ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

নরসিংদীতে আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

নরসিংদী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৭৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আবহাওয়া চাষের অনুকূলে থাকায় নরসিংদীতে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রোপা আমনের ফলন হয়েছে। গুণগত মান বিবেচনায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকেরা ব্যাপক আনন্দ-উৎসাহ নিয়ে আধুনিক যন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন) ব্যবহার করে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ভালো খড় পেতে প্রায় ৮০-৮৫ ভাগ কৃষক হাতে ধান কেটে মাড়াই করছেন। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রাধানগর, লোচনপুর,মনোহরদীর চর বেলাবো এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ। অগ্রহায়ণের বাতাসে দুলছে পাকা ধানের শীষ, যা দেখে আনন্দে উচ্ছ্বসিত কৃষকেরা। সরকারের বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্বুদ্ধকরণে এ বছর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে। নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন হয়েছে ৫ মেট্রিক টন। মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কৃষকেরা কাস্তের পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করে দ্রæত ধান কাটা ও মাড়াই করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ১৮-২০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। মাঠজুড়ে পাকা ধানের আভা। স্বল্প সময়ে পুরো ফসল উঠবে কৃষকের ঘরে। এদিকে স্বল্প সময়ের ধান ঘরে তুলে অনেক কৃষক সরিষা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও আমনের ভালো ফলনে কৃষকেরা খুশি, তবু উৎপাদন খরচ উঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কৃষক আমিনুল ইসলামসহ কথা হয় আরও কয়েকজনের সঙ্গে।
তারা জানান, এবার প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়া এবং মাঝেমধ্যে আমন চাষ উপযোগী বৃষ্টি হওয়ায় সামগ্রিকভাবে ফলন ভালো হয়েছে। তবে ধান বিক্রি করে খরচ ওঠানো নিয়েই বেশি চিন্তিত কৃষকেরা। আমিনুল ইসলাম জানান তার এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ২০-২১ মন ধান ঘরে তুলেছেন। রায়পুরা উপজেলার নয়াহাটি এলাকার কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, ধানের ফচন রোগ এবং ইদুর কিছুটা ভুগিয়েছে এবার আমন চাষীদের। এছাড়া সামগ্রিক বিবেচনায় ফলন ভালো হয়েছে। ধানের গুণগত মানও ভালো এবার। এ বিষয়ে নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সালাউদ্দিন টিপু জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়া এবং সরকারের সার্বিক সহায়তায় এ বছর ধানের ভালো ফলন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই কৃষকেরা ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগ করেন, তাই ধান ভালোভাবে শুকিয়ে নিরাপদে সংরক্ষণ করে পরে দাম বাড়লে বিক্রির পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নরসিংদী জেলায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪০ হাজার ৯৪১ মেট্রিক টন। বাস্তবে উৎপাদন হয়েছে ৪০ হাজার ৮৮৩ মেট্রিক টন চাল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নরসিংদীতে আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট সময় :

আবহাওয়া চাষের অনুকূলে থাকায় নরসিংদীতে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রোপা আমনের ফলন হয়েছে। গুণগত মান বিবেচনায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকেরা ব্যাপক আনন্দ-উৎসাহ নিয়ে আধুনিক যন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন) ব্যবহার করে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ভালো খড় পেতে প্রায় ৮০-৮৫ ভাগ কৃষক হাতে ধান কেটে মাড়াই করছেন। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রাধানগর, লোচনপুর,মনোহরদীর চর বেলাবো এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ। অগ্রহায়ণের বাতাসে দুলছে পাকা ধানের শীষ, যা দেখে আনন্দে উচ্ছ্বসিত কৃষকেরা। সরকারের বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্বুদ্ধকরণে এ বছর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে। নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন হয়েছে ৫ মেট্রিক টন। মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কৃষকেরা কাস্তের পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করে দ্রæত ধান কাটা ও মাড়াই করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ১৮-২০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। মাঠজুড়ে পাকা ধানের আভা। স্বল্প সময়ে পুরো ফসল উঠবে কৃষকের ঘরে। এদিকে স্বল্প সময়ের ধান ঘরে তুলে অনেক কৃষক সরিষা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও আমনের ভালো ফলনে কৃষকেরা খুশি, তবু উৎপাদন খরচ উঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কৃষক আমিনুল ইসলামসহ কথা হয় আরও কয়েকজনের সঙ্গে।
তারা জানান, এবার প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হওয়া এবং মাঝেমধ্যে আমন চাষ উপযোগী বৃষ্টি হওয়ায় সামগ্রিকভাবে ফলন ভালো হয়েছে। তবে ধান বিক্রি করে খরচ ওঠানো নিয়েই বেশি চিন্তিত কৃষকেরা। আমিনুল ইসলাম জানান তার এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ২০-২১ মন ধান ঘরে তুলেছেন। রায়পুরা উপজেলার নয়াহাটি এলাকার কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, ধানের ফচন রোগ এবং ইদুর কিছুটা ভুগিয়েছে এবার আমন চাষীদের। এছাড়া সামগ্রিক বিবেচনায় ফলন ভালো হয়েছে। ধানের গুণগত মানও ভালো এবার। এ বিষয়ে নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সালাউদ্দিন টিপু জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়া এবং সরকারের সার্বিক সহায়তায় এ বছর ধানের ভালো ফলন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছরই কৃষকেরা ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগ করেন, তাই ধান ভালোভাবে শুকিয়ে নিরাপদে সংরক্ষণ করে পরে দাম বাড়লে বিক্রির পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নরসিংদী জেলায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪০ হাজার ৯৪১ মেট্রিক টন। বাস্তবে উৎপাদন হয়েছে ৪০ হাজার ৮৮৩ মেট্রিক টন চাল।