ঢাকা ০৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শেষ সময় নওগাঁয় জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারনা

নওগাঁ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নওগাঁয় প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। দিন যত ঘনিয়ে আসছে প্রচার-প্রচারণা ব্যস্ত সময় পার করছে রাজনৈতিক দলগুলো। প্রার্থীরা ভোটারদের দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। কে যাবেন সংসদে তা নিয় চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে যিনিই বিজয়ী হোক না কেন এলাকায় শান্তি বজায় রাখা সহ দেশের উন্নয়ন করবেন এমন প্রত্যাশা ভোটারদের।
আর কয়েকদিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে চলছে প্রচারণা। শহর থেকে গ্রাম, সবখানেই প্রচারণা ব্যস্ত প্রার্থী। দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারণার তৎপরতা। সবশেষে ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের নেতৃত্ব। ভোটাররা শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না, তারা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চান। তবে যিনিই বিজয়ী হোক না কেন এলাকায় শান্তি বজায় রাখা সহ দেশের উন্নয়নে কাজ করবেন এমন প্রত্যাশা ভোটারদের।
প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ, পথসভা এবং উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এলাকার উন্নয়নে প্রার্থীরা নিজেদের তুলে ধরতে ভোটারদের দিচ্ছে নানা প্রতিশ্রুতি। এবারে নির্বাচনে বিভিন্ন দল অংশ নিলেও লড়াই হবে মুলত বড় দুই দল ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে। বড় ধরণের সংহিসতা না থাকলেও প্রার্থীরা একে-অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করছেন।
ভোটাররা বলছেন- বিগত দিনে ভোট শান্তিপূর্ণ না হলেও এবার সুষ্ঠু ও সুন্দর এবং উৎসবমুখর ভাবে ভোট গ্রহণ সম্পূন্ন হবে। তবে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারে এবং ভোট কেন্দ্রে কোন ধরণের বিড়ম্বনায় পড়তে না হয় এজন্য প্রশাসনের তৎপরতা জোরদার করতে হবে। ভোটারদের চাওয়া এলাকার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়ন। তবে যিনি বিজয়ী হয়ে সংসদে যাবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন এমন প্রত্যাশা ভোটারদের।
মহাদেবপুর উপজেলার জন্তি গ্রামের বয়জেষ্ঠ্য আশরাফ হোসেন বলেন- বিগত সময়ে অনেকে কেন্দ্রে ভোট দিতে যায়নি। তবে এবার যদি ভোটের পরিবেশ ভাল হয় এবং কেন্দ্রে যদি নিরাপত্তা থাকে তাহলে ভোট দিতে যাবো। তবে ভোটের পরিবেশ ভাল হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা কাজ করছে।
মান্দা উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের জুয়েল রানা বলেন- ভোটের আগে প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সংসদে যাওয়ার পর তা আর বাস্তবায়ন হয় না। আমরা প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইনা। বাস্তবায়ন চাই। যে প্রার্থী বিজয়ী হোক না কেন তিনি সংসদে গিয়ে এলাকার উন্নয়নের কথা ভাববেন এবং বেকারদের কর্মসংস্থান সহ কৃষিতে গুরুত্ব দিবেন এমন প্রত্যাশা করছি।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা: ইকরামুল বারী টিপু বলেন- বিগত সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম। সেসময় মানুষের দৌঁড়গোড়ায় যেতে পেরেছিলাম। অবহেলিত এ জনপদ উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন বলে আশাবাদী। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা করা হয়েছে। একটি পক্ষ ২৫০ টি লাঠি নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে অবস্থান করবে বলে প্রচার করছে। প্রশাসন সেসব কেন্দ্রতে নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ করেছি।
নওগাঁ-৪ (মান্দা)আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আব্দুর রাকিব বলেন- শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। সব কেন্দ্রেয় প্রশাসনের তদারকি বাড়াতে হবে। নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। অবহেলিত এ উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। আশাবাদী ভোটাররা এ আসনটি দাঁড়ায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন- মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। দীর্ঘ সময় পর তারা কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছে। আশাবাদী বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবো। কৃষি প্রধান জেলায় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ফলের হিমাগার ও গ্যাস এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। বিজয়ী হলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু একটি পক্ষ বিভিন্ন ভাবে অপপ্রচার করছে এবং রির্টানিং কর্মকর্তাকে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আ.স.ম সায়েম বলেন- দাঁড়িপাল্লার জোয়ার বইছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবেন। আশাবাদী বিজয়ী হবো এবং কৃষি প্রধান জেলার কৃষি উন্নয়নে কাজ করবো। তবে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে একটি পক্ষ বিভিন্ন ভাবে প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা প্রদান করছে। বিষয়গুলো রির্টানিং কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়- জেলায় ৬টি আসনে বিভিন্ন দলের ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। যেখানে ৭৮২ টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শেষ সময় নওগাঁয় জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারনা

আপডেট সময় :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নওগাঁয় প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। দিন যত ঘনিয়ে আসছে প্রচার-প্রচারণা ব্যস্ত সময় পার করছে রাজনৈতিক দলগুলো। প্রার্থীরা ভোটারদের দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। কে যাবেন সংসদে তা নিয় চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে যিনিই বিজয়ী হোক না কেন এলাকায় শান্তি বজায় রাখা সহ দেশের উন্নয়ন করবেন এমন প্রত্যাশা ভোটারদের।
আর কয়েকদিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে চলছে প্রচারণা। শহর থেকে গ্রাম, সবখানেই প্রচারণা ব্যস্ত প্রার্থী। দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারণার তৎপরতা। সবশেষে ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের নেতৃত্ব। ভোটাররা শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না, তারা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চান। তবে যিনিই বিজয়ী হোক না কেন এলাকায় শান্তি বজায় রাখা সহ দেশের উন্নয়নে কাজ করবেন এমন প্রত্যাশা ভোটারদের।
প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের গণসংযোগ, পথসভা এবং উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এলাকার উন্নয়নে প্রার্থীরা নিজেদের তুলে ধরতে ভোটারদের দিচ্ছে নানা প্রতিশ্রুতি। এবারে নির্বাচনে বিভিন্ন দল অংশ নিলেও লড়াই হবে মুলত বড় দুই দল ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে। বড় ধরণের সংহিসতা না থাকলেও প্রার্থীরা একে-অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করছেন।
ভোটাররা বলছেন- বিগত দিনে ভোট শান্তিপূর্ণ না হলেও এবার সুষ্ঠু ও সুন্দর এবং উৎসবমুখর ভাবে ভোট গ্রহণ সম্পূন্ন হবে। তবে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারে এবং ভোট কেন্দ্রে কোন ধরণের বিড়ম্বনায় পড়তে না হয় এজন্য প্রশাসনের তৎপরতা জোরদার করতে হবে। ভোটারদের চাওয়া এলাকার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়ন। তবে যিনি বিজয়ী হয়ে সংসদে যাবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন এমন প্রত্যাশা ভোটারদের।
মহাদেবপুর উপজেলার জন্তি গ্রামের বয়জেষ্ঠ্য আশরাফ হোসেন বলেন- বিগত সময়ে অনেকে কেন্দ্রে ভোট দিতে যায়নি। তবে এবার যদি ভোটের পরিবেশ ভাল হয় এবং কেন্দ্রে যদি নিরাপত্তা থাকে তাহলে ভোট দিতে যাবো। তবে ভোটের পরিবেশ ভাল হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা কাজ করছে।
মান্দা উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের জুয়েল রানা বলেন- ভোটের আগে প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সংসদে যাওয়ার পর তা আর বাস্তবায়ন হয় না। আমরা প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইনা। বাস্তবায়ন চাই। যে প্রার্থী বিজয়ী হোক না কেন তিনি সংসদে গিয়ে এলাকার উন্নয়নের কথা ভাববেন এবং বেকারদের কর্মসংস্থান সহ কৃষিতে গুরুত্ব দিবেন এমন প্রত্যাশা করছি।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা: ইকরামুল বারী টিপু বলেন- বিগত সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম। সেসময় মানুষের দৌঁড়গোড়ায় যেতে পেরেছিলাম। অবহেলিত এ জনপদ উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন বলে আশাবাদী। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা করা হয়েছে। একটি পক্ষ ২৫০ টি লাঠি নিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে অবস্থান করবে বলে প্রচার করছে। প্রশাসন সেসব কেন্দ্রতে নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ করেছি।
নওগাঁ-৪ (মান্দা)আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আব্দুর রাকিব বলেন- শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। সব কেন্দ্রেয় প্রশাসনের তদারকি বাড়াতে হবে। নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। অবহেলিত এ উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। আশাবাদী ভোটাররা এ আসনটি দাঁড়ায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোঃ জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন- মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। দীর্ঘ সময় পর তারা কেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছে। আশাবাদী বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবো। কৃষি প্রধান জেলায় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ফলের হিমাগার ও গ্যাস এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। বিজয়ী হলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু একটি পক্ষ বিভিন্ন ভাবে অপপ্রচার করছে এবং রির্টানিং কর্মকর্তাকে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আ.স.ম সায়েম বলেন- দাঁড়িপাল্লার জোয়ার বইছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিবেন। আশাবাদী বিজয়ী হবো এবং কৃষি প্রধান জেলার কৃষি উন্নয়নে কাজ করবো। তবে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে একটি পক্ষ বিভিন্ন ভাবে প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা প্রদান করছে। বিষয়গুলো রির্টানিং কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়- জেলায় ৬টি আসনে বিভিন্ন দলের ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। যেখানে ৭৮২ টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন।