ঢাকা ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

ফেনী-৩ আসনে উচ্ছ্বাসিত বিএনপি, প্রচারণায় জামায়াত

শাখাওয়াত হোসেন টিপু, দাগনভূঞা
  • আপডেট সময় : ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যান্য স্থানের মত ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনেও নির্বচনী হাওয়া লেগেছে। ইতোমধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজ নিজ দলের পক্ষে এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এরা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডাক্তার ফখরুদ্দিন মানিক। এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী ভোটের মাঠে আলোচনায় থাকলেও জামায়াত প্রার্থী নিরলসভাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু বিএনপি প্রার্থীর এখনো নির্বাচনী মাঠে নামতে দেখা যায়নি। সোনাগাজী উপজেলার একটি পৌরসভা, ৯টি ইউনিয়ন ও দাগনভূঞা উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ফেনী-৩ আসনটি গঠিত।
এ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জামায়াতের অপেক্ষাকৃত তরুণ কিন্তু বেশ জনপ্রিয় প্রার্থী। তাই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে নবীন-প্রবীণের লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।
জানা যায়, ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ তিন হাজার ৬৭৮ জন। তার মধ্যে সোনাগাজী অংশে দুই লাখ ৫৫ হাজার ১৮৫ জন এবং দাগনভুঞা অংশে ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৪৮ হাজার ৪৯৩ জন।
এদিকে আসনটির সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলায় বিএনপির কমিটি নিয়ে প্রকাশ্যে চলছে বিরোধ। পাল্টাপাল্টি শোডাউন, সংঘাত, বহিষ্কার ও ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের মধ্যস্থতায় দুপক্ষকে নিয়ে দফায় দফায় সমঝোতা বৈঠক হলেও এখনো বিরোধ মেটেনি। প্রকাশ্য কোন্দলের কারণে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত। এ নিয়ে তৃণমূলে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ।
এর মাঝেই গত সপ্তাহে দলীয় হাইকমান্ড থেকে আবদুল আউয়াল মিন্টুকে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সোনাগাজীতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলুর নেতৃত্বে এবং দাগনভূঞায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মিন্টুর ছোট ভাই আকবর হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের একাংশকে নিয়ে আনন্দ মিছিল করে।
দলীয় দ্বিধাবিভক্তির কারণে সোনাগাজী বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন সেন্টু এবং দাগনভূঞায় বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবুল হাসেম বাহাদুর ও পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কাজী সাইফুর রহমান স্বপন এবং তার ছোট ভাই জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা কাজী জামশেদুর রহমান ফটিকের নেতৃত্বাধীন বিবদমান অপর অংশের নেতাকর্মীরা এসব কর্মসূচি এড়িয়ে চলছেন।
এরই মধ্যে নিজেদের গ্রুপের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগে আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই আকবরকে দায়ী করে কয়েক দিন আগেও দাগনভূঞা শহরে প্রতিবাদী বিক্ষোভ করেছেন ফটিকের নেতৃত্বে মিন্টু পরিবারের প্রতিপক্ষরা। এসব কারণে এখনো আসনটিতে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান। যার প্রভাব পড়তে পারে ভোটের মাঠে।
অন্যদিকে এ আসনে পোস্টার লাগিয়ে নিজের প্রার্থিতা জানান দিয়েছেন জেএসডি (রব) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। বিগত সময়ে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ আন্দোলনের অবদান হিসেবে শরিক থেকে তিনি আসনটি দাবি করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
অপরদিকে, এই আসনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিকও। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর চরম জুলুম-নির্যাতনের শিকার হন দল ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা। নির্যাতনের খড়া থেকে বাদ যাননি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এই কেন্দ্রীয় সভাপতি। প্রায় ৮০টি মামলায় কারাগার ও আদালতের কাঠগড়ায় কাটিয়েছেন বেশ কয়েক বছর। ছাত্রসংগঠন থেকে বিদায়ের পর জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হয়েই ফেনী-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পান তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে দাগনভূঞা-সোনাগাজীর প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ডা. মানিক ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। কয়েক মাস আগে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান দাগনভূঞায় সমাবেশে মানিককে দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। সেই থেকে ব্যাপক প্রচারণার মধ্য দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদেরও উজ্জীবিত করে রেখেছেন তিনি।
