শিবালয়ে বিবিজি প্রকল্পে মেম্বারের হরিলুট
- আপডেট সময় : ৭৮ বার পড়া হয়েছে
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিবিজি প্রকল্পের রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ সময়মতো শেষ না করে উল্টো তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের (মেম্বার) অপেশাদার ও ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তেওতা ইউনিয়নের পুরান পয়লা গ্রামে সায়েমের বাড়ি থেকে ফকরউদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত ইট সোলিংয়ের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কাজ হওয়ার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তা শুরু হয় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। দুই বছর কাজ ঝুলিয়ে রাখায় রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, যার ফলে শিক্ষার্থী ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও প্রকল্প সভাপতি জানে আলম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট এবং ময়লাযুক্ত ভিটেবালি ব্যবহার করেছেন। এমনকি রাস্তার তলদেশ (বেস) প্রস্তুত না করেই দায়সারাভাবে ইট বিছানো হয়েছে, যার ফলে এখনই রাস্তা দেবে গিয়ে সমানতালে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া পুরো রাস্তার কাজ শেষ না করে প্রায় ৫০ গজ অংশ বাকি রেখেই কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
নানা অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে প্রকল্পের সভাপতি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার জানে আলম কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। অসৎ ইঙ্গিতে ঘাইটঘর বাজারের একটি অফিসে গিয়ে দেখা করতে বলেন।
পরবর্তীতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও তেওতা ইউনিয়নরে প্রশাসক মো. মাহাবুব রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে পরিষদ কার্যালয়ে গেলে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মাসুদুর রহমান মাসুদ সাংবাদিকদের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। সাংবাদিকদের পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আপনাদের কোনোদিন দেখি নাই”-এমন মন্তব্য করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন। একজন জনপ্রতিনিধির এমন অপেশাদার আচরণে উপস্থিত সংবাদকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে তেওতা ইউনিয়নের প্রশাসক মো. মাহাবুব রহমান জানান, প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর মেম্বারের অসৌজন্যমূলক আচরণে সাংবাদিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, মানিকগঞ্জ জেলা উপ-সচিব (স্থানীয় সরকার) জয়া মারিয়া পেরেরা বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং অসম্পূর্ণ ও নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে অন্য ওয়ার্ড মেম্বারের অসৌজন্যমূলক আচরণকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও রহস্যজনক মন্তব্য করে নিন্দা জানিয়েছে এলাকাবাসী।




















