ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

দাগনভূঞা উত্তর আলীপুর স্কুল অ্যাণ্ড কলেজ

জামাই-শশুর মিলে গিলে খাচ্ছে, নিরব ভূমিকায় সংশ্লিষ্টরা

শাখাওয়াত হোসেন টিপু, দাগনভূঞা (ফেনী)
  • আপডেট সময় : ৬৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

# সাংবাদিকদের উৎকোচ প্রদানের চেষ্টায় অভিযোগ দায়ের

দাগনভূঞা বেকের বাজার সংলগ্ন উত্তর আলীপুর স্কুল এন্ড কলেজ যেন এক হিরক রাজার প্রতিষ্ঠান, ৫ আগষ্ট পরবর্তী কোন কমিটি না থাকায় অধ্যক্ষ এবং উপধ্যক্ষ এখানে সকল ক্ষমতার উৎস। যার কারনে ৪ বছরের হিসাব লুকিয়েও জবাবদিহি করতে হচ্ছে না কাউকে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে জহিরুল আলম নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করার পূর্বে ২০২০ থেকে ২০২৪ইং পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন এনামুল হক। পরে ২০২৪ এ জুলাই মাসে অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ পান জহিরুল আলম।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে থেকে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় হিসাব নতুন অধ্যক্ষ জহিরুল আলমকে বুজিয়ে না দিয়ে পূর্বের পদ সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ফিরে যান এনামুল হক।
নতুন অধ্যক্ষ আসার প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও প্রতিষ্ঠানের অর্জিত আয়-ব্যায়সহ যাবতীয় হিসাব এখনো বুজিয়ে দিতে পারেন নি সহকারী প্রধান এনামুল হক।
অন্যদিকে, হিসাব বুঝে নেওয়ার ব্যাপারে অধ্যক্ষ জহিরুল আলমের মাথা ব্যথাও অনেক টা প্রশ্নবিদ্ধ, কারন দুজন সম্পর্কে জামাই শশুর হন।
এই বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মিরা অনুসন্ধানে গেলে দেখা যায়, অধ্যক্ষ জহিরুল আলমের নির্দেশে তড়ি ঘড়ি করে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত হিসাব তৈরি করেন এনামুল হক। ওই হিসাব থেকে জানা যায়, ৮৪ লাখ ৩০ হাজার ২৫৯ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয়ের হিসাব বাদ দিয়ে মাত্র ১৫৯৭ টাকা ব্যালেন্স দেখানো হয়েছে। কিন্তু ক্যাশ বুক ও খতিয়ানে ওই অর্থের কোনো অস্তিত্ব নেই। সংক্ষিপ্ত হিসাব পেন্সিলে লেখা হওয়ায় নিয়মনীতি, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ব্যাপারে সংশয় লক্ষ করা গেছে।
বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীকে তার স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে বাধাগ্রস্ত করে হিসাব নিজেদের কাছে কুক্ষিগত রাখছেন অধ্যক্ষ জহিরুল আলম ও এনামুল হক। চার বছরের আয়-ব্যায়ের হিসাব দেড় বছরেও বুজিয়ে না দেওয়ার দায়ভার গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন এনামুল হক নিজেই।
ঠিক কত টাকা নয়ছয় করে এনামুল হক বহাল তবিয়তে আছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। তবে শুধু ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের আয়-ব্যায়ের বিবরণ থেকে ধারণা করা যাচ্ছে, বড় অঙ্কের গড়মিল রয়েছে অত্র প্রতিষ্ঠানে। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরাও চার বছরের হিসাব প্রদানে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “সঠিক হিসাবের তো প্রশ্নই আসে না, বানোয়াট হিসেব দিয়েও এনামুল হক বিগত চার বছরের আয়-ব্যায় মিলাতে পারবে না।”
হিসাব নিকাশের বিষয়ে অনিয়মের দায় স্বীকার করে ভিডিও বক্তব্য প্রদান করেন সহকারী প্রধান এনামুল হক। পরবর্তীতে বর্তমান অধ্যক্ষ জহিরুল আলম যোগদানের পরও নিয়ম অনুযায়ী হিসাব বুজিয়ে না দেওয়া অথবা প্রধান কর্তৃক বুঝিয়ে না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দায় সারা ও মনগড়া কথা বলেন দুজনই। তাছাড়াও হিসাব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয় টিও প্রাথমিক ভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। অফিস সহকারী কে অধ্যক্ষের পাশাপাশি বসিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার নিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা নানা অযুহাত দেখাতে থাকেন ।
হিসাব নিকাশের ব্যপারে পূর্বের কমিটির সদস্য সোহেল মিয়াজি বলেন আমরা অনেক বার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিকট হিসাব নিকাশ চাওয়া হলেও তিনি কমিটির কাছেও হিসাব দিতে গড়িমসি করে কালক্ষেপন করেছে।
