ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়িতে ‘ইয়াবা লুটের’ অভিযোগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১৫৯ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়ন-এর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বক্করের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে চোরাচালান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। সম্প্রতি ইয়াবা আটকের একটি ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘ইয়াবা লুট’ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ইয়াবা চোরাচালানের একটি চালান আটকের পর চৌকিদার বক্কর তা নিজের বসতঘরে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, একটি বান্ডিলে (এক কাট) ১০ হাজার পিস ইয়াবা থেকে ৮ হাজারের বেশি পিস সরিয়ে রেখে অবশিষ্ট প্রায় ২ হাজারের কম ইয়াবা টেবলেট পিসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনার খবর পেয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন সদস্য এবং একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিডিও ধারণ করেন বলে জানা গেছে। সাংবাদিকদের হাতে থাকা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়—একটি ইয়াবার বান্ডিল হাতে নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রাম পুলিশ বক্কর নিজেকে পুলিশের ওসি’র পদমর্যাদার সমতুল্য বলে দাবি করে হুংকার দিচ্ছেন—এমন ভয়েস ভিডিও ফুটেজে শোনা যায় ।
২১ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা বলা হয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে। তারা অভিযোগ করেন, আটকের পর ইয়াবা বসতঘরে নেওয়া এবং পরবর্তীতে পরিমাণ কম দেখিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনা ঘটেছে। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরীর মুঠোফোনের হ্যোয়াটঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য জানার চেষ্টা করে ও বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা জব্দকৃত আলামত আত্মসাৎ করা হলে তা গুরুতর অপরাধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি ইউনিয়নে ইয়াবা আটককে ঘিরে চৌকিদার বক্করের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তই এখন একমাত্র ভরসা—এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত চৌকিদার বক্কর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়িতে ‘ইয়াবা লুটের’ অভিযোগ

আপডেট সময় :

পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়ন-এর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার বক্করের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ভাঙিয়ে চোরাচালান থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। সম্প্রতি ইয়াবা আটকের একটি ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘ইয়াবা লুট’ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ইয়াবা চোরাচালানের একটি চালান আটকের পর চৌকিদার বক্কর তা নিজের বসতঘরে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, একটি বান্ডিলে (এক কাট) ১০ হাজার পিস ইয়াবা থেকে ৮ হাজারের বেশি পিস সরিয়ে রেখে অবশিষ্ট প্রায় ২ হাজারের কম ইয়াবা টেবলেট পিসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বলে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনার খবর পেয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন সদস্য এবং একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিডিও ধারণ করেন বলে জানা গেছে। সাংবাদিকদের হাতে থাকা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়—একটি ইয়াবার বান্ডিল হাতে নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রাম পুলিশ বক্কর নিজেকে পুলিশের ওসি’র পদমর্যাদার সমতুল্য বলে দাবি করে হুংকার দিচ্ছেন—এমন ভয়েস ভিডিও ফুটেজে শোনা যায় ।
২১ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা বলা হয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে। তারা অভিযোগ করেন, আটকের পর ইয়াবা বসতঘরে নেওয়া এবং পরবর্তীতে পরিমাণ কম দেখিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনা ঘটেছে। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরীর মুঠোফোনের হ্যোয়াটঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য জানার চেষ্টা করে ও বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা জব্দকৃত আলামত আত্মসাৎ করা হলে তা গুরুতর অপরাধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি ইউনিয়নে ইয়াবা আটককে ঘিরে চৌকিদার বক্করের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তই এখন একমাত্র ভরসা—এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত চৌকিদার বক্কর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।