বেনাপোল কাস্টমসে আট মাসে রাজস্ব ঘাটতি ১৬৫০ কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ৩৩ বার পড়া হয়েছে
বেনাপোল কাস্টম হাউসে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা।
বেনাপোল স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের গেল আট মাসে ৬৮ হাজার ৮৬টি ট্রাকে মোট আমদানি ও রপ্তানি হয় ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৫২১ দশমিক ৮৪ মেট্রিক টন মালামাল। এর মধ্যে আমদানি হয় ১১ লাখ ১০ হাজার ৯০৩ দশমিক ৮১ মেট্রিক টন এবং রপ্তানি হয় এক লাখ ২৪ হাজার ৬১৮ দশমিক ৬১ মেট্রিকটন পণ্য।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে এক লাখ ৪৩ হাজার ৩৩৬টি ট্রাকে মোট পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয় ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৮০ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন পণ্য। এর মধ্যে আমদানি হয় ২০ লাখ ১১ হাজার ২৬৭ দশমিক ৫৯ মেট্রিক টন ও রপ্তানি হয় চার লাখ ২১ হাজার ৭১৩ মেট্রিক টন মালামাল।
এরআগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুই লাখ ৫৮ হাজার ১৪১টি ট্রাকে মোট পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয় ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন পণ্য। এর মধ্যে আমদানি হয় ২০ লাখ ৭৮ হাজার ৪০৮ মেট্রিক টন, রপ্তানি হয় ২০ লাখ ১৫৭ মেট্রিক টন মালামাল।
কাস্টমস ও বন্দর সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে শীতলতা তৈরি এবং সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে। বাণিজ্যিক পরিবেশে এই অস্থিরতার কারণে আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই গতি কমে গেছে। আগে যেখানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি হতো, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাকে। একইভাবে আগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০ ট্রাকে। আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই এই বড় ধরনের পতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে।
বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি-বাণিজ্যের স্থবিরতা, ৫ আগস্টের পর ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বন্দরের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম–এই তিনটি বিষয় মিলেই বেনাপোল কাস্টমের রাজস্ব সংকটকে আরও গভীর করেছে। তাদের মতে, বেনাপোল কাস্টমে ছয় মাসে এত বড় রাজস্ব ঘাটতি গত এক দশকে খুব কমই দেখা গেছে।
আমদানিকারক টুটুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে চাই। তবে নতুন সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পর্কের উন্নতি ঘটলে আশা করি ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসার ঘটবে।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আগে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি হতো। এখন সেটা কমে ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাকে নেমে এসেছে। একইভাবে আগে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫০ ট্রাকে। আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণে রাজস্ব আয়ও স্বাভাবিকভাবেই কমেছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা মনিবুর রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দরের আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব কমে গেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা, দ্রুত পণ্য খালাস নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদারে আমরা কাজ করছি। আশা করি আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে এবং জুনের মধ্যে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে।




