এদিকে অনিয়মের বিষয় ধামাচাপা দিতে গণমাধ্যমকর্মীদের চলে আসার প্রাক্কালে উৎকোচ প্রদানের চেষ্টা করেন সহকারী অধ্যক্ষ এনামুল হক। যার একটি ভিডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চলে আসার পর ফোনের মাধ্যমে আবার বিকাশ অথবা নগদ নাম্বার চাওয়ার একটি অডিও রেকর্ড ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
গনমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধান কার্যক্রমে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার বিষয়ে অফিস সহকারী তানভীর হোসেন কে দায়ী করেন অধ্যক্ষ এবং সহকারী প্রধান। এমন সন্দেহে তানভীর হোসেনের সাথে করা হয় অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং দেওয়া হয় মিলেমিশে থাকলে বাড়তি সুবিধার প্রস্তাব। তাদের এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শুরু করে মানসিক নির্যাতন। মানষিক নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী অফিস সহকারী তানবির হোসেন।
পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মীদের মানষিক নির্যাতনের বিষয় টি জানালে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানের সরনাপন্ন হলে তিনি বিদ্যালয় সভাপতির অনুমতিবিহীন কিছু বলবেন না বলে এড়িয়ে যান এবং গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এসব বিষয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ৩ গণমাধ্যম কর্মিও প্রতিষ্ঠান সভাপতি ও দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
বর্তমান অধ্যক্ষ জহিরুল আলমের অতীত কর্মস্থল ছাগলনাইয়া করইয়া বহুপাশ্বিক উচ্চ বিদ্যালয় গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী,এলাকাবাসী এবং অভিভাবক সদস্যের মুখে জানা যায় তার লোমহর্ষক, অপকর্ম ও দূর্নীতির কথা। অনেকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সত্যতা যাচাইয়ে ছাগলনাইয়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইকবাল হোসেনের মুখোমুখি হলে তিনি একবাক্যে জহিরুল আলমের অপকর্মের কথা সত্য বলে জানিয়েছেন।
প্রশ্ন আসে হাজারো অপকর্মের হোতা জহিরুল আলম কিভাবে নিয়োগ পেলেন বর্তমান কর্মস্থল উত্তর আলীপুর স্কুল এন্ড কলেজে? এলাকাবাসী বলছেন, সরকার পরিবর্তনের আগে পূর্বের কর্মস্থল থেকে বিতাড়িত হয়ে নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যামে তৎকালীন স্কুলের সভাপতি, ৭ নং মাতুভূঞা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও দাগনভূঞা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পলাতক মামুন মোটা অংকের টাকা খেয়ে অতীত রেকর্ড যাচাই-বাছাই না করে নিয়োগ দেন জহিরুল আলমকে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, অধ্যক্ষ এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক এনামুল হক দুইজন আত্নীয়। অধ্যক্ষ জহিরুল আলম উত্তর আলীপুরের স্হায়ী বাসিন্দা হলেও সহকারী প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের বাড়ী কুমিল্লা। আত্নীয়তার বন্ধনে দূর্ণীতির আর স্বজনপ্রীতি অনেক আগেই সন্দেহের জম্ম দিয়েছিলো এলাকাবাসী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে।
দীর্ঘদিন চলতে থাকা অনিয়মের লাগাম টানতে ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারী গনমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান এনামুল হক ফোন করে চেয়ারম্যান মামুন কে এনে গণমাধ্যম কর্মীদের অপমান অপদস্ত করান এবং এসব বিষয়ে কথা বললে জানে মারার হুমকি দেন। যা বিভিন্ন স্হানীয় এবং জাতীয় দৈনিক এ প্রকাশিত হয়েছিল।
অধ্যক্ষ এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের সকল অনিয়মের ফিরিস্তি নিয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্হা নেওয়ার কথা জানান।
একই কথা বলেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন ।
জানা যায় প্রতিষ্ঠানের দুই প্রধান কর্তৃক মানসিক নির্যাতনের একটি অভিযোগ বিদ্যালয় সভাপতি বরাবর প্রেরণ করেন অফিস সহকারী তানভীর হোসেন। গণমাধ্যমকর্মীদের উৎকোচ প্রদানের চেষ্টা এবং অসৌজন্যমূলক আচরনের আরেকটি অভিযোগ উভয় দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।অভিযোগ পাওয়ার বিষয় টি নিশ্চিত করে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন বলেন, বিধি মোতাবেক ব্যবস্হা নেওয়া হবে। কিন্তু ব্যবস্হা নেওয়ার কথা দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও উভয় দপ্তরের কোন ভূমিকা দৃশ্যমান হয়নি।
উত্তর আলীপুর স্কুল এন্ড কলেজের এসব অনিয়ম ও গড়মিল বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দাগনভূঞা উত্তর আলীপুর স্কুল অ্যাণ্ড কলেজ

