ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

ভোগান্তিহীন স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছে কর্মজীবী মানুষ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫ ৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শেষ হয়ে এলো ঈদ উদযাপনের দিনগুলো। আনন্দের সুখস্মৃতি নিয়ে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। কেউ চাকরি, কেউ-বা যোগ দেবেন ব্যবসায়। তাই তো ফিরতে হচ্ছে এই ব্যস্ততম নগরে। তবে এবার ভোগান্তিহীন ভাবে নির্বিগ্নে এবং স্বস্তিতে কর্মস্থলে ফিরছে কর্মজীবি মানুষ।
আগামী ৫ এপ্রিল শনিবার থেকে খুলছে অফিস। ঢাকায় ফেরা মানুষেরা জানিয়েছেন, যাওয়া ও আসার পথে তাদের ঝামেলা হয়নি। তবে যারা ঈদের সময় ছুটি পাননি, তারা এখন ঢাকা ছাড়ছেন তুলনামূলক আরামে। যাওয়ার থেকে ঢাকায় ফেরার মানুষের সংখ্যা বেশি। কমলাপুর রেল স্টেশনের পাশাপাশি বাস টার্মিনালগুলোতেও এই চিত্র দেখা যায়। ঢাকায় আসার পথে সড়কে ছিল না কোনো ভোগান্তি। নগরও তুলনামূলক ফাঁকা। তাই স্বস্তি নিয়েই কাজে যোগ দিতে ঢাকায় আসতে পারছেন মানুষ। সপ্তাহজুড়েই রাজধানীতে ফিরবেন নগরবাসী।
সরেজমিনে কমলাপুর রেল ষ্টেশনে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষেরা। কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ পরিবারকে রেখে ফিরছেন। পাশাপাশি ঈদের ছুটিতেও জরুরি পেশায় নিয়োজিত যেসব মানুষ ঢাকায় ছিলেন, তারা এখন প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামে যাচ্ছেন। এ সংখ্যাটা অবশ্য খুব কমও নয়।
এদিকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্মজীবী মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে আগামী রোববার সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো খুলছে। তাই তারা ঝামেলা এড়াতে আগে ভাগেই কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছেন। কিন্তু মাঝে আবার সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার রয়েছে। আবার বাচ্চাদের স্কুল-কলেজ এখনো বন্ধ, তাই অনেকে পরিবার বাড়িতে রেখে ঢাকায় ফিরছেন। তাছাড়া যাদের বাড়ি ঢাকার আশপাশে তারা আজ অফিস শেষ করে সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে আবার বাড়ি যাবেন, সেই কারণেও পরিবার রেখে এসেছেন কেউ কেউ।
এবিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বরতরা বলছেন, তিনদিন বিরতি থেকেই ফিরতি ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছে। ট্রেনে করে যেসব মানুষ ঢাকা ছেড়েছিলেন ঈদের আগে, তাদের অধিকাংশই এখন ফিরতে শুরু করেছেন। ঢাকায় ফেরা সবগুলো ট্রেন যাত্রীতে পরিপূর্ণ ছিল। ট্রেনের ফিরতি টিকিটও অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় এবং শিডিউল বিপর্যয় না হওয়ায় বড় ধরনের কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না যাত্রীদের।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে চাকুরিজীবি মনির হোসেন জানান, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। রাজধানী সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে ঢাকায় ফেরা মানুষের আগমনের দৃশ্য দেখা গেছে।
ঈদে লম্বা ছুটি শেষে আজ থেকেই রাজধানীতে ফিরছে কর্মজীবী মানুষ। ঈদ পালনে অনেকেই পরিবারের সবাই একসঙ্গে গেছে গ্রামের বাড়িতে। আবার ছুটি শেষে পরিবার নিয়েই ফিরছে ঢাকায়। গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ফিরতি যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। ঝুট ঝামেলা এড়াতেই দুইদিন আগেই নির্বিঘেœ ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবি মানুষ। তবে এবার নির্বিঘেœ ঈদ যাত্রায় স্বস্তিতে ছিল যাত্রীরা। ঈদ উপলক্ষে ৫ এপ্রিল টানা ৯দিন সরকারি ছুটি ছিল। এতে টানা ৯ দিন ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে আসতে শুরু করেছে চাকরিজীবীরা।
