শিবালয় এলজিইডি সড়কের কাজে তিন কোটি টাকার অনিয়ম
- আপডেট সময় : ৫২ বার পড়া হয়েছে
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আরিচা-দাশকান্দি ৩ কিলোমিটার সড়কে উন্নয়নকাজে প্রায় তিন কোটি কোটি টাকার ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং বাঁশ দিয়ে গাইড ওয়াল নির্মাণের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার রহস্যজনক নীরবতা ও দায়সারা বক্তব্যে প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম সংশয়।
উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় থেকে জানা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সড়কটির ৩ কিলোমিটার কার্পেটিং, রক্ষণাবেক্ষণ ও মাটি ভরাটের জন্য ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত প্রায় ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া সড়কের উভয় পাশে ২ ফুট করে মোট ৪ ফুট প্রস্থে এইচবিএস ও গাইড ওয়াল নির্মাণের জন্য আরও ৩৩ লাখ ৫২ হাজার ১৪০ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। মেসার্স আলেয়া এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের সুরক্ষায় যেখানে শক্ত মাটি ও মানসম্মত গাইড ওয়াল দেওয়ার কথা, সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে বাঁশের কঞ্চি। কোথাও কোথাও নতুন সামগ্রীর বদলে পুরনো গাইড ওয়াল দিয়েই দায়সারা কাজ চালানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিটে বালুর ওপর অপরিকল্পিতভাবে এইচবিএস বসানোর ফলে একপাশ এখনই ধসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ ও ঠিকাদারের অদ্ভুত যুক্তি স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ইটের সোলিং থেকে শুরু করে মাটি ভরাট-সবখানেই ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি টাকা হরিলুট হচ্ছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।”
এ বিষয়ে ঠিকাদার আজিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি অদ্ভুত এক যুক্তি দেন। তিনি বলেন, “পাবলিক না বুঝে অনেক কথা বলে। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে কিছু জায়গায় বাঁশ ব্যবহার করেছি, এটা সরকারি কাজের অংশ নয়।” তবে সরকারি উন্নয়নকাজে কেন এবং কার অনুমতিতে বাঁশ ব্যবহার করা হলো, তার কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডি শিবালয় উপজেলার প্রকৌশলী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, কাজে কোন অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। কোন অনিয়ম পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যতটুকু কাজ করবে ততটুকু বিল পাবে এছাড়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে এলজিইডি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কাজে এত বড় অনিয়ম চললেও কেবল ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছেন তিনি। দৃশ্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ না দেওয়ায় তদারকি সংস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধ করে সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সড়কের এমন দায়সারা কাজ ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পানি ও এলাকাবাসি।



















