ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

গোবিন্দগঞ্জে ওয়াক্ফ এস্টেট

বেদখল হওয়া ১২ একর সম্পত্তি উদ্ধার

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৯০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শাহ্ ইয়াকুব আলী ওয়াক্ফ এস্টেটের বেদখল হওয়া ১২ একর সম্পত্তি উদ্ধার করেছে মোতওয়াল্লীসহ তার লোকজন। গতকাল শনিবার পৌরশহরের খলসি ও উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের রামপুর ও মদনপুর মৌজায় ৩৬ বিঘা সম্পত্তি দখলে নেয় মোতওয়াল্লী।
জানা গেছে, ১৯৪৯ সালের ১৪ মে ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে উৎসর্গীয়কৃত ১২ একর সম্পত্তি ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে দলিল করে দেন শাহ্ ইয়াকুব আলী। ইয়াকুব আলীর মৃত্যুর তার ২য় স্ত্রী আমিরুন নেছা মোতওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর প্রথমে ওই সম্পত্তি দেখাশোনা ও পরিচালনার জন্য তবিবর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে শাহ্ আব্দুর রহমান, ওয়াহেদুজ্জামান ও বর্তমানে শাহ্ মো. জাকির আলম ওয়াক্ফ এস্টেটের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অফিসিয়ালভাবে শাহ্ মো. জাকির আলম দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু মো. হাবিবুর রহমান, রেজা আহমেদ ও জাকারিয়াসহ ২৩ জন উক্ত ওয়াক্ফ এস্টেটের ১২ একর সম্পত্তি নিজেদের দাবী করে বেদখল দেয়। এতে ওয়াক্ফ এস্টেট ঢাকা ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করে মোতওয়াল্লী শাহ্ জাকির আলম। দীর্ঘদিন মামলা মোকদ্দমা চলার পর ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ গোবিন্দগঞ্জের তৎকালীন এসিল্যান্ড জুয়েল মিয়া ও থানা পুলিশসহ অবৈধ দখলদার হিসেবে মো. হাবিবুর রহমান, রেজা আহমেদ ও জাকারিয়াসহ ২৩ জন উচ্ছেদ করে। পরে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতে আপিল করলে আদালত গোবিন্দগঞ্জ জজ আদালতে রায় বহাল রাখেন।
এর আগে অবৈধ দখলদারগণের বিরুদ্ধে জজ আদালতে ১২/২০১৬ মিস ভাইলেশন মামলায় বিজ্ঞ আদালত তাদের ১৫ দিনের সিভিল জেল দেন।
এসময় বিবাদী তথ্য গোপন করে আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশের আবেদন করলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন আদালত। পরবর্তীতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করলে ওয়াক্ফ এস্টেটের পক্ষে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন আদালত। এরপরও অবৈধ দখলদার সম্পত্তি থেকে সরে না যাওয়ায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন মোতওয়াল্লী শাহ্ জাকির আলম। গোবিন্দগঞ্জের তৎকালীন এসিল্যান্ড ও থানা পুলিশসহ অবৈধ দখলদার হিসেবে মো. হাবিবুর রহমান, রেজা আহমেদ ও জাকারিয়াসহ ২৩ জন উচ্ছেদের প্রেক্ষিতে মোতওয়াল্লী ও তার লোকজন উক্ত ১২ একর সম্পত্তি দখলে নেয়।
উল্লেখ্য, ২৯ নভেম্বরর (শনিবার) পৌরশহরের খলসি ও উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের রামপুর ও মদনপুর মৌজায় ৩৬ বিঘা সম্পত্তি দখলে নেয় মোতওয়াল্লী। দখলকৃত সম্পত্তিতে লাল ফ্লাগ লাগিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করা হয়।
এ বিষয়ে দখলদার হাবিবুর রহমান ও মিজানুর রহমান বলেন, উক্ত জমি আমরা বাপ-দাদার ওয়ারিশ সুত্রে পেয়েছি। সেই মুলে জমিগুলো চাষাবাদ করে আসছি। তারা আইনের আশ্রয় নিলে আমাদেরকেও আদালতে যেতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গোবিন্দগঞ্জে ওয়াক্ফ এস্টেট