এর বাইরেও আসনটিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (মামুনুল হক) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা এনামূল হক মুসা, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ আলি মিল্লাত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগরের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সাইফুদ্দিন শিপনকে নিজ নিজ দলের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তারাও নিজ দলের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির পক্ষ থেকেও একজন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।
২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে এ আসনটির সীমানা ছিল সোনাগাজী উপজেলা ও ফেনী সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা পরিবর্তন হয়ে ফেনী-২ আসন থেকে দাগনভূঞাকে কেটে ফেনী-৩ আসনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এ আসন দাঁড়িয়েছে সোনাগাজী উপজেলার একটি পৌরসভা, ৯টি ইউনিয়ন ও দাগনভূঞা উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে।
সাধারণ ভোটারদের মতে, শেষ পর্যন্ত বিএনপি থেকে আবদুল আউয়াল মিন্টু ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনি মাঠে নামলে তার সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াত প্রার্থী ডা. মানিকের।
দাগনভূঞা-সোনাগাজী উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। এখানে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নের ঘোষণায় নেতাকর্মীরা আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও দলের দুই উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্যে দুই ধারায় বিভক্ত (উপজেলা ও পৌরসভার কমিটি গঠন কে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্ব বিভিন্নসময় সংঘাত-সহিংসতায়ও রূপ নেয়। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ নির্বাচনী এলাকায় ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়ে মাঠে নামার আগেই দ্বন্দ্ব নিরসনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন মিন্টু। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন, মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী প্রচারে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুই উপজেলায় দলীয় গ্রুপিং-কোন্দল মিটিয়ে তৃণমূল গোছাতে কাজ করছেন। এর আগেও তিনি সবাইকে এক কাতারে আনার জন্য বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করেন।তার ছোট ভাই মো: আকবর হোসেন দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক। ২০১৮ সালে তিনি এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর আগে আকবর দাগনভূঞা পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। দাগনভূঞা উপজেলার প্রথম দুই দফা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আবদুল আউয়াল মিন্টুর পিতা হাজী সফিউল্লাহ। বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমমনা রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আসন সমন্বয় শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে বিএনপি। মাঠ জরিপের ফলাফল, তৃণমূলের মতামত ও নীতিনির্ধারক পর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম ঘোষনা করা হয়। এরপরই তিনি নির্বাচন ঘিরে তারেক রহমানের নির্দেশে তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছেন। ধাপে ধাপে এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে বৈঠক করছেন। অনেকে স্বতস্ফূর্তভাবে তার সাথে দেখা করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন এবং নিজ নিজ এলাকায় প্রচার-প্রচারনা শুরু করছেন।
এদিকে আবদুল আউয়াল মিন্টু এলাকায় আসলে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন দুই উপজেলার নেতারা।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো: আকবর হোসেন জানান, দলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারন ভোটাররা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে মাঠে থাকার কথা জানান দিচ্ছেন। আগামী নির্বাচন দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনে জয়ী হতে দলের মধ্যে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে দল থেকে মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত আব্দুল আউয়াল মিন্টু নির্বাচনে অংশ নিবেন কিনা এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। জানতে চাইলে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জনাব মিন্টু। ইতিমধ্যে তিনি নানা প্রস্তুতিমুলক কাজ করছেন বলেও জানান। দলের তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মী ছাড়াও এলাকাবাসীর সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। কয়েকদিনের মধ্যে ফেনী আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।
আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ফেনী-৩ তথা দাগনভূঞা সোনাগাজী অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই কাঙ্খিত উন্নয়ন বঞ্চিত। এককথায় অবহেলিত জনপদ। তিনি নির্বাচিত হলে, সবাইকে নিয়ে এ অঞ্চলের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রায়ো
রিটি বেসিসে সমাধানের চেষ্টা করবেন। তিনি আরও বলেন, মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে। আশা করবো বর্তমান অন্তবর্তী সরকার সবার অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ফেনী-৩ আসনে উচ্ছ্বাসিত বিএনপি, প্রচারণায় জামায়াত