জামাই-শশুর মিলে গিলে খাচ্ছে, নিরব ভূমিকায় সংশ্লিষ্টরা

আপডেট সময় :

# সাংবাদিকদের উৎকোচ প্রদানের চেষ্টায় অভিযোগ দায়ের

দাগনভূঞা বেকের বাজার সংলগ্ন উত্তর আলীপুর স্কুল এন্ড কলেজ যেন এক হিরক রাজার প্রতিষ্ঠান, ৫ আগষ্ট পরবর্তী কোন কমিটি না থাকায় অধ্যক্ষ এবং উপধ্যক্ষ এখানে সকল ক্ষমতার উৎস। যার কারনে ৪ বছরের হিসাব লুকিয়েও জবাবদিহি করতে হচ্ছে না কাউকে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে জহিরুল আলম নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করার পূর্বে ২০২০ থেকে ২০২৪ইং পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন এনামুল হক। পরে ২০২৪ এ জুলাই মাসে অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ পান জহিরুল আলম।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে থেকে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় হিসাব নতুন অধ্যক্ষ জহিরুল আলমকে বুজিয়ে না দিয়ে পূর্বের পদ সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে ফিরে যান এনামুল হক।
নতুন অধ্যক্ষ আসার প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও প্রতিষ্ঠানের অর্জিত আয়-ব্যায়সহ যাবতীয় হিসাব এখনো বুজিয়ে দিতে পারেন নি সহকারী প্রধান এনামুল হক।
অন্যদিকে, হিসাব বুঝে নেওয়ার ব্যাপারে অধ্যক্ষ জহিরুল আলমের মাথা ব্যথাও অনেক টা প্রশ্নবিদ্ধ, কারন দুজন সম্পর্কে জামাই শশুর হন।
এই বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মিরা অনুসন্ধানে গেলে দেখা যায়, অধ্যক্ষ জহিরুল আলমের নির্দেশে তড়ি ঘড়ি করে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত হিসাব তৈরি করেন এনামুল হক। ওই হিসাব থেকে জানা যায়, ৮৪ লাখ ৩০ হাজার ২৫৯ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয়ের হিসাব বাদ দিয়ে মাত্র ১৫৯৭ টাকা ব্যালেন্স দেখানো হয়েছে। কিন্তু ক্যাশ বুক ও খতিয়ানে ওই অর্থের কোনো অস্তিত্ব নেই। সংক্ষিপ্ত হিসাব পেন্সিলে লেখা হওয়ায় নিয়মনীতি, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ব্যাপারে সংশয় লক্ষ করা গেছে।
বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীকে তার স্বাভাবিক কাজকর্ম থেকে বাধাগ্রস্ত করে হিসাব নিজেদের কাছে কুক্ষিগত রাখছেন অধ্যক্ষ জহিরুল আলম ও এনামুল হক। চার বছরের আয়-ব্যায়ের হিসাব দেড় বছরেও বুজিয়ে না দেওয়ার দায়ভার গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন এনামুল হক নিজেই।
ঠিক কত টাকা নয়ছয় করে এনামুল হক বহাল তবিয়তে আছেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। তবে শুধু ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের আয়-ব্যায়ের বিবরণ থেকে ধারণা করা যাচ্ছে, বড় অঙ্কের গড়মিল রয়েছে অত্র প্রতিষ্ঠানে। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরাও চার বছরের হিসাব প্রদানে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “সঠিক হিসাবের তো প্রশ্নই আসে না, বানোয়াট হিসেব দিয়েও এনামুল হক বিগত চার বছরের আয়-ব্যায় মিলাতে পারবে না।”
হিসাব নিকাশের বিষয়ে অনিয়মের দায় স্বীকার করে ভিডিও বক্তব্য প্রদান করেন সহকারী প্রধান এনামুল হক। পরবর্তীতে বর্তমান অধ্যক্ষ জহিরুল আলম যোগদানের পরও নিয়ম অনুযায়ী হিসাব বুজিয়ে না দেওয়া অথবা প্রধান কর্তৃক বুঝিয়ে না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দায় সারা ও মনগড়া কথা বলেন দুজনই। তাছাড়াও হিসাব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয় টিও প্রাথমিক ভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। অফিস সহকারী কে অধ্যক্ষের পাশাপাশি বসিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার নিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা নানা অযুহাত দেখাতে থাকেন ।
হিসাব নিকাশের ব্যপারে পূর্বের কমিটির সদস্য সোহেল মিয়াজি বলেন আমরা অনেক বার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিকট হিসাব নিকাশ চাওয়া হলেও তিনি কমিটির কাছেও হিসাব দিতে গড়িমসি করে কালক্ষেপন করেছে।
এদিকে অনিয়মের বিষয় ধামাচাপা দিতে গণমাধ্যমকর্মীদের চলে আসার প্রাক্কালে উৎকোচ প্রদানের চেষ্টা করেন সহকারী অধ্যক্ষ এনামুল হক। যার একটি ভিডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চলে আসার পর ফোনের মাধ্যমে আবার বিকাশ অথবা নগদ নাম্বার চাওয়ার একটি অডিও রেকর্ড ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
গনমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধান কার্যক্রমে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার বিষয়ে অফিস সহকারী তানভীর হোসেন কে দায়ী করেন অধ্যক্ষ এবং সহকারী প্রধান। এমন সন্দেহে তানভীর হোসেনের সাথে করা হয় অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং দেওয়া হয় মিলেমিশে থাকলে বাড়তি সুবিধার প্রস্তাব। তাদের এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শুরু করে মানসিক নির্যাতন। মানষিক নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী অফিস সহকারী তানবির হোসেন।
পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মীদের মানষিক নির্যাতনের বিষয় টি জানালে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানের সরনাপন্ন হলে তিনি বিদ্যালয় সভাপতির অনুমতিবিহীন কিছু বলবেন না বলে এড়িয়ে যান এবং গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এসব বিষয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ৩ গণমাধ্যম কর্মিও প্রতিষ্ঠান সভাপতি ও দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
বর্তমান অধ্যক্ষ জহিরুল আলমের অতীত কর্মস্থল ছাগলনাইয়া করইয়া বহুপাশ্বিক উচ্চ বিদ্যালয় গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী,এলাকাবাসী এবং অভিভাবক সদস্যের মুখে জানা যায় তার লোমহর্ষক, অপকর্ম ও দূর্নীতির কথা। অনেকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সত্যতা যাচাইয়ে ছাগলনাইয়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইকবাল হোসেনের মুখোমুখি হলে তিনি একবাক্যে জহিরুল আলমের অপকর্মের কথা সত্য বলে জানিয়েছেন।
প্রশ্ন আসে হাজারো অপকর্মের হোতা জহিরুল আলম কিভাবে নিয়োগ পেলেন বর্তমান কর্মস্থল উত্তর আলীপুর স্কুল এন্ড কলেজে? এলাকাবাসী বলছেন, সরকার পরিবর্তনের আগে পূর্বের কর্মস্থল থেকে বিতাড়িত হয়ে নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যামে তৎকালীন স্কুলের সভাপতি, ৭ নং মাতুভূঞা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও দাগনভূঞা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পলাতক মামুন মোটা অংকের টাকা খেয়ে অতীত রেকর্ড যাচাই-বাছাই না করে নিয়োগ দেন জহিরুল আলমকে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, অধ্যক্ষ এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক এনামুল হক দুইজন আত্নীয়। অধ্যক্ষ জহিরুল আলম উত্তর আলীপুরের স্হায়ী বাসিন্দা হলেও সহকারী প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের বাড়ী কুমিল্লা। আত্নীয়তার বন্ধনে দূর্ণীতির আর স্বজনপ্রীতি অনেক আগেই সন্দেহের জম্ম দিয়েছিলো এলাকাবাসী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে।
দীর্ঘদিন চলতে থাকা অনিয়মের লাগাম টানতে ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারী গনমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান এনামুল হক ফোন করে চেয়ারম্যান মামুন কে এনে গণমাধ্যম কর্মীদের অপমান অপদস্ত করান এবং এসব বিষয়ে কথা বললে জানে মারার হুমকি দেন। যা বিভিন্ন স্হানীয় এবং জাতীয় দৈনিক এ প্রকাশিত হয়েছিল।
অধ্যক্ষ এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের সকল অনিয়মের ফিরিস্তি নিয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্হা নেওয়ার কথা জানান।
একই কথা বলেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন ।
জানা যায় প্রতিষ্ঠানের দুই প্রধান কর্তৃক মানসিক নির্যাতনের একটি অভিযোগ বিদ্যালয় সভাপতি বরাবর প্রেরণ করেন অফিস সহকারী তানভীর হোসেন। গণমাধ্যমকর্মীদের উৎকোচ প্রদানের চেষ্টা এবং অসৌজন্যমূলক আচরনের আরেকটি অভিযোগ উভয় দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।অভিযোগ পাওয়ার বিষয় টি নিশ্চিত করে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন বলেন, বিধি মোতাবেক ব্যবস্হা নেওয়া হবে। কিন্তু ব্যবস্হা নেওয়ার কথা দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও উভয় দপ্তরের কোন ভূমিকা দৃশ্যমান হয়নি।
উত্তর আলীপুর স্কুল এন্ড কলেজের এসব অনিয়ম ও গড়মিল বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান অভিভাবক ও এলাকাবাসী।