সোনাইমুড়ীতে পিআইও মেশকাতুরের ঘুষ বানিজ্য
- আপডেট সময় : ১১০ বার পড়া হয়েছে
- কমিশন ছাড়া বিলে স্বাক্ষর করেন না, আবেদনে মিলে না তথ্য
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেশকাতুর রহমানের বিরুদ্ধে ঠিকাদার,ইউপি চেয়ারম্যান ,মেম্বার ও প্রকল্প সভাপতিদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নামেবেনামে ভুয়া প্রকল্প গ্রহণ, প্রকল্প বাবদ অর্থ আত্মসাৎ, এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য।
অপর দিকে, তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেও মিলছে পিআইও অফিসের তথ্য।একাধিক আবেদন ফাইলবন্দী পড়ে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত ২০২৩ -২০২৪ অর্থবছরের টিআর- কাবিখা প্রকল্প তথ্য চেয়ে আবেদন করলে পিআইও মোশকাতুর রহমান তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
উপজেলা পরিষদের সামনে ১০ জন ঠিকাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এমন অভিযোগ করেন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সোনাইমুড়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে পিআইও মেশকাতুর রহমান নির্ধারিত প্রকল্পের জন্য কাজের মূল্য থেকে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দাবি করেন। ঠিকাদার ও ইউপি চেয়ারম্যান বা মেম্বাররা কমিশন না দিলে বিল আটকে রাখা, অফিসে দুর্ব্যবহার এবং অসম্মানজনক মন্তব্য করাসহ নানা ধরনের হয়রানি করেন তিনি।উপজিলা পিআইও অফিসে কোন লোক এসে অফিস সময়ে তাকে পান না।অফিসের বাহিরে দরজায় তালা বন্ধ থাকে। রাতের বেলায় তিনি এসে অফিস করেন বলে উপজেলা পরিষদের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বরাদ্দের চাউল/ গম বিক্রির অভিযোগে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজর এলে তদন্ত করা হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাহসিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মিজান অভিযোগ করে জানান, তিনি উপজেলার আব্দুল্লাহর হাট এলাকায় একটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ নেন।ব্রীজটি প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে।
প্রায় সময় পিআইও মিশকাতুর রহমান প্রকল্প এলাকায় গিয়ে গাড়ি ভাড়া দাবি করেন। তিনি কয়েকবার টাকা দিয়েছেন।বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেয়ার পরও হয়রানি করতে থাকে। প্রথম বিল ছাড় দিতে তিনি কিছু টাকা দিয়েছেন। বর্তমানের তৃতীয় বিল দিতে ১০% কমিশন চাচ্ছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ই ল্যাব এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সজীব অভিযোগ করে জানান, সে বিগত সময়ে এ উপজেলা ৭ টি মুক্তিযোদ্ধার ঘর নির্মাণের কাজ নেন।উপজেলা পিআইও মিশকাতুর রহমান যোগদানের পর থেকেই তার কাছে ৪% কমিশন দাবি করে আসছে। দাবিকৃত কমিশন না দেয়ায় বিল ছাড় দিতে ঘড়িমসি করছে।
একইভাবে ঠিকাদার শাহীন অভিযোগ করে জানান,সে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মনি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারীর কাছ থেকে ৬ টি কালভাট নির্মাণের কাজ ক্রয় করেন। বর্তমানে নির্মাণ কাজ শেষ। পিআইও মিশকাতুর রহমান বিলে স্বাক্ষর করতে ১৫% কমিশন চাচ্ছে।তিনি কাজের বিল নিতে কয়েকবার উপজেলা পরিষদে এসে ফেরত গিয়েছেন। আজও তিনি এসেছেন। পিআইও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে হয়রানি করছে।
ঠিকাদার বদিউল আলম বাদল বলেন, তিনি এসএইচ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ হোসেন থেকে ৩ টি ব্রিজ নির্মাণের কাজ ক্রয় করেন। পিআইও মিশকাতুল রহমান ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে বিলে স্বাক্ষর করতে ১০% কমিশন চাচ্ছেন।
অভিযোগ উঠেছে, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্প গুলোতে ২০% কমিশন শর্তে বিলে স্বাক্ষর করে থাকেন এ পিআইও এমন অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মেম্বার ও প্রকল্প সভাপতিদের। ২০২৪- ২০২৫ অর্থ বছরে সাধারণ (কাবিটা) প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা পরিষদ অভ্যন্তরে ছোট পুকুর খনন ও গাইড ওয়াল নির্মাণে প্রকল্প দেন পিআইও মিশকাতুর রহমান। প্রায় ৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দে প্রকল্প সভাপতি দেন তারই ঠিকাদার আমির হোসেনকে।প্রকল্প সভাপতি নিজেই জানেন না কত টাকার কাজ করিয়েছেন। পিআইও নিজেই নামে মাত্র কাজ করে বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউপি সদস্য বলেন, পিআইও মিশকাতুল রহমান প্রকল্পের বিলে স্বাক্ষর করতে নির্দিষ্ট অংকের কমিশন নেন। এ বিষয়টি সত্য। বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছে। এই সুযোগে পিআইও নিজের ইচ্ছামত লোকজনদেরকে দিয়ে প্রকল্পের কাজ করাচ্ছে। প্রকল্প দিতে স্বজনপ্রীতিও করছেন।
সোনাইমুড়ী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, তার বাড়ির সামনে বিগত সরকারের আমলে একটি ব্রীজ নির্মাণের বরাদ্দ হয়। পিআইও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তার কাছ থেকে ব্রিজ নির্মাণের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেন।
নোয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, তার কাছেও একজন ঠিকাদার মৌখিক অভিযোগ করেছেন। তখন পিআইও ট্রেনিংয়ে ছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিশকাতুর রহমানের মুঠোফোনের জানান, তার অফিস থেকে কোন তথ্য সরবরাহ করা যাবে না। যা পারেন।আপনারা সাংবাদিকরা করেন।