আপডেট সময় :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যান্য স্থানের মত ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনেও নির্বচনী হাওয়া লেগেছে। ইতোমধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নিজ নিজ দলের পক্ষে এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এরা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিল্পপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ডাক্তার ফখরুদ্দিন মানিক। এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থী ভোটের মাঠে আলোচনায় থাকলেও জামায়াত প্রার্থী নিরলসভাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু বিএনপি প্রার্থীর এখনো নির্বাচনী মাঠে নামতে দেখা যায়নি। সোনাগাজী উপজেলার একটি পৌরসভা, ৯টি ইউনিয়ন ও দাগনভূঞা উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে ফেনী-৩ আসনটি গঠিত।
এ আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীর বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জামায়াতের অপেক্ষাকৃত তরুণ কিন্তু বেশ জনপ্রিয় প্রার্থী। তাই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে নবীন-প্রবীণের লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা।
জানা যায়, ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ তিন হাজার ৬৭৮ জন। তার মধ্যে সোনাগাজী অংশে দুই লাখ ৫৫ হাজার ১৮৫ জন এবং দাগনভুঞা অংশে ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৪৮ হাজার ৪৯৩ জন।
এদিকে আসনটির সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলায় বিএনপির কমিটি নিয়ে প্রকাশ্যে চলছে বিরোধ। পাল্টাপাল্টি শোডাউন, সংঘাত, বহিষ্কার ও ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের মধ্যস্থতায় দুপক্ষকে নিয়ে দফায় দফায় সমঝোতা বৈঠক হলেও এখনো বিরোধ মেটেনি। প্রকাশ্য কোন্দলের কারণে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত। এ নিয়ে তৃণমূলে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ।
এর মাঝেই গত সপ্তাহে দলীয় হাইকমান্ড থেকে আবদুল আউয়াল মিন্টুকে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সোনাগাজীতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলুর নেতৃত্বে এবং দাগনভূঞায় উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মিন্টুর ছোট ভাই আকবর হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের একাংশকে নিয়ে আনন্দ মিছিল করে।
দলীয় দ্বিধাবিভক্তির কারণে সোনাগাজী বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন সেন্টু এবং দাগনভূঞায় বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবুল হাসেম বাহাদুর ও পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কাজী সাইফুর রহমান স্বপন এবং তার ছোট ভাই জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা কাজী জামশেদুর রহমান ফটিকের নেতৃত্বাধীন বিবদমান অপর অংশের নেতাকর্মীরা এসব কর্মসূচি এড়িয়ে চলছেন।
এরই মধ্যে নিজেদের গ্রুপের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগে আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই আকবরকে দায়ী করে কয়েক দিন আগেও দাগনভূঞা শহরে প্রতিবাদী বিক্ষোভ করেছেন ফটিকের নেতৃত্বে মিন্টু পরিবারের প্রতিপক্ষরা। এসব কারণে এখনো আসনটিতে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান। যার প্রভাব পড়তে পারে ভোটের মাঠে।
অন্যদিকে এ আসনে পোস্টার লাগিয়ে নিজের প্রার্থিতা জানান দিয়েছেন জেএসডি (রব) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। বিগত সময়ে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ আন্দোলনের অবদান হিসেবে শরিক থেকে তিনি আসনটি দাবি করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
অপরদিকে, এই আসনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিকও। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর চরম জুলুম-নির্যাতনের শিকার হন দল ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা। নির্যাতনের খড়া থেকে বাদ যাননি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এই কেন্দ্রীয় সভাপতি। প্রায় ৮০টি মামলায় কারাগার ও আদালতের কাঠগড়ায় কাটিয়েছেন বেশ কয়েক বছর। ছাত্রসংগঠন থেকে বিদায়ের পর জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হয়েই ফেনী-৩ আসনে দলীয় মনোনয়ন পান তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে দাগনভূঞা-সোনাগাজীর প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ডা. মানিক ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। কয়েক মাস আগে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান দাগনভূঞায় সমাবেশে মানিককে দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। সেই থেকে ব্যাপক প্রচারণার মধ্য দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদেরও উজ্জীবিত করে রেখেছেন তিনি।
