ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মনিরামপুরে সড়ক ঘেঁষে অবৈধ মাছের ঘের নির্মাণ, কারাদণ্ড

যশোর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোরের মনিরামপুরে জনসাধারণের ব্যবহৃত পাকা সড়কের দুইপাশ ঘেঁষে অবৈধভাবে মাছের ঘের নির্মাণ করে সড়কের ভিত্তি দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলার দায়ে দুই ব্যক্তিকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত সোমবার বিকেলে উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের কাঁঠালতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কাঁঠালতলা বাজার এলাকার আতিয়ার রহমানের ছেলে কারিমুল ইসলাম (৩৩) এবং একই এলাকার মাওলা বক্সের ছেলে লাল্টু বিশ্বাস (৪৫)। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায়, কাঁঠালতলা ও পারখাজুরা বাজারের সংযোগ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে রাস্তার একেবারে গা ঘেঁষে দুইপাশে মাটি কেটে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। ঘের খননের সময় সড়কের নিচের মাটি সরিয়ে নেওয়ায় রাস্তার ভিত্তি ফাঁপা হয়ে পড়ে এবং ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে তা মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ চলাচল করেন। বাজারসংলগ্ন হওয়ায় দিনভর ছোট-বড় যানবাহনের চাপ থাকে। এমন অবস্থায় রাস্তার নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় যে কোনো সময় ধস নামা বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে সড়কের ক্ষতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪(খ) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে মাটি অপসারণ, ভরাট বা খনন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আদালত পরিচালনাকালে অভিযুক্ত কারিমুল ইসলাম ও লাল্টু বিশ্বাস নিজেদের দোষ স্বীকার করেন। পরবর্তীতে পৃথকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, খাল, নদীর তীর ও সরকারি জমি দখল করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাছের ঘের নির্মাণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে সড়কের পাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে সড়কের স্থায়িত্ব কমে যায় এবং সংস্কার ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত জনসাধারণের অর্থের ওপরই অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী এলাকায় মাছের ঘের নির্মাণ করে খোর্দ্দঘাট সেতুর কাঠামোগত ক্ষতির অভিযোগে মোহাম্মদ শুভ নামে এক ব্যক্তিকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন একই ভ্রাম্যমাণ আদালত। ধারাবাহিক এসব অভিযানের মাধ্যমে প্রশাসন স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে, জনস্বার্থবিরোধী ও অবৈধ মাটি কাটার কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, সরকারি সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে সড়ক বা সরকারি জমির ক্ষতি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং অবৈধ দখল ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে আরও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। জনস্বার্থ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে বলেই সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মনিরামপুরে সড়ক ঘেঁষে অবৈধ মাছের ঘের নির্মাণ, কারাদণ্ড

আপডেট সময় :

যশোরের মনিরামপুরে জনসাধারণের ব্যবহৃত পাকা সড়কের দুইপাশ ঘেঁষে অবৈধভাবে মাছের ঘের নির্মাণ করে সড়কের ভিত্তি দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলার দায়ে দুই ব্যক্তিকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত সোমবার বিকেলে উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়নের কাঁঠালতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কাঁঠালতলা বাজার এলাকার আতিয়ার রহমানের ছেলে কারিমুল ইসলাম (৩৩) এবং একই এলাকার মাওলা বক্সের ছেলে লাল্টু বিশ্বাস (৪৫)। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায়, কাঁঠালতলা ও পারখাজুরা বাজারের সংযোগ সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে রাস্তার একেবারে গা ঘেঁষে দুইপাশে মাটি কেটে মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। ঘের খননের সময় সড়কের নিচের মাটি সরিয়ে নেওয়ায় রাস্তার ভিত্তি ফাঁপা হয়ে পড়ে এবং ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে তা মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ চলাচল করেন। বাজারসংলগ্ন হওয়ায় দিনভর ছোট-বড় যানবাহনের চাপ থাকে। এমন অবস্থায় রাস্তার নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় যে কোনো সময় ধস নামা বা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বৃদ্ধি পেলে সড়কের ক্ষতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪(খ) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে মাটি অপসারণ, ভরাট বা খনন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আদালত পরিচালনাকালে অভিযুক্ত কারিমুল ইসলাম ও লাল্টু বিশ্বাস নিজেদের দোষ স্বীকার করেন। পরবর্তীতে পৃথকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক, খাল, নদীর তীর ও সরকারি জমি দখল করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাছের ঘের নির্মাণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে সড়কের পাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে সড়কের স্থায়িত্ব কমে যায় এবং সংস্কার ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত জনসাধারণের অর্থের ওপরই অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী এলাকায় মাছের ঘের নির্মাণ করে খোর্দ্দঘাট সেতুর কাঠামোগত ক্ষতির অভিযোগে মোহাম্মদ শুভ নামে এক ব্যক্তিকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন একই ভ্রাম্যমাণ আদালত। ধারাবাহিক এসব অভিযানের মাধ্যমে প্রশাসন স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিচ্ছে যে, জনস্বার্থবিরোধী ও অবৈধ মাটি কাটার কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, সরকারি সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে সড়ক বা সরকারি জমির ক্ষতি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং অবৈধ দখল ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে আরও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। জনস্বার্থ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে বলেই সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।