জয়পুরহাটে সংস্কারের নামে সরকারি পুকুরের মাটি খেকো ছাত্রদল নেতাকে জরিমানা
- আপডেট সময় : ৪২ বার পড়া হয়েছে
জয়পুরহাটে সংস্কারের নামে সরকারি পুকুরের মাটি খেকু ছাত্রদল নেতাকে জরিমানা।জেলার কালাই উপজেলায় সরকারি পুকুর সংস্কারের নামে অবৈধভাবে গভীর খনন করে মাটি বিক্রির দায়ে অত্র উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজেবুর রহমান সুইটকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল সোমবার (২ মার্চ-২০২৬) দুপুরের দিকে উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের মাদাপুর গ্রামে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাস ধরে সরকারি একটি পুকুর সংস্কারের নাম করে গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটি বিক্রি করে আসছিলেন ছাত্রদল নেতা নাজেবুর রহমান সুইট। অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এর আগেও উক্ত পুকুরে মাটি বিক্রির অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালিয়ে সেখানে খননকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেকার রহমান। সে সময় মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক্টর ও স্ক্যাবেটর (ভেকু) মেশিনের দুটি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের সেই কঠোর নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করেই পুনরায় মাটি কাটা ও বিক্রি অব্যাহত রাখেন ওই নেতা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুকুরটি অস্বাভাবিক গভীর করে মাটি কাটার ফলে আশপাশের এলাকায় ভূমিধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও মাটিবাহী ভারী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে এলাকার পাকা রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পাঁচশিরা-মোলামগাড়ীহাট সড়কটির অবস্থা এখন এতোটাই নাজুক যে সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা প্রকাশ করছেন পথচারীরা।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা বলেন ‘সরকারি পুকুর থেকে অবৈধভাবে মাটি খনন ও বিক্রির অপরাধে নাজেবুর রহমান সুইটকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে তাকে ভবিষ্যতে এ ধরণের কাজ-কর্ম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরণের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অত্র এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সচেতন ব্যক্তিরা বলেন,যারাই ক্ষমতায় আসে তারাই বহুবিদ অন্যায়-অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাই, ভূমিদস্যু,বালু খেকু এবং মাটিখেকু আগেও ছিল এখনো আছে,এদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। এরা পরিবার,সমাজ,রাষ্ট্র,পরিবেশ এবং অর্থনীতির জন্য চরম হুমকি স্বরুপ বলেও মনে করেন



















