটি টাকার কাপড় বেচাকেনার সম্ভাবনা

নরসিংদী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বৃহত্তর পাইকারি কাপড়ের বাজার নরসিংদীর শেখেরচর-বাবুরহাট এখন উৎসবমুখর। দীর্ঘ কয়েক বছরের মন্দা ভাব কাটিয়ে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে এই হাটে শুরু হয়েছে কেনাকাটার মহোৎসব। রমজানের ১৫ দিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে হাটের প্রতিটি গলি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবারের ঈদে অতীতের সমস্ত লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখবেন তারা।
‘প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার’ খ্যাত এই হাটে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিস থেকে শুরু করে শার্ট-প্যান্টের পিস, পাঞ্জাবির কাপড়, বেডশিট ও পর্দার কাপড়ের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। স্থানীয় তাঁতপল্লি ও কারখানায় তৈরি কাপড়ের পাশাপাশি টাঙ্গাইলের শাড়ি, জামদানি ও কাতানের নতুন নতুন ডিজাইনে সেজেছে দোকানগুলো।
ব্যবসায়ীরা জানান, এবার কাপড়ের মান যেমন উন্নত, দামও রয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। কাজল ক্লথ স্টোরের মালিক কাজল সাহা বলেন, এবারের ঈদে বাহারি কালেকশন আনা হয়েছে। ক্রেতারা সেগুলো পছন্দ করছেন এবং বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে। একই সুরে ব্রাদার্স প্রিন্ট শাড়ির স্বত্বাধিকারী শামীম মোল্লা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের বেচাকেনা অনেক বেশি সন্তোষজনক।
লুঙ্গির জন্য বিখ্যাত এই হাটে বরাবরের মতো আধিপত্য ধরে রেখেছে আমানত শাহ গ্রুপ। গ্রুপের পরিচালক রেজওয়ান কবির শিহাব জানান, এবারের ঈদে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যের নিত্যনতুন ডিজাইনের লুঙ্গি বাজারে আনা হয়েছে, যা সারা দেশের ক্রেতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো হাট এলাকা ৬৪টি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ব্যবসায়ী নেতাদের তথ্যমতে সপ্তাহের বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার মার্কেট খোলা থাকবে। মার্কেটে পাইকারি দোকানের সংখ্যা রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। এ ছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবিকা বা কর্মসংস্থান এই হাটের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি হাটে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। পুরো ঈদ মৌসুমে লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা।
বাবুরহাট বণিক সমিতির সভাপতি বোরহান উদ্দিন জানান, দেশের মোট দেশি কাপড়ের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই পূরণ হয় এই হাট থেকে। নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের কয়েক লাখ তাঁতকলের ভাগ্য জড়িয়ে আছে এই বাজারের সঙ্গে। খুচরা পর্যায়ে বিক্রি পুরোদমে শুরু হলে আগামী কয়েক হাটে বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যাতায়াত সুবিধা এবং আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকায় দেশের দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীদের কাছে বাবুরহাট এখনো দেশি কাপড়ের প্রধান ভরসাস্থল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাবুরহাটে ঈদে আড়াই হাজার কোটি টাকার কাপড় বেচাকেনার সম্ভাবনা

আপডেট সময় :

দেশের বৃহত্তর পাইকারি কাপড়ের বাজার নরসিংদীর শেখেরচর-বাবুরহাট এখন উৎসবমুখর। দীর্ঘ কয়েক বছরের মন্দা ভাব কাটিয়ে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে এই হাটে শুরু হয়েছে কেনাকাটার মহোৎসব। রমজানের ১৫ দিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে হাটের প্রতিটি গলি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এবারের ঈদে অতীতের সমস্ত লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখবেন তারা।
‘প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার’ খ্যাত এই হাটে শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিস থেকে শুরু করে শার্ট-প্যান্টের পিস, পাঞ্জাবির কাপড়, বেডশিট ও পর্দার কাপড়ের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। স্থানীয় তাঁতপল্লি ও কারখানায় তৈরি কাপড়ের পাশাপাশি টাঙ্গাইলের শাড়ি, জামদানি ও কাতানের নতুন নতুন ডিজাইনে সেজেছে দোকানগুলো।
ব্যবসায়ীরা জানান, এবার কাপড়ের মান যেমন উন্নত, দামও রয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। কাজল ক্লথ স্টোরের মালিক কাজল সাহা বলেন, এবারের ঈদে বাহারি কালেকশন আনা হয়েছে। ক্রেতারা সেগুলো পছন্দ করছেন এবং বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে। একই সুরে ব্রাদার্স প্রিন্ট শাড়ির স্বত্বাধিকারী শামীম মোল্লা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের বেচাকেনা অনেক বেশি সন্তোষজনক।
লুঙ্গির জন্য বিখ্যাত এই হাটে বরাবরের মতো আধিপত্য ধরে রেখেছে আমানত শাহ গ্রুপ। গ্রুপের পরিচালক রেজওয়ান কবির শিহাব জানান, এবারের ঈদে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যের নিত্যনতুন ডিজাইনের লুঙ্গি বাজারে আনা হয়েছে, যা সারা দেশের ক্রেতাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো হাট এলাকা ৬৪টি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ব্যবসায়ী নেতাদের তথ্যমতে সপ্তাহের বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার মার্কেট খোলা থাকবে। মার্কেটে পাইকারি দোকানের সংখ্যা রয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। এ ছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবিকা বা কর্মসংস্থান এই হাটের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি হাটে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। পুরো ঈদ মৌসুমে লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা।
বাবুরহাট বণিক সমিতির সভাপতি বোরহান উদ্দিন জানান, দেশের মোট দেশি কাপড়ের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই পূরণ হয় এই হাট থেকে। নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের কয়েক লাখ তাঁতকলের ভাগ্য জড়িয়ে আছে এই বাজারের সঙ্গে। খুচরা পর্যায়ে বিক্রি পুরোদমে শুরু হলে আগামী কয়েক হাটে বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যাতায়াত সুবিধা এবং আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকায় দেশের দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীদের কাছে বাবুরহাট এখনো দেশি কাপড়ের প্রধান ভরসাস্থল।