ঢাকা ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

ফেনীতে সংরক্ষিত নারী এমপি নিয়ে আলোচনায় যারা

শাখাওয়াত হোসেন টিপু, দাগনভূঞা
  • আপডেট সময় : ৭৩ বার পড়া হয়েছে

Oplus_131072

দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করায় ফেনী বিএনপিতে চলছে আনন্দের বন্যা। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে কে হচ্ছেন ফেনী জেলার কাণ্ডারি- এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন ঢাকামুখী। নিজেদের পক্ষে লবিং চালাচ্ছেন নানাভাবে। স্থানীয় সমর্থনের পাশাপাশি জেলার তিন আসনে সদস্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও দ্বারস্থ হচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু একসময় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে নানা কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়েই ভাবছেন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচন ও ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকাকে সামনে আনা হচ্ছে এক্ষেত্রে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এমন একজনকে চাচ্ছেন, যিনি প্রকৃতপক্ষে দল ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থাকবেন। একইসঙ্গে জেলার তিনজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় করে সন্ত্রাস চাঁদাবাজি রোধ করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে পারবেন এমন একজনকে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে দেখতে চান নারীরা। ফেনীতে সংরক্ষিত আসনে এমপির দৌড়ে নাম ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট শাহেনা আক্তার শানু, সাবেক সংরক্ষিত আসনের এমপি রেহানা আক্তার রানু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জুলেখা আক্তার ডেইজি, মহিলা দলনেত্রী নুর তানজিলা রহমান, দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি শাহিনা আকবর, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা বেগমের নাম। এর মধ্যে এডভোকেট শাহেনা আক্তার শানু ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন না পেলেও বিএনপি’র প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর পক্ষে মাঠে সরব ছিলেন। উঠান বৈঠক, নির্বাচনী গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশে নারীদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ ছাড়া, ১৬ বছর আন্দোলন সংগ্রামে ঢাকা ও ফেনীর রাজপথে নেতাকর্মীদের নিয়ে সক্রিয় ছিলেন। মার্জিত ও ভদ্র হিসেবে দলের পাশাপাশি সাধারণের মধ্যে শানুর বেশ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এদিকে, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আকবর হোসেনের স্ত্রী শাহিনা আকবরকে নিয়েও রয়েছে আলোচনা। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে স্বামীর ছায়াসঙ্গী হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। এ ছাড়া, আকবর আত্মগোপন ও জেলে থাকাবস্থায় আন্দোলনে শাহিনা কর্মীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ত্রয়োদশ নির্বাচনে ভাসুরের পক্ষে দাগনভূঞা ও সোনাগাজীতে নারী ভোটারদের নিয়ে কাজ করেছেন। চষে বেড়িয়েছেন ঘরে ঘরে। নারীদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া ও ভোটারদের ধানের শীষের পক্ষে আনতে শাহিনার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাজপথে ভূমিকা ও নারী জাগরণে প্রতিদান হিসেবে নেতাকর্মীরা শাহিনাকেও সংসদে দেখতে চান। ফেনীর সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি রেহানা আক্তার রানু ত্রয়োদশ নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনে সংসদ সদস্যদের প্রচার-প্রচারণায়
অংশ না নিয়ে বিদেশ ভ্রমণে ছিলেন। নিজ দলের প্রার্থীরা যখন প্রতিদ্বন্দ্বিদের চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন রানু অস্ট্রেলিয়া ঘুরে বেড়ান। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভ্রমণের ছবি আপলোড করলে নেতাকর্মীরা তখনই নানা প্রতিক্রিয়া জানান। যদিও শেষ মুহূর্তে তিনি ফেনীতে আসেন এবং কয়েকটি সভায় অংশ নেন। এ ছাড়া, রানু যখন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেন তখন সেখানে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফেনী পৌরসভার সাবেক মেয়র আলা উদ্দিন; যার বিরুদ্ধে রয়েছে জুলাই আন্দোলনে মহিপালে গণহত্যা মামলা। এ ছাড়াও রানুর ভাই ডালিমকে নিয়ে ফেনী বিএনপি সব সময় বিব্রত অবস্থায় থাকতে হয়। সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ও মাদক ঘিরেই তার রাজ্য। ২০২৪ এর ৫ই আগস্টের পর অস্ত্রসহ আটকের পর এখনো কারাগারে আছেন তিনি। এ ছাড়া, রানু এমপি থাকাবস্থায় ডালিম ফেনীর উত্তরাঞ্চলে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা মহিলা দলের সভাপতি ডেইজি, সম্পাদক তানজিলাও সংসদে যেতে চান সংরক্ষিত আসনের সুযোগে। এর মধ্যে তানজিলা আন্দোলন সংগ্রামে ঢাকা ও ফেনীতে মাঠে থাকতেন সব সময়। ডেইজিকেও মাঝেমধ্যে ফেনীর মাঠে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। একই অবস্থা জাহানারা বেগমের। তিনি স্বামী ও তিন মেয়েকে নিয়ে ফেনী ছাড়াও ঢাকার রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন সক্রিয়। জাহানারার পুরো পরিবারই বিএনপি’র নিবেদিত প্রাণ হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে দাগনভূঞা উপজেলার সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ছয় উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী জেলার তিনটি আসনেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থীরা জয়ী হন। ফেনী-১ আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহ্বায়ক মুন্সি রফিকুল আলম (মজনু), ফেনী-২ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন (ভিপি জয়নাল) ও ফেনী-৩ আসনে প্রথমবার এমপি হয়েই বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ফেনীতে সংরক্ষিত নারী এমপি নিয়ে আলোচনায় যারা