বেদখল হওয়া ১২ একর সম্পত্তি উদ্ধার

আপডেট সময় :

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শাহ্ ইয়াকুব আলী ওয়াক্ফ এস্টেটের বেদখল হওয়া ১২ একর সম্পত্তি উদ্ধার করেছে মোতওয়াল্লীসহ তার লোকজন। গতকাল শনিবার পৌরশহরের খলসি ও উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের রামপুর ও মদনপুর মৌজায় ৩৬ বিঘা সম্পত্তি দখলে নেয় মোতওয়াল্লী।
জানা গেছে, ১৯৪৯ সালের ১৪ মে ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে উৎসর্গীয়কৃত ১২ একর সম্পত্তি ওয়াক্ফ এস্টেটের নামে দলিল করে দেন শাহ্ ইয়াকুব আলী। ইয়াকুব আলীর মৃত্যুর তার ২য় স্ত্রী আমিরুন নেছা মোতওয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর প্রথমে ওই সম্পত্তি দেখাশোনা ও পরিচালনার জন্য তবিবর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে শাহ্ আব্দুর রহমান, ওয়াহেদুজ্জামান ও বর্তমানে শাহ্ মো. জাকির আলম ওয়াক্ফ এস্টেটের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অফিসিয়ালভাবে শাহ্ মো. জাকির আলম দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু মো. হাবিবুর রহমান, রেজা আহমেদ ও জাকারিয়াসহ ২৩ জন উক্ত ওয়াক্ফ এস্টেটের ১২ একর সম্পত্তি নিজেদের দাবী করে বেদখল দেয়। এতে ওয়াক্ফ এস্টেট ঢাকা ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করে মোতওয়াল্লী শাহ্ জাকির আলম। দীর্ঘদিন মামলা মোকদ্দমা চলার পর ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ গোবিন্দগঞ্জের তৎকালীন এসিল্যান্ড জুয়েল মিয়া ও থানা পুলিশসহ অবৈধ দখলদার হিসেবে মো. হাবিবুর রহমান, রেজা আহমেদ ও জাকারিয়াসহ ২৩ জন উচ্ছেদ করে। পরে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতে আপিল করলে আদালত গোবিন্দগঞ্জ জজ আদালতে রায় বহাল রাখেন।
এর আগে অবৈধ দখলদারগণের বিরুদ্ধে জজ আদালতে ১২/২০১৬ মিস ভাইলেশন মামলায় বিজ্ঞ আদালত তাদের ১৫ দিনের সিভিল জেল দেন।
এসময় বিবাদী তথ্য গোপন করে আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশের আবেদন করলে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন আদালত। পরবর্তীতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করলে ওয়াক্ফ এস্টেটের পক্ষে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন আদালত। এরপরও অবৈধ দখলদার সম্পত্তি থেকে সরে না যাওয়ায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন মোতওয়াল্লী শাহ্ জাকির আলম। গোবিন্দগঞ্জের তৎকালীন এসিল্যান্ড ও থানা পুলিশসহ অবৈধ দখলদার হিসেবে মো. হাবিবুর রহমান, রেজা আহমেদ ও জাকারিয়াসহ ২৩ জন উচ্ছেদের প্রেক্ষিতে মোতওয়াল্লী ও তার লোকজন উক্ত ১২ একর সম্পত্তি দখলে নেয়।
উল্লেখ্য, ২৯ নভেম্বরর (শনিবার) পৌরশহরের খলসি ও উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের রামপুর ও মদনপুর মৌজায় ৩৬ বিঘা সম্পত্তি দখলে নেয় মোতওয়াল্লী। দখলকৃত সম্পত্তিতে লাল ফ্লাগ লাগিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করা হয়।
এ বিষয়ে দখলদার হাবিবুর রহমান ও মিজানুর রহমান বলেন, উক্ত জমি আমরা বাপ-দাদার ওয়ারিশ সুত্রে পেয়েছি। সেই মুলে জমিগুলো চাষাবাদ করে আসছি। তারা আইনের আশ্রয় নিলে আমাদেরকেও আদালতে যেতে হবে।