রাজশাহীতে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় হ্যান্ডকাপ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ৭৪ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীর পবা থানার পুলিশের কাছ থেকে হ্যান্ডকাপসহ এক আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর অক্ষত অবস্থায় হ্যান্ডকাপ উদ্ধার হলেও এখনো ওই আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে আসামির হাতে পরানো হ্যান্ডকাপটি যদি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে সেটি কীভাবে খোলা হলো? সাধারণত হ্যান্ডকাপ খোলার জন্য নির্দিষ্ট চাবির প্রয়োজন হয়। ফলে চাবি কীভাবে বা কার মাধ্যমে সেখানে পৌঁছাল? তা নিয়ে জনমনে বিভিন্ন আলোচনা চলছে।
জানা যায়, গত রোববার (২২ মার্চ) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে পবা উপজেলার পিল্লাপাড়া মোড়স্থ সাহিদা হক ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাসেলকে গ্রেফতার করে পবা থানার একটি পুলিশ টিম।
এসময় আসামির মা ও স্বজনসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পুলিশের ৮ জন সদস্য উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি দ্রুত পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এসময় রাসেলকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয় কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে হ্যান্ডকাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও এখনো ওই আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ একই এলাকার আবু তাহেরের ছেলে আফসার আলী (৩৭)-কে পিল্লাপাড়া মোড়স্থ উক্ত পেট্রোল পাম্পের সামনে পূর্বশত্রুতার জের ধরে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় আফসার আলী বাদী হয়ে ১৬ মার্চ পবা থানায় তিনজনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭ ও ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর-৬।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের শাহমখদুম জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার দ্বীন ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে হ্যান্ডকাপ উদ্ধারের বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে ভালো তথ্য পাওয়া যাবে।
পরে পবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মতিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি তদারকি করছেন। হ্যান্ডকাপ অক্ষত পেলেন, চাবি কোথায় পেল, কে চাবি নিয়ে গেল? এমন প্রশ্ন করতেই তিনি ফোন কেটে দেন।
তবে পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আসামি ছিনতাই ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।



