আপডেট সময় :

জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করায় ফেনী বিএনপিতে চলছে আনন্দের বন্যা। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে কে হচ্ছেন ফেনী জেলার কাণ্ডারি- এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা এখন ঢাকামুখী। নিজেদের পক্ষে লবিং চালাচ্ছেন নানাভাবে। স্থানীয় সমর্থনের পাশাপাশি জেলার তিন আসনে সদস্য নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও দ্বারস্থ হচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু একসময় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে নানা কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়েই ভাবছেন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচন ও ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকাকে সামনে আনা হচ্ছে এক্ষেত্রে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এমন একজনকে চাচ্ছেন, যিনি প্রকৃতপক্ষে দল ও জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থাকবেন। একইসঙ্গে জেলার তিনজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় করে সন্ত্রাস চাঁদাবাজি রোধ করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে পারবেন এমন একজনকে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে দেখতে চান নারীরা। ফেনীতে সংরক্ষিত আসনে এমপির দৌড়ে নাম ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট শাহেনা আক্তার শানু, সাবেক সংরক্ষিত আসনের এমপি রেহানা আক্তার রানু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জুলেখা আক্তার ডেইজি, মহিলা দলনেত্রী নুর তানজিলা রহমান, দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি শাহিনা আকবর, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা বেগমের নাম। এর মধ্যে এডভোকেট শাহেনা আক্তার শানু ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন না পেলেও বিএনপি’র প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর পক্ষে মাঠে সরব ছিলেন। উঠান বৈঠক, নির্বাচনী গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশে নারীদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ ছাড়া, ১৬ বছর আন্দোলন সংগ্রামে ঢাকা ও ফেনীর রাজপথে নেতাকর্মীদের নিয়ে সক্রিয় ছিলেন। মার্জিত ও ভদ্র হিসেবে দলের পাশাপাশি সাধারণের মধ্যে শানুর বেশ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এদিকে, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আকবর হোসেনের স্ত্রী শাহিনা আকবরকে নিয়েও রয়েছে আলোচনা। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে স্বামীর ছায়াসঙ্গী হয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। এ ছাড়া, আকবর আত্মগোপন ও জেলে থাকাবস্থায় আন্দোলনে শাহিনা কর্মীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ত্রয়োদশ নির্বাচনে ভাসুরের পক্ষে দাগনভূঞা ও সোনাগাজীতে নারী ভোটারদের নিয়ে কাজ করেছেন। চষে বেড়িয়েছেন ঘরে ঘরে। নারীদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া ও ভোটারদের ধানের শীষের পক্ষে আনতে শাহিনার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাজপথে ভূমিকা ও নারী জাগরণে প্রতিদান হিসেবে নেতাকর্মীরা শাহিনাকেও সংসদে দেখতে চান। ফেনীর সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি রেহানা আক্তার রানু ত্রয়োদশ নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনে সংসদ সদস্যদের প্রচার-প্রচারণায়
অংশ না নিয়ে বিদেশ ভ্রমণে ছিলেন। নিজ দলের প্রার্থীরা যখন প্রতিদ্বন্দ্বিদের চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন রানু অস্ট্রেলিয়া ঘুরে বেড়ান। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভ্রমণের ছবি আপলোড করলে নেতাকর্মীরা তখনই নানা প্রতিক্রিয়া জানান। যদিও শেষ মুহূর্তে তিনি ফেনীতে আসেন এবং কয়েকটি সভায় অংশ নেন। এ ছাড়া, রানু যখন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেন তখন সেখানে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফেনী পৌরসভার সাবেক মেয়র আলা উদ্দিন; যার বিরুদ্ধে রয়েছে জুলাই আন্দোলনে মহিপালে গণহত্যা মামলা। এ ছাড়াও রানুর ভাই ডালিমকে নিয়ে ফেনী বিএনপি সব সময় বিব্রত অবস্থায় থাকতে হয়। সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ও মাদক ঘিরেই তার রাজ্য। ২০২৪ এর ৫ই আগস্টের পর অস্ত্রসহ আটকের পর এখনো কারাগারে আছেন তিনি। এ ছাড়া, রানু এমপি থাকাবস্থায় ডালিম ফেনীর উত্তরাঞ্চলে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা মহিলা দলের সভাপতি ডেইজি, সম্পাদক তানজিলাও সংসদে যেতে চান সংরক্ষিত আসনের সুযোগে। এর মধ্যে তানজিলা আন্দোলন সংগ্রামে ঢাকা ও ফেনীতে মাঠে থাকতেন সব সময়। ডেইজিকেও মাঝেমধ্যে ফেনীর মাঠে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। একই অবস্থা জাহানারা বেগমের। তিনি স্বামী ও তিন মেয়েকে নিয়ে ফেনী ছাড়াও ঢাকার রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন সক্রিয়। জাহানারার পুরো পরিবারই বিএনপি’র নিবেদিত প্রাণ হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে দাগনভূঞা উপজেলার সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ছয় উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী জেলার তিনটি আসনেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থীরা জয়ী হন। ফেনী-১ আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র আহ্বায়ক মুন্সি রফিকুল আলম (মজনু), ফেনী-২ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন (ভিপি জয়নাল) ও ফেনী-৩ আসনে প্রথমবার এমপি হয়েই বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।