সাংবাদিক ইমরানের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, স্বর্ণালংকারসহ ১২ লাখ টাকার মাল লুট
- আপডেট সময় : ২৪৯ বার পড়া হয়েছে
নিরাপত্তাহীনতায় সাংবাদিক আবু হানিফ ইমরান। তার বাড়িতে প্রকাশ্য ও পরিকল্পিত ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় দৈনিক মুক্ত খবর পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক ইমরানের বাসায় গত ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাতটার থেকে আটটার মধ্যে অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা বাড়ির তৃতীয় তলার ছাদ দিয়ে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গিয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ডাকাতরা ভবনের পেছন দিক দিয়ে তৃতীয় তলার ছাদে উঠে প্রথমেই ছাদের দরজাটি ভেতর থেকে আটকে দেয়। এরপর সাংবাদিক ইমরানের শোবার ঘরের থাই গ্লাস ভেঙে জানালার চারটি লোহার রড খুলে ফেলে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকে তারা স্টিলের ফাইল কেবিনেটের লোহার আংটা ভেঙে কেবিনেটের ভেতরে রক্ষিত নগদ ২ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালংকারের একটি বড় অংশ লুট করে নেয়। যার মধ্যে স্বর্ণের হার ১.৫ ভরি, স্বর্ণের চেইন ৮ আনা, টিকলি ৬ আনা, আংটি ৪ আনা, ঝুমকা ৪ আনা, দুই জোড়া স্বর্ণের দুল, তিনটি চেইন,
আরও কয়েকটি ছোট আংটি সহ মোট ৬ ভরির বেশি এবং নগদ টাকাসহ প্রায় ১২,৭৫,০০০ টাকা মালামাল নিয়ে যায়।
ডাকাতরা যাওয়ার সময় রুমের দরজাটিও ভেতর থেকে বন্ধ করে রেখে যায়, যাতে পরিবারের সদস্যরা কোনোভাবে ঘরের ভেতরে ঢুকতে না পারেন।
ঘটনার পর বাড়ির ভেতর থেকে দরজা আটকে থাকার কারণে কেউ ঘরে প্রবেশ করতে পারেনি। পরিবারের সদস্যদের ডাকচিৎকার শুনে এগিয়ে এসে অন্য বাড়ির ছাদ দিয়ে লোকজন পাঠিয়ে দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন।
ঘটনার সময় ইমরান বাইরে ছিলেন। ফোনে খবর পেয়ে বাসায় ফিরে এসে তিনি দেখেন পুরো ঘর এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁর ভাষায়, “ঘরে ঢোকার পরই বুঝেছি, এটি হঠাৎ কোনো ডাকাতের কাজ নয়। অপরাধীরা আমাকে টার্গেট করেই বাড়িতে ডুকেছে। তারা বাড়ির গঠন, জানালার কোন অংশ দুর্বল—সব আগে থেকেই দেখে গেছে। পুরো ঘটনাটা পরিকল্পিত।” পরিবারের সদস্যরা শব্দ পেয়ে ঘরের দরজা খুলতে না পেরে পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে লোক পাঠিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখনই দেখা যায়, কেবিনেট ভাঙা এবং সব মূল্যবান জিনিস উধাও।
ডাকাতির ঘটনা জানার পর সাংবাদিক ইমরান প্রথমেই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপারকে ফোনে অবহিত করেন। এরপর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিকেও বিষয়টি জানান। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওসি রাতেই ঘটনাস্থলে এসে ঘর পরিদর্শন করেন এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। পরে পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ঘটনাটি একজন বা দুজনের কাজ নয়; বরং কয়েকজন মিলে সুপরিকল্পিতভাবে ডাকাতিটি সংঘটিত করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের ধারণা, ডাকাতরা খুব ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ছাড়া এভাবে প্রবেশ করতে পারে না। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করা হবে।












