পল্লী জীবিকায়ন জনবল রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি
- আপডেট সময় : ৪০২ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) পল্লী জীবিকায়ন কর্মসূচির জনবলকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে গতকাল রোবাবর রাজধানীর কাওরান বাজারে পল্লী ভবন চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিআরডিবির মহাপরিচালক সরদার কেরামত আলীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, পল্লী জীবিকায়ন কর্মসূচি ১৯৯৩ সালে আরপিসিপি নামে ৮২টি উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করে। ক্ষুদ্রঋণ, সঞ্চয় ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র দূরীকরণই এর মূল লক্ষ্য ছিল। ১৯৯৮ সালে আরও ৭০টি উপজেলা যুক্ত হয়ে প্রকল্পটির নাম হয় পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প। ২০১২ সালে আবারও সম্প্রসারণ করে ৩৮টি উপজেলা যোগ করা হয় এবং আরএলপি-২ নামে প্রকল্পটি পুনর্গঠিত হয়। সে সময় অনুমোদিত সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্পমেয়াদ শেষে সব জনবলকে রাজস্ব খাতে নেওয়ার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে প্রকল্পের মেয়াদান্তে বিআরডিবি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত এড়িয়ে কর্মসূচি হিসেবে এটি চালিয়ে যেতে থাকে। পরবর্তীতে ২০২১ সালে নতুন করে আরও ৩০টি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করে পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায় শুরু হলে দুই হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পটি বিএনপি সরকারের সময়ে শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক কারণে পূর্ববর্তী সরকার আমলে বারবার বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করেও আর্থিকভাবে তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বলে অভিযোগ করেন। ১৯৯৩ সালে জাতীয় বেতন স্কেলে নিয়োগ দেওয়া হলেও ১৯৯৮ সালে তা বাতিল করে সাকুল্য বেতন চালু করা হয়। ২০১২ সালে মাঠ-সংগঠকদের ১২তম গ্রেড বাতিল করে ১৪তম গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়। এসব কারণে বহু কর্মকর্তা-কর্মচারী বছরের পর বছর অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করছেন। কেউ কেউ অবসর বয়সে পৌঁছে গেছেন, বাকিদেরও অন্য কোথাও চাকরি পাওয়ার সুযোগ নেই।
তাদের দাবি, উচ্চ আদালতের রায়ে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির নির্দেশনা পাওয়া সত্ত্বেও বিআরডিবি তা বাস্তবায়ন করছে না। এ অবস্থায় বাধ্য হয়েই তারা মাঠে নেমেছেন এবং দাবি পূরণ না হলে সচিবালয়ের সামনে অবস্থানসহ বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন বলে জানান।
সমাবেশে ২২০ উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিআরডিবি কর্মচারী ইউনিয়ন (বি–১৯২৫), সিবিএ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এ.কে.এম মনিরুল হক, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান শেখসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।



















