ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বাগাতিপাড়ায় অবৈধভাবে বড়াল নদীর মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ

রাজিবুল ইসলাম বাবু, নাটোর
  • আপডেট সময় : ১৩০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের জালালপুর, বাঁশবাড়িয়া এলাকায় নদী থেকে অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদে এই মাটি দেয়ার কথা বলে উত্তোলন করা হলেও, সামান্য কিছু মাটি মসজিদে দেওয়া হচ্ছে। আর বাকিটা বাণিজ্যিক কাজে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলেন, ‘মসজিদের জন্য মাটি নেওয়া হচ্ছে বলে বলা হলেও, মসজিদে পৌঁছানো মাটির পরিমাণ খুবই কম। অধিকাংশ মাটি বিক্রি হচ্ছে অন্যত্র।’
বাঁশবাড়িয়া এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘মসজিদের নামে মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ মাটি উত্তোলনের ঘটনায় স্থানীয় রুবেল আলী ও ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী জড়িত রয়েছেন। তারা স্থানীয় বিএনপির নেতা বলে জানা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রভাব থাকার কারণে এ ধরনের কর্মকাণ্ড তারা দীর্ঘদিন ধরে করে গেলেও প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করছে।এদিকে নদী কেটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর প্রকৃতি ও গতিপথ বদলে যাচ্ছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে অনুমতি ছাড়া মাটি উত্তোলন ও বিক্রি করা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দীর্ঘদিন থেকে এই অবৈধ ব্যবসা করে আসছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আইয়ুব আলীর কাছে জনাতে চাইলে তিনি বলেন, রুবেল মাটি কাটতেছে মসজিদে দেবার জন্য। আমরা মসজিদের জন্য তাকে নামমাত্র খরচ দিয়ে মাটি কাটাচ্ছি। তবে মাটি বাহিরে বিক্রি হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানা নাই।
এ বিষয়ে রুবেল আলী বলেন, আমাকে মসজিদ কমিটি কাটতে বলেছে আমি তাই করেছি। তবে মাটি বিক্রয়ের বিষয়ে জানা নাই।
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মেহেদী হাসান বলেন, অনুমতি ছাড়া কোন ভাবেই মাটি কাটা যাবেনা। বিষয়টি সম্পর্কে খোজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মসজিদের পবিত্র নাম ব্যবহার করে নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রি করা ধর্মীয় বিশ্বাসের অপব্যবহার ও আইনবিরুদ্ধ কাজ। এটি পরিবেশের জন্যও বিপজ্জনক। অভিযোগ ওঠা দুই নেতা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। প্রশাসন যেন দ্রুত এবং স্বচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে পারে এটাই এলাকার সাধারণ মানুষের চাওয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বাগাতিপাড়ায় অবৈধভাবে বড়াল নদীর মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ

আপডেট সময় :

 

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের জালালপুর, বাঁশবাড়িয়া এলাকায় নদী থেকে অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদে এই মাটি দেয়ার কথা বলে উত্তোলন করা হলেও, সামান্য কিছু মাটি মসজিদে দেওয়া হচ্ছে। আর বাকিটা বাণিজ্যিক কাজে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলেন, ‘মসজিদের জন্য মাটি নেওয়া হচ্ছে বলে বলা হলেও, মসজিদে পৌঁছানো মাটির পরিমাণ খুবই কম। অধিকাংশ মাটি বিক্রি হচ্ছে অন্যত্র।’
বাঁশবাড়িয়া এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘মসজিদের নামে মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ মাটি উত্তোলনের ঘটনায় স্থানীয় রুবেল আলী ও ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী জড়িত রয়েছেন। তারা স্থানীয় বিএনপির নেতা বলে জানা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রভাব থাকার কারণে এ ধরনের কর্মকাণ্ড তারা দীর্ঘদিন ধরে করে গেলেও প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করছে।এদিকে নদী কেটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর প্রকৃতি ও গতিপথ বদলে যাচ্ছে। এতে আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে অনুমতি ছাড়া মাটি উত্তোলন ও বিক্রি করা হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দীর্ঘদিন থেকে এই অবৈধ ব্যবসা করে আসছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আইয়ুব আলীর কাছে জনাতে চাইলে তিনি বলেন, রুবেল মাটি কাটতেছে মসজিদে দেবার জন্য। আমরা মসজিদের জন্য তাকে নামমাত্র খরচ দিয়ে মাটি কাটাচ্ছি। তবে মাটি বাহিরে বিক্রি হচ্ছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানা নাই।
এ বিষয়ে রুবেল আলী বলেন, আমাকে মসজিদ কমিটি কাটতে বলেছে আমি তাই করেছি। তবে মাটি বিক্রয়ের বিষয়ে জানা নাই।
বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মেহেদী হাসান বলেন, অনুমতি ছাড়া কোন ভাবেই মাটি কাটা যাবেনা। বিষয়টি সম্পর্কে খোজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মসজিদের পবিত্র নাম ব্যবহার করে নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রি করা ধর্মীয় বিশ্বাসের অপব্যবহার ও আইনবিরুদ্ধ কাজ। এটি পরিবেশের জন্যও বিপজ্জনক। অভিযোগ ওঠা দুই নেতা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। প্রশাসন যেন দ্রুত এবং স্বচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে পারে এটাই এলাকার সাধারণ মানুষের চাওয়া।