ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ঘুষ না দেওয়ায় অতিরিক্ত ফি দিতে হয় দোহাজারী পৌরসভায়

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২০৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের দোহাজারী পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্স করতে ঘুষ না দিলে অতিরিক্ত ফি দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক বিধান বড়ুয়া বিরুদ্ধে সেবা প্রার্থীকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী মৃধা লিটন। তিনি আরকান রোডস্থ মেসার্স কৃষি ভান্ডার প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি প্রতিনিধিকে অভিযোগ করে জানান, নিয়মিত ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি বাবদ ১ হাজার ৬ শত ২৫ টাকা দিয়ে তার ছেলে মো. মুতাসিম ফুয়াদকে পৌরসভায় পাঠান। যথারিতি ২২ জুলাই (মঙ্গলবার) ব্যাংক রশিদ মারফত লাইসেন্স ফি ৫’শ, সাইনবোর্ড ফি ৫’শ, নতুন বই ফি ৫০ টাকা, ভ্যাট- ৭৫ টাকা ও আয়কর বাবদ ৫’শ টাকাসহ সর্বমোট ১ হাজার ৬’শ ২৫ টাকা জমা প্রদান করে লাইসেন্সের আবেদন করেন। পরের দিন ২৩ জুলাই নবায়নকৃত নতুন লাইসেন্স আনতে গেলে বিধান বড়ুয়া ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। এই বিষয়ে কারণ জানতে চাইলে বলেন, দোহাজারীর বাহিরের ব্যবসায়ীদের নিকট অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হয় বলে জানান বিধান। রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অপরাগতা জানাইলে তিনি সাইনবোর্ড ফি বাবদ ৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত ফি জমা দিতে রশিদ দেন। তীব্র প্রতিবাদ করলে তিনি ৪ হাজার টাকা কেটে তার পরবর্তীতে ব্যাংক রশিদে ২ হাজার টাকা জমা করাতে বাধ্য করান। তখন তিনি মুখ ফসকে বলে ফেলেন যে, প্রতিবাদ না করলে ৪ হাজার টাকা আদায় করতেন। বাধ্য হয়ে তিনি ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কীট নাশকের পাইকারী ও খুচরা লাইসেন্স, বীজের লাইসেন্স, বিএডিসি লাইসেন্স, বাংলাদেশ সীড এসোসিয়েশন লাইসেন্সসহ প্রায় ৬/৭টি লাইসেন্স করতে না পেরে ব্যবসা বন্ধ করে পথে বসার হুমকীতে আছেন বলে জানান। অন্য কোন উপায় না পেয়ে ঘুষের বদলে অতিরিক্ত ২’ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে জোর করে বাধ্য করেন। এই হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযুক্ত লাইসেন্স পরিদর্শক বিধান বড়ুয়ার যথাযথ শাস্তি কামনা করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিলে দোহাজারী পৌরসভা দূর্নীতিমুক্ত হবে বলে আশা করেন। এই বিষয়ে বিধান বড়ুয়ার নিকট জানতে চাইলে, তিনি জানান সাইনবোর্ড ফি বাবদ প্রথমে কম জমা দেওয়া হয়েছিল সেটি পুণরায় আদায় করা হয়। অভিযোগকারী বাহিরের লোক নিয়ে আসায় তাকে সুবিধাভোগী মনে করে বাহিরের ব্যবসায়ীর নিকট অতিরিক্ত টাকা আদায় করার কথা বলেছেন বলে স্বীকার করেন। এই বিষয়ে দোহাজারী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামসুদ্দিন জানান বিষয়টি জেনে তিনি পরে মন্তব্য করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ঘুষ না দেওয়ায় অতিরিক্ত ফি দিতে হয় দোহাজারী পৌরসভায়

আপডেট সময় :

চট্টগ্রামের দোহাজারী পৌরসভায় ট্রেড লাইসেন্স করতে ঘুষ না দিলে অতিরিক্ত ফি দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক বিধান বড়ুয়া বিরুদ্ধে সেবা প্রার্থীকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী মৃধা লিটন। তিনি আরকান রোডস্থ মেসার্স কৃষি ভান্ডার প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি প্রতিনিধিকে অভিযোগ করে জানান, নিয়মিত ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি বাবদ ১ হাজার ৬ শত ২৫ টাকা দিয়ে তার ছেলে মো. মুতাসিম ফুয়াদকে পৌরসভায় পাঠান। যথারিতি ২২ জুলাই (মঙ্গলবার) ব্যাংক রশিদ মারফত লাইসেন্স ফি ৫’শ, সাইনবোর্ড ফি ৫’শ, নতুন বই ফি ৫০ টাকা, ভ্যাট- ৭৫ টাকা ও আয়কর বাবদ ৫’শ টাকাসহ সর্বমোট ১ হাজার ৬’শ ২৫ টাকা জমা প্রদান করে লাইসেন্সের আবেদন করেন। পরের দিন ২৩ জুলাই নবায়নকৃত নতুন লাইসেন্স আনতে গেলে বিধান বড়ুয়া ২ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। এই বিষয়ে কারণ জানতে চাইলে বলেন, দোহাজারীর বাহিরের ব্যবসায়ীদের নিকট অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হয় বলে জানান বিধান। রশিদ ছাড়া টাকা দিতে অপরাগতা জানাইলে তিনি সাইনবোর্ড ফি বাবদ ৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত ফি জমা দিতে রশিদ দেন। তীব্র প্রতিবাদ করলে তিনি ৪ হাজার টাকা কেটে তার পরবর্তীতে ব্যাংক রশিদে ২ হাজার টাকা জমা করাতে বাধ্য করান। তখন তিনি মুখ ফসকে বলে ফেলেন যে, প্রতিবাদ না করলে ৪ হাজার টাকা আদায় করতেন। বাধ্য হয়ে তিনি ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কীট নাশকের পাইকারী ও খুচরা লাইসেন্স, বীজের লাইসেন্স, বিএডিসি লাইসেন্স, বাংলাদেশ সীড এসোসিয়েশন লাইসেন্সসহ প্রায় ৬/৭টি লাইসেন্স করতে না পেরে ব্যবসা বন্ধ করে পথে বসার হুমকীতে আছেন বলে জানান। অন্য কোন উপায় না পেয়ে ঘুষের বদলে অতিরিক্ত ২’ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে জোর করে বাধ্য করেন। এই হয়রানির বিরুদ্ধে অভিযুক্ত লাইসেন্স পরিদর্শক বিধান বড়ুয়ার যথাযথ শাস্তি কামনা করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিলে দোহাজারী পৌরসভা দূর্নীতিমুক্ত হবে বলে আশা করেন। এই বিষয়ে বিধান বড়ুয়ার নিকট জানতে চাইলে, তিনি জানান সাইনবোর্ড ফি বাবদ প্রথমে কম জমা দেওয়া হয়েছিল সেটি পুণরায় আদায় করা হয়। অভিযোগকারী বাহিরের লোক নিয়ে আসায় তাকে সুবিধাভোগী মনে করে বাহিরের ব্যবসায়ীর নিকট অতিরিক্ত টাকা আদায় করার কথা বলেছেন বলে স্বীকার করেন। এই বিষয়ে দোহাজারী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামসুদ্দিন জানান বিষয়টি জেনে তিনি পরে মন্তব্য করবেন।