ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঝিনাইদহে সংরক্ষিত নারী আসনে তহুরা  খাতুনকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা Logo নওগাঁর ঠাকুরমান্দার ২শ বছরের পূরনো রাজখাড়া দেবত্তোর ষ্টেটের শ্রী শ্রী জয় কালি মাতা মন্দির ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের পরিদর্শন Logo সদর মডেল থানা ও রামু থানায় ১৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo এপেক্স বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন নুরুল আমিন চৌধুরী Logo জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের জোর তৎপরতা, সচেতনতার আহ্বান Logo ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্যের ডাক দিলেন তানিয়া রব Logo মানিকগঞ্জে পেটে লাথি মেরে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ Logo তারাকান্দায় বসতবাড়ি সংলগ্ন মাটি খনন করায় বসতবাড়ি ধসে যাওয়ার শঙ্কা Logo বলাৎকারের খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের মামলা Logo তারাকান্দায় ফখরুদ্দিন হত্যার জেরে ধরে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

শিবালয়ে ভূমি অফিসের নায়েবের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগে তদন্তের দাবি

ছাবিনা দিলরুবা, মানিকগঞ্জ
  • আপডেট সময় : ৫৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মানিকগঞ্জ জেলা শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়ন ভূমি সহকারি নায়েব হেনা আক্তারের ঘুষ দুর্নীতির অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।ঘুষ নিয়ে খারিজের প্রস্তাব, তদন্ত রিপোর্ট পাঠানো তার যেন নেশা- পেশা সমানতালে চলছে।ভুক্তভোগী সৈয়দ আব্দুল কাদের টিপু বলেন বাসাইল মৌজার ২৬ শতাংশ জমি খারিজের প্রস্তাব পাঠাতে ১৫০০০ টাকা ঘুষ হাতিয়ে নেন নায়েব হেনা আক্তার। আবার একই জমির তদন্ত রিপোর্ট পাঠাতে ৪০০০ টাকা ঘুষ হাতিয়ে নিয়ে ইশারায় ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তদন্ত প্রতিবেদন রিপোর্টের জন্য ২ লক্ষ টাকা না দেওয়ায়, আর এস রেকর্ড সহ জমির দখলে থাকা সত্ত্বেও, মিথ্যা প্রতিবেদন রিপোর্ট দিয়ে আমাকে ব্যাপক হয়রানি করছেন, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং তদন্ত সাপেক্ষে নায়েব হেনা আক্তার কে চাকুরি হতে অব্যাহতি চায়,যাতে করে আমার মত আর কাউকে এমন হয়রানির শিকার হতে না হয়।ভুক্তভোগী সৈয়দ আব্দুল কাদের টিপু বলেন,শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এবং জেলা প্রশাসক তদন্ত সাপেক্ষে নায়েবের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা না নিলে, ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি সচিব,দুদক সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করব। জানা যায় পূর্বের কর্মস্থল উলাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব হেনা আক্তারের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। খাজনা খারিজ ও নামজারির মতো সেবায় সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, খারিজ বা নামজারির প্রস্তাব নিতে গিয়ে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে আবেদন গ্রহণে গড়িমসি করা হয়। উলাইল ইউনিয়নের আমডালা গ্রামের মৃত শেখ কাংগাইলার পুত্র খালেক জানান, অল্প পরিমাণ জমি খারিজ করতে গিয়ে তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। একই গ্রামের শফি মিস্ত্রির পরিবারের কাছ থেকেও সমপরিমাণ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিখিল মন্ডল নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ৭ শতাংশ জমি খারিজ করতে ৬ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
উলাইল গ্রামের মৃত ছামাদ সরদারের পুত্র মিনহাজ উদ্দিনের অভিযোগ, “মোটা অঙ্কের টাকা দিলে সমস্যাযুক্ত জমিরও খারিজ হয়, না দিলে হয় না।” তিনি দাবি করেন, ১৪ শতাংশ জমির খারিজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাতে আবেদন আটকে রেখে ৫৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তার শ্বশুরের একটি খারিজের ক্ষেত্রেও ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী দিনমজুর ও কৃষকরা বলেন, কয়েক হাজার টাকা জোগাড় করতে তাদের মাসের পর মাস কষ্টে চলতে হয়। এভাবে ঘুষ নেওয়া বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হেনা আক্তার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
স্থানীয়দের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শিবালয়ে ভূমি অফিসের নায়েবের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগে তদন্তের দাবি

আপডেট সময় :

মানিকগঞ্জ জেলা শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়ন ভূমি সহকারি নায়েব হেনা আক্তারের ঘুষ দুর্নীতির অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।ঘুষ নিয়ে খারিজের প্রস্তাব, তদন্ত রিপোর্ট পাঠানো তার যেন নেশা- পেশা সমানতালে চলছে।ভুক্তভোগী সৈয়দ আব্দুল কাদের টিপু বলেন বাসাইল মৌজার ২৬ শতাংশ জমি খারিজের প্রস্তাব পাঠাতে ১৫০০০ টাকা ঘুষ হাতিয়ে নেন নায়েব হেনা আক্তার। আবার একই জমির তদন্ত রিপোর্ট পাঠাতে ৪০০০ টাকা ঘুষ হাতিয়ে নিয়ে ইশারায় ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। তদন্ত প্রতিবেদন রিপোর্টের জন্য ২ লক্ষ টাকা না দেওয়ায়, আর এস রেকর্ড সহ জমির দখলে থাকা সত্ত্বেও, মিথ্যা প্রতিবেদন রিপোর্ট দিয়ে আমাকে ব্যাপক হয়রানি করছেন, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং তদন্ত সাপেক্ষে নায়েব হেনা আক্তার কে চাকুরি হতে অব্যাহতি চায়,যাতে করে আমার মত আর কাউকে এমন হয়রানির শিকার হতে না হয়।ভুক্তভোগী সৈয়দ আব্দুল কাদের টিপু বলেন,শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এবং জেলা প্রশাসক তদন্ত সাপেক্ষে নায়েবের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা না নিলে, ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি সচিব,দুদক সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করব। জানা যায় পূর্বের কর্মস্থল উলাইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব হেনা আক্তারের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। খাজনা খারিজ ও নামজারির মতো সেবায় সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, খারিজ বা নামজারির প্রস্তাব নিতে গিয়ে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে আবেদন গ্রহণে গড়িমসি করা হয়। উলাইল ইউনিয়নের আমডালা গ্রামের মৃত শেখ কাংগাইলার পুত্র খালেক জানান, অল্প পরিমাণ জমি খারিজ করতে গিয়ে তার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। একই গ্রামের শফি মিস্ত্রির পরিবারের কাছ থেকেও সমপরিমাণ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিখিল মন্ডল নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ৭ শতাংশ জমি খারিজ করতে ৬ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
উলাইল গ্রামের মৃত ছামাদ সরদারের পুত্র মিনহাজ উদ্দিনের অভিযোগ, “মোটা অঙ্কের টাকা দিলে সমস্যাযুক্ত জমিরও খারিজ হয়, না দিলে হয় না।” তিনি দাবি করেন, ১৪ শতাংশ জমির খারিজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাতে আবেদন আটকে রেখে ৫৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তার শ্বশুরের একটি খারিজের ক্ষেত্রেও ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী দিনমজুর ও কৃষকরা বলেন, কয়েক হাজার টাকা জোগাড় করতে তাদের মাসের পর মাস কষ্টে চলতে হয়। এভাবে ঘুষ নেওয়া বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হেনা আক্তার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
স্থানীয়দের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হন।