এ এইচ ইমরান, নারায়ণগঞ্জ
মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত : বাবা-মায়ের বুক খালি করে চলে গেলেন ভাই বোন
- আপডেট সময় : ২০৫ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আগুনে দগ্ধ হয়ে বোন নাজিয়ার পর চলে গেলেন ছোট ভাই নাফিও (৯)। গতকাল মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ১০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাফির মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, নাফির শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এর আগে গতকাল দিবাগত রাত ৩টার দিকে তার বোন নাজিয়া মারা যায়। তার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এই ঘটনায় এখন বার্ন ইউনিটে ১১ জন শিক্ষার্থী-শিক্ষক মারা যান। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
নাজিয়া ও নাফি বাবা-মায়ের সঙ্গে উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় থাকত। ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নাজিয়া ষষ্ঠ শ্রেণীতে আর নাফি প্রথম শ্রেণীতে পড়ত। আশরাফুল ইসলাম নীরবের দুই সন্তান নাজিয়া ও নাফি ছিলো মেধাবী ছাত্র। বাবা নীরবের আর কোনো সন্তান নাই। দুই সন্তান হারিয়ে নীরব ও তার স্ত্রী শোকে পাথর হয়ে গেছেন। আশরাফুল ইসলাম নীরব ছিলেন এসএসসি ৯৬ ব্যাচের। নীরবের দুই সন্তান মারা যাওয়ার ঘটনায় তার বন্ধু মহলও শোক প্রকাশ করেছে। নীরব ছিলো এই প্রতিবেদকের বন্ধু ।
এ দিকে এর আগে দুপুরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিমানবাহিনীর বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৬৫ জন।
গত ২১ জুলাই দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে একটি যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হয়। একটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়নের ৭ মিনিট পর ১টা ১৩ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে মাইলস্টোন স্কুল ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে বিমানটি। সঙ্গে সঙ্গেই সেটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনটিতে।
আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যাচ্ছে বিমানটি। একেবারে মাইলস্টোন স্কুল ভবনের ওপর আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই ধরে যায় আগুন। ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। আশপাশে থাকা সবাই দৌড়ে এগিয়ে যান ভবনটিতে।