এর বাইরেও আসনটিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (মামুনুল হক) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা এনামূল হক মুসা, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ আলি মিল্লাত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগরের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সাইফুদ্দিন শিপনকে নিজ নিজ দলের একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তারাও নিজ দলের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির পক্ষ থেকেও একজন দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।
২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে এ আসনটির সীমানা ছিল সোনাগাজী উপজেলা ও ফেনী সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা পরিবর্তন হয়ে ফেনী-২ আসন থেকে দাগনভূঞাকে কেটে ফেনী-৩ আসনে সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এ আসন দাঁড়িয়েছে সোনাগাজী উপজেলার একটি পৌরসভা, ৯টি ইউনিয়ন ও দাগনভূঞা উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে।
সাধারণ ভোটারদের মতে, শেষ পর্যন্ত বিএনপি থেকে আবদুল আউয়াল মিন্টু ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনি মাঠে নামলে তার সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াত প্রার্থী ডা. মানিকের।
দাগনভূঞা-সোনাগাজী উপজেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী, দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। এখানে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নের ঘোষণায় নেতাকর্মীরা আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও দলের দুই উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্যে দুই ধারায় বিভক্ত (উপজেলা ও পৌরসভার কমিটি গঠন কে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্ব বিভিন্নসময় সংঘাত-সহিংসতায়ও রূপ নেয়। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ নির্বাচনী এলাকায় ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়ে মাঠে নামার আগেই দ্বন্দ্ব নিরসনকে প্রাধান্য দিচ্ছেন মিন্টু। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন, মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী প্রচারে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুই উপজেলায় দলীয় গ্রুপিং-কোন্দল মিটিয়ে তৃণমূল গোছাতে কাজ করছেন। এর আগেও তিনি সবাইকে এক কাতারে আনার জন্য বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করেন।তার ছোট ভাই মো: আকবর হোসেন দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক। ২০১৮ সালে তিনি এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর আগে আকবর দাগনভূঞা পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। দাগনভূঞা উপজেলার প্রথম দুই দফা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আবদুল আউয়াল মিন্টুর পিতা হাজী সফিউল্লাহ। বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমমনা রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আসন সমন্বয় শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে বিএনপি। মাঠ জরিপের ফলাফল, তৃণমূলের মতামত ও নীতিনির্ধারক পর্যায়ের আলোচনার ভিত্তিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম ঘোষনা করা হয়। এরপরই তিনি নির্বাচন ঘিরে তারেক রহমানের নির্দেশে তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছেন। ধাপে ধাপে এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাথে বৈঠক করছেন। অনেকে স্বতস্ফূর্তভাবে তার সাথে দেখা করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন এবং নিজ নিজ এলাকায় প্রচার-প্রচারনা শুরু করছেন।
এদিকে আবদুল আউয়াল মিন্টু এলাকায় আসলে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন দুই উপজেলার নেতারা।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো: আকবর হোসেন জানান, দলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারন ভোটাররা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে মাঠে থাকার কথা জানান দিচ্ছেন। আগামী নির্বাচন দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনে জয়ী হতে দলের মধ্যে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে দল থেকে মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত আব্দুল আউয়াল মিন্টু নির্বাচনে অংশ নিবেন কিনা এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। জানতে চাইলে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জনাব মিন্টু। ইতিমধ্যে তিনি নানা প্রস্তুতিমুলক কাজ করছেন বলেও জানান। দলের তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মী ছাড়াও এলাকাবাসীর সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। কয়েকদিনের মধ্যে ফেনী আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।
আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ফেনী-৩ তথা দাগনভূঞা সোনাগাজী অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই কাঙ্খিত উন্নয়ন বঞ্চিত। এককথায় অবহেলিত জনপদ। তিনি নির্বাচিত হলে, সবাইকে নিয়ে এ অঞ্চলের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রায়ো
রিটি বেসিসে সমাধানের চেষ্টা করবেন। তিনি আরও বলেন, মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে। আশা করবো বর্তমান অন্তবর্তী সরকার সবার অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেবেন।