ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঝিনাইদহে সংরক্ষিত নারী আসনে তহুরা  খাতুনকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা Logo নওগাঁর ঠাকুরমান্দার ২শ বছরের পূরনো রাজখাড়া দেবত্তোর ষ্টেটের শ্রী শ্রী জয় কালি মাতা মন্দির ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের পরিদর্শন Logo সদর মডেল থানা ও রামু থানায় ১৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo এপেক্স বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন নুরুল আমিন চৌধুরী Logo জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের জোর তৎপরতা, সচেতনতার আহ্বান Logo ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্যের ডাক দিলেন তানিয়া রব Logo মানিকগঞ্জে পেটে লাথি মেরে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ Logo তারাকান্দায় বসতবাড়ি সংলগ্ন মাটি খনন করায় বসতবাড়ি ধসে যাওয়ার শঙ্কা Logo বলাৎকারের খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের মামলা Logo তারাকান্দায় ফখরুদ্দিন হত্যার জেরে ধরে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

গোসাইরহাটে ৪৫০টি পানের বোরোতে অগ্নিসংযোগ

৮ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে পথে ৩ কৃষক

ডামুড্যা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৮৩ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নলমুড়ি ইউনিয়নের (পাসকাটি) গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২:৫০ মিনিটের দিকে দুর্বৃত্তরা ৩ জন কৃষকের তিলে তিলে গড়ে তোলা পানের বোরোতে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় ৪৫০টি পানের বোরো সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মালেক সরদারের কাছ থেকে জমি খাজনা নিয়ে যৌথভাবে পানের বোরো চাষ শুরু করেন আব্দুল কাদের মাঝি, মনসুর মাঝি এবং জাহাঙ্গীর সরদার। তারা বিভিন্ন এনজিও এবং দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা ধার-দেনা করে এই প্রজেক্টটি দাঁড় করান। সামনে বৈশাখ মাস থেকে পান বিক্রি শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু আজ দুপুর ১২:৫০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা কে বা কারা পুরো বোরোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বোরো গ্রাস করে ফেলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় মাদকসেবীদের উৎপাত বেড়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাদকবিরোধী কোনো আক্রোশ বা পূর্ব শত্রুতার জেরে মাদকসেবীরাই এই পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে। ৪৫০টি পানের বোরো হারিয়ে এখন দিশেহারা ৩টি পরিবার।​
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মনসুর মাঝি ও আব্দুল কাদের মাঝি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা ৮ লক্ষ টাকা ঋণ করে এই বোরো সাজিয়েছিলাম। বৈশাখ থেকে পান বিক্রি করে কিস্তি দেওয়ার স্বপ্ন ছিল। এখন আমাদের সব শেষ। আমরা এখন ঋণের টাকা দেব কীভাবে আর খাব কী?”
​৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মালেক সরদার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “অসহায় কৃষকদের ওপর এমন আক্রমণ মেনে নেওয়া যায় না। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
​বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন প্রশাসনের কাছে আর্থিক সহায়তা এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গোসাইরহাটে ৪৫০টি পানের বোরোতে অগ্নিসংযোগ

৮ লক্ষ টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে পথে ৩ কৃষক

আপডেট সময় :

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার নলমুড়ি ইউনিয়নের (পাসকাটি) গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২:৫০ মিনিটের দিকে দুর্বৃত্তরা ৩ জন কৃষকের তিলে তিলে গড়ে তোলা পানের বোরোতে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় ৪৫০টি পানের বোরো সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে।
​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মালেক সরদারের কাছ থেকে জমি খাজনা নিয়ে যৌথভাবে পানের বোরো চাষ শুরু করেন আব্দুল কাদের মাঝি, মনসুর মাঝি এবং জাহাঙ্গীর সরদার। তারা বিভিন্ন এনজিও এবং দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা ধার-দেনা করে এই প্রজেক্টটি দাঁড় করান। সামনে বৈশাখ মাস থেকে পান বিক্রি শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু আজ দুপুর ১২:৫০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা কে বা কারা পুরো বোরোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বোরো গ্রাস করে ফেলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় মাদকসেবীদের উৎপাত বেড়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাদকবিরোধী কোনো আক্রোশ বা পূর্ব শত্রুতার জেরে মাদকসেবীরাই এই পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে। ৪৫০টি পানের বোরো হারিয়ে এখন দিশেহারা ৩টি পরিবার।​
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মনসুর মাঝি ও আব্দুল কাদের মাঝি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা ৮ লক্ষ টাকা ঋণ করে এই বোরো সাজিয়েছিলাম। বৈশাখ থেকে পান বিক্রি করে কিস্তি দেওয়ার স্বপ্ন ছিল। এখন আমাদের সব শেষ। আমরা এখন ঋণের টাকা দেব কীভাবে আর খাব কী?”
​৫নং ওয়ার্ড মেম্বার মালেক সরদার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “অসহায় কৃষকদের ওপর এমন আক্রমণ মেনে নেওয়া যায় না। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
​বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন প্রশাসনের কাছে আর্থিক সহায়তা এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।