বারহাট্টায় দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ৩৯ বার পড়া হয়েছে
নেত্রকোনার বারহাট্টার রায়পুর গ্রামে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে একই গ্রামের আবুল হাসেম ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে মন্দিরের সেবায়েত ওই গ্রামের কাঞ্চন দত্ত মজুমদার, দিপায়ন দত্ত মজুমদার ববি ও অর্নব দত্ত মজুমদার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারীরা বিষয়টি নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের জানান।
অভিযোগে জানা গেছে, নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর গ্রামের শ্রী শ্রী গোপীনাথ বিগ্রহ মন্দিরের স্বত্ব দখলীয় দেবোত্তর সম্পত্তি ভুলক্রমে বাংলাদেশ সরকারের নামে অর্পিত সম্পত্তি “খ” গেজেট ভুক্ত হয়ে যায়। যা ওই গ্রামের মুক্তুল হোসেনের স্ত্রী হাসনা বানু প্রতারণার মাধ্যমে বি আর এস রেকর্ড করে। দেবোত্তর সম্পত্তি দখলে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামের আবুল হাসেম, মোঃ মাসুদ মিয়া, মাজহারুল ইসলাম, এমদাদুল হক, শহীদ মিয়া চেষ্টা করছেন। ভুলক্রমে হয়ে যাওয়া বি আর এস বাতিলের জন্য মন্দিরের পক্ষে সেবায়েতগণ বিজ্ঞ যুগ্ন জেলা জজ ১ম আদালত, জোত স্বত্ব ঘোষণা মামলা করেন। মোকদ্দমা নং- ৭৪/২০২৫ বিচারাধীন। মামলা চলমান অবস্থায় আবুল হাসেম তার লোকজন নিয়ে গত বছরের ১৭ নভেম্বর সকালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা মন্দিরের পুরাতন ইটের সীমানা প্রাচীর ও মন্দিরে বিভিন্ন কাজের টিনের ঘর ভেঙ্গে দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। মন্দিরের আধিদার কোরবার আলী বাধা দিলে হামলাকারীরা তাকে বেধরক মারপিট করে। এ ঘটনায় গত ২৩ নভেম্বর বারহাট্টা থানায় মামলা করা হয়। এরপর গত ২৭ ফেব্রুয়ারী কিছু লোক দেবোত্তর সম্পত্তিতে থাকা কিছু বাঁশ জোর পূর্বক কেটে নিয়ে যায় এবং মন্দিরের অস্থায়ী ঘর ভেঙে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে মন্দিরের সেবায়েতগণ বাধা প্রদান ও বিষয়টি বারহাট্টা থানার ওসিকে জানালে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মন্দিরের সম্পত্তি দখল চেষ্টাকারীরা সেবায়েতগণকে বিভিন্নভাবে ভয়- ভীতি হুমকি প্রদান করছে।
শ্রী শ্রী গোপীনাথ বিগ্রহ মন্দিরের সেবায়েত দিপায়ন দত্ত মজুমদার ববি, অর্নব দত্ত মজুমদার ও কাঞ্চন দত্ত মজুমদার গত ১ মার্চ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারীরা মন্দিরের সম্পত্তি যাতে করে জোরপূর্বক বেদখল না করা হয় সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
আবুল হাসেমের ছেলে এমদাদুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা মন্দিরের জায়গা দখলের চেষ্টা করছি না। ওই জায়গা আমরা কিনে রেখেছি। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে।



