মানুষ ফিরতে শুরু করলেও এখনো চিরচেনা রূপে ফেরেনি ঢাকা। গত কয়েক দিনের মতো নগরীর প্রধান সড়কগুলো গতকালও অনেকটা যানজটমুক্ত ফাঁকা ছিল। সড়কে ব্যক্তিগত গাড়িসহ গণপরিবহনের সংখ্যাও ছিল কম।
রাজধানীতে আসা লোকজন বলছে, ফেরার পথে তেমন ভোগান্তি ছিল না। লঞ্চযাত্রায় স্বস্তি ছিল। তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছে দূরপাল্লার বাসযাত্রীরা। কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা যায়, সকালে পৌঁছানো ট্রেনগুলোতে গতকালের তুলনায় যাত্রীর চাপ বেশি। তবে বেশির ভাগ যাত্রীর অভিযোগ, স্ট্যান্ডিং টিকিটধারী যাত্রীদের জন্য আসনের যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাস থেকে ভোরেই যাত্রী নামানো শুরু হয় রাজধানীতে।
আমাদের ভোলা প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল থেকে ভোলার বিভিন্ন লঞ্চঘাট ঘুরে দেখা গেছে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড়। সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাটে। এই ঘাট থেকে গতকাল সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকার উদ্দেশে ১২টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আরো ছয়টি লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। ভোলা থেকে ঢাকার পথের যাত্রী মফিজুল ইসলাম জানান, তাঁদের গার্মেন্টস কারখানা খোলা থাকায় বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে যাচ্ছেন। ছুটি শেষ হওয়ায় গাদাগাদি করেই লঞ্চে উঠছেন তাঁরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভোগান্তিহীন স্বস্তিতে ঢাকায় ফিরছে কর্মজীবী মানুষ

আপডেট সময় : ০৮:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫

শেষ হয়ে এলো ঈদ উদযাপনের দিনগুলো। আনন্দের সুখস্মৃতি নিয়ে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। কেউ চাকরি, কেউ-বা যোগ দেবেন ব্যবসায়। তাই তো ফিরতে হচ্ছে এই ব্যস্ততম নগরে। তবে এবার ভোগান্তিহীন ভাবে নির্বিগ্নে এবং স্বস্তিতে কর্মস্থলে ফিরছে কর্মজীবি মানুষ।
আগামী ৫ এপ্রিল শনিবার থেকে খুলছে অফিস। ঢাকায় ফেরা মানুষেরা জানিয়েছেন, যাওয়া ও আসার পথে তাদের ঝামেলা হয়নি। তবে যারা ঈদের সময় ছুটি পাননি, তারা এখন ঢাকা ছাড়ছেন তুলনামূলক আরামে। যাওয়ার থেকে ঢাকায় ফেরার মানুষের সংখ্যা বেশি। কমলাপুর রেল স্টেশনের পাশাপাশি বাস টার্মিনালগুলোতেও এই চিত্র দেখা যায়। ঢাকায় আসার পথে সড়কে ছিল না কোনো ভোগান্তি। নগরও তুলনামূলক ফাঁকা। তাই স্বস্তি নিয়েই কাজে যোগ দিতে ঢাকায় আসতে পারছেন মানুষ। সপ্তাহজুড়েই রাজধানীতে ফিরবেন নগরবাসী।
সরেজমিনে কমলাপুর রেল ষ্টেশনে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষেরা। কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ পরিবারকে রেখে ফিরছেন। পাশাপাশি ঈদের ছুটিতেও জরুরি পেশায় নিয়োজিত যেসব মানুষ ঢাকায় ছিলেন, তারা এখন প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামে যাচ্ছেন। এ সংখ্যাটা অবশ্য খুব কমও নয়।
এদিকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্মজীবী মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে আগামী রোববার সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো খুলছে। তাই তারা ঝামেলা এড়াতে আগে ভাগেই কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছেন। কিন্তু মাঝে আবার সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার রয়েছে। আবার বাচ্চাদের স্কুল-কলেজ এখনো বন্ধ, তাই অনেকে পরিবার বাড়িতে রেখে ঢাকায় ফিরছেন। তাছাড়া যাদের বাড়ি ঢাকার আশপাশে তারা আজ অফিস শেষ করে সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে আবার বাড়ি যাবেন, সেই কারণেও পরিবার রেখে এসেছেন কেউ কেউ।
এবিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বরতরা বলছেন, তিনদিন বিরতি থেকেই ফিরতি ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছে। ট্রেনে করে যেসব মানুষ ঢাকা ছেড়েছিলেন ঈদের আগে, তাদের অধিকাংশই এখন ফিরতে শুরু করেছেন। ঢাকায় ফেরা সবগুলো ট্রেন যাত্রীতে পরিপূর্ণ ছিল। ট্রেনের ফিরতি টিকিটও অনলাইনে বিক্রি হওয়ায় এবং শিডিউল বিপর্যয় না হওয়ায় বড় ধরনের কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না যাত্রীদের।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে চাকুরিজীবি মনির হোসেন জানান, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। রাজধানী সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলস্টেশনে ঢাকায় ফেরা মানুষের আগমনের দৃশ্য দেখা গেছে।
ঈদে লম্বা ছুটি শেষে আজ থেকেই রাজধানীতে ফিরছে কর্মজীবী মানুষ। ঈদ পালনে অনেকেই পরিবারের সবাই একসঙ্গে গেছে গ্রামের বাড়িতে। আবার ছুটি শেষে পরিবার নিয়েই ফিরছে ঢাকায়। গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ফিরতি যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। ঝুট ঝামেলা এড়াতেই দুইদিন আগেই নির্বিঘেœ ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবি মানুষ। তবে এবার নির্বিঘেœ ঈদ যাত্রায় স্বস্তিতে ছিল যাত্রীরা। ঈদ উপলক্ষে ৫ এপ্রিল টানা ৯দিন সরকারি ছুটি ছিল। এতে টানা ৯ দিন ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে আসতে শুরু করেছে চাকরিজীবীরা।
মানুষ ফিরতে শুরু করলেও এখনো চিরচেনা রূপে ফেরেনি ঢাকা। গত কয়েক দিনের মতো নগরীর প্রধান সড়কগুলো গতকালও অনেকটা যানজটমুক্ত ফাঁকা ছিল। সড়কে ব্যক্তিগত গাড়িসহ গণপরিবহনের সংখ্যাও ছিল কম।
রাজধানীতে আসা লোকজন বলছে, ফেরার পথে তেমন ভোগান্তি ছিল না। লঞ্চযাত্রায় স্বস্তি ছিল। তবে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছে দূরপাল্লার বাসযাত্রীরা। কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা যায়, সকালে পৌঁছানো ট্রেনগুলোতে গতকালের তুলনায় যাত্রীর চাপ বেশি। তবে বেশির ভাগ যাত্রীর অভিযোগ, স্ট্যান্ডিং টিকিটধারী যাত্রীদের জন্য আসনের যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাস থেকে ভোরেই যাত্রী নামানো শুরু হয় রাজধানীতে।
আমাদের ভোলা প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল থেকে ভোলার বিভিন্ন লঞ্চঘাট ঘুরে দেখা গেছে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড়। সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাটে। এই ঘাট থেকে গতকাল সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকার উদ্দেশে ১২টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আরো ছয়টি লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। ভোলা থেকে ঢাকার পথের যাত্রী মফিজুল ইসলাম জানান, তাঁদের গার্মেন্টস কারখানা খোলা থাকায় বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে যাচ্ছেন। ছুটি শেষ হওয়ায় গাদাগাদি করেই লঞ্চে উঠছেন তাঁরা।