ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫

শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ প্রশ্নে নিরব ভূমিকায় ভারত

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫ ২৮ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা হয়। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যপনের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো সদোত্তর মিলেনি। এ বিষয়ে ভারত নিরব ভুমিকা পালন করছেন। শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে।
প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতে বসে তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, এসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বন্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথমবারের মতো অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলো। বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন ২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের সাথে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে ভারতের আগ্রহের কথা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমাধানের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অপরদিকে ৪ এপ্রিল শুক্রবার বিমসটেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি একই তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, অগ্রগামী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে এনেছে। এ সময় যৌক্তিকতার ভিত্তিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ভারতের আগ্রহের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
দুই নেতার বৈঠকে সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন নরেন্দ্র মোদি। সীমান্তের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্যও এটি জরুরি। এ সময় পরিবেশকে উত্তপ্ত করতে পারে এমন ভাষার ব্যবহার এড়িয়ে চলার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৈঠকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের কথাও বলেন তিনি।
এদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দুই নেতার মধ্যে খুবই ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সীমান্তে হত্যা, তিস্তা চুক্তি।
তিনি আরও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। ভারতে বসে তিনি বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, সে বিষয়েও আলাপ হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ প্রশ্নে নিরব ভূমিকায় ভারত

আপডেট সময় : ১০:২৩:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা হয়। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যপনের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো সদোত্তর মিলেনি। এ বিষয়ে ভারত নিরব ভুমিকা পালন করছেন। শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সরকার প্রধানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে।
প্রেস সচিব বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতে বসে তিনি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, এসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বন্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথমবারের মতো অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলো। বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন ২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের সাথে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে ভারতের আগ্রহের কথা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমাধানের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
অপরদিকে ৪ এপ্রিল শুক্রবার বিমসটেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি একই তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, অগ্রগামী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে এনেছে। এ সময় যৌক্তিকতার ভিত্তিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ভারতের আগ্রহের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
দুই নেতার বৈঠকে সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর তিনি জোর দেন নরেন্দ্র মোদি। সীমান্তের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্যও এটি জরুরি। এ সময় পরিবেশকে উত্তপ্ত করতে পারে এমন ভাষার ব্যবহার এড়িয়ে চলার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বৈঠকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় বাংলাদেশ কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের কথাও বলেন তিনি।
এদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, দুই নেতার মধ্যে খুবই ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সীমান্তে হত্যা, তিস্তা চুক্তি।
তিনি আরও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। ভারতে বসে তিনি বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, সে বিষয়েও আলাপ হয়েছে।