কেশবপুরে নির্যাতনে গৃহবধুর ৭ মাসের গর্ভের সন্তানের মৃত্যু
- আপডেট সময় : ১৩২ বার পড়া হয়েছে
যৌতুক লোভী ও পর নারী আশক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক উজ্জল বিশ্বাসের নির্বাতনে গৃহবধু বৃষ্টির ৭ মাসের গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (২২) জুলাই সন্ধায় কেশবপুর হেলথ কেয়ার হসপিটালে সে মৃত ছেলে সন্তান প্রসব করে। এব্যাপারে বৃষ্টি সাহা বিচার চেয়ে মনিরামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ করলেও কোন বিচার পায়নি। হাসপাতাল ও বৃষ্টির পরিবার সূত্রে জানা যায়, যশোরের কেশবপুর পৌর শহরের মধ্যকুল সাহাপাড়ার দিন মজুর ভনজ সাহার ছোট মেয়ে বৃষ্টি সাহার (২২) গত ১৫/১২/২০২৪ তারিখে পার্শ্ববর্তি মনিরামপুর উপজেলার সুন্দলি বাজারের পাশে কৃষ্ণপদ বিশ্বাসের ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক উজ্জল বিশ্বাসের (২৮) সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবীতে তার স্বামী ও শাশুড়ি জয়ন্তি বিশ্বাস তার ওপর শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো । এরই মধ্যে বৃষ্টি ৮ মাসের গর্ভবতি হয়ে পড়ে। চলতি জুলাই মাসের ১৫ তারিখে বৃষ্টিকে একই ভাবে মারপিট করে তার স্বামী ও শাশুড়ি। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর তাকে তার পিতার বাড়ি কেশবপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখানে তার পিতা-মাতা তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে থাকে। ২০ জুলাই বৃষ্টি অসুস্থতা বোধ করলে তার পরিক্ষা নিরিক্ষা করার জন্য তাকে কেশবপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। এরপর তার গর্ভের সন্তান কেমন আছে দেখার জন্য হেলথ কেয়ার হসপিটালে নিয়ে আল্ট্রসোনোগ্রাফি করা হয়। এসময় কর্মরত ডাক্তার তাদেরকে জানান বৃষ্টির গর্ভে থাকা সন্তান মারা গেছে। ওই দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বৃষ্টিকে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করে। এখানে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়ায় বৃষ্টির পরিবার আবার তাকে ২১ জুলাই কেশবপুর হেলথ কেয়ার হসপিটালে এনে ভর্তি করে। এখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সন্ধায় বৃষ্টি মৃত সন্তান প্রসব করে। শিক্ষক উজ্জল বিশ্বাস এর পূর্বে তাদের বাড়ির পাশে মশিহাটি গ্রামে বিবাহ করেছিল। তার প্রথম স্ত্রীকে নির্যাতন করে তাকেও তারা তাড়িয়ে দেয়। গৃহবধু বৃষ্টি বলেন, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবীতে তার স্বামী ও শাশুড়ি তার ওপর শারিরিক ও মানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে।
এছাড়া তার স্বামী উজ্জল একাধিক পর নারীতে আশক্ত। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করলেও তাকে পারপিট করতো। শিক্ষক উজ্জল বলেন, তিনি দুইটি বিবাহ করেছেন। প্রথম স্ত্রী চলে যায়। এরপর তিনি কেশবপুরে বিবাহ করে। ২য় স্ত্রীর সাথেও তার মত বিরোধ দেখা দিলে তাকে তার পিতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের বিষয়টি সঠিক না।













