শিবালয়ে সরকারি রাস্তার ইট আত্মসাৎ, নিরব প্রশাসন
- আপডেট সময় : ৫৩ বার পড়া হয়েছে
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় সরকারি রাস্তার ইট লুট করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার নয়াবাড়ি বাজার থেকে দক্ষিণাড়া গ্রাম পর্যন্ত নির্মিত সড়কের বিপুল পরিমাণ ইট আত্মসাৎ করে নিজের বাড়িতে যাতায়াতের পথ ও বাথরুমসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন ইতালি প্রবাসী মো. ইব্রাহিম শিকদার। জাতীয় দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে এখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকারের প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নয়াবাড়ি-দক্ষিণাড়া সড়কের ইটের সলিং সম্প্রতি বৃষ্টির কারণে ধসে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, দক্ষিণাড়া গ্রামের প্রভাবশালী প্রবাসী ইব্রাহিম শিকদার এই সুযোগে সরকারি সম্পদকে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে লুটে নেন। আতাই নামে এক ভ্যানচালকের সহায়তায় তিনি শত শত ইট সরিয়ে নিজের বাড়িতে ব্যবহার করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, ইব্রাহিম প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না কেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি মাল দরিয়ায় ঢাল-এই প্রবাদকে সত্য প্রমাণ করেছেন ইব্রাহিম। রাস্তার ইট দিয়ে তিনি নিজের বাথরুম ও আঙিনা পাকা করেছেন। আমরা চাই দ্রুত তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।”
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বর্তমানে তিনি এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং আইনি জটিলতা এড়াতে দ্রুত ইতালি পাড়ি জমানোর পায়তারা করছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত চলাকালীন ইব্রাহিমের পাসপোর্ট জব্দ করা হোক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের সলিংয়ে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কোম্পানির নাম সংবলিত ইটের সাথে ইব্রাহিমের বাড়িতে নবনির্মিত স্থাপনার ইটের হুবহু মিল রয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জন্য এই তথ্যপ্রমাণ যাচাই করা মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যাপার হলেও শিবালয় উপজেলা প্রশাসন এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রাণী কর্মকার “প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে” বলে সাংবাদিকের নিকট ভিডিও তথ্য প্রমান চাইলে, ভিডিও তথ্য প্রমাণ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দেন। তারপর ও প্রশাসন নীরবতা পালন করছেন বলে জানা যায়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ। প্রমাণিত হলে এটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের আওতায়ও আসতে পারে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদের নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং লুণ্ঠনকারীদের দমনে প্রশাসনের শীর্ষ মহলের সরাসরি হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র প্রত্যাশা করেছে এলাকাবাসী।


















