ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ঝিনাইদহে সংরক্ষিত নারী আসনে তহুরা  খাতুনকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা Logo নওগাঁর ঠাকুরমান্দার ২শ বছরের পূরনো রাজখাড়া দেবত্তোর ষ্টেটের শ্রী শ্রী জয় কালি মাতা মন্দির ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের পরিদর্শন Logo সদর মডেল থানা ও রামু থানায় ১৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo এপেক্স বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন নুরুল আমিন চৌধুরী Logo জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের জোর তৎপরতা, সচেতনতার আহ্বান Logo ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্যের ডাক দিলেন তানিয়া রব Logo মানিকগঞ্জে পেটে লাথি মেরে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ Logo তারাকান্দায় বসতবাড়ি সংলগ্ন মাটি খনন করায় বসতবাড়ি ধসে যাওয়ার শঙ্কা Logo বলাৎকারের খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের মামলা Logo তারাকান্দায় ফখরুদ্দিন হত্যার জেরে ধরে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

কোরআন ও নামাজ শিক্ষা কোর্সে শিশু থেকে প্রবীণ সবাই এক কাতারে

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪৪ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক জাগরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে করিম-বানু ফাউন্ডেশন। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে শুরু হয়েছে সহীহ্ কোরআন ও নামাজ শিক্ষা কোর্স। ইতোমধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রমজানের বরকতময় পরিবেশে উপজেলার পাঁচটি কেন্দ্রে অভিজ্ঞ ক্বারী ও দ্বীনি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এ কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের সহীহ্ তাজবিদে কোরআন তিলাওয়াত, নামাজের ফরজ-ওয়াজিব, সুন্নাত, প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল এবং দৈনন্দিন ইবাদতের শুদ্ধ পদ্ধতি হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।
শিশু থেকে প্রবীণ সবাই শিক্ষার্থী এই সম্পূর্ণ বিনামূল্যের কোর্সে অংশগ্রহণ করছে শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণ নারী-পুরুষ। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, বয়স্ক অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শুদ্ধভাবে কোরআন পড়া ও নামাজ আদায় শেখার সুযোগ পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন।
পাঁচটি কেন্দ্রের মধ্যে দুটি কেন্দ্রে বয়স্কা মহিলা ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণীরা অংশ নিচ্ছেন। অপর তিনটি কেন্দ্রে বয়স্ক পুরুষ, স্কুল, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন। কেন্দ্রগুলো হলো, বীররামপুর ভাটিপাড়া কর্তাখালীর পাড় জামে মসজিদ, পৌর শহরের দরিরামপুরে মার্কাজুত তাহফিজ মাদরাসা, কানিহারী ইউনিয়নের জামতলা জামে মসজিদ, এলংজানি দারুল উলূম মাদরাসা ও কাকচর জামে মসজিদ।
শিক্ষার্থীদের অনুভূতি কিশোর শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘রমজান মাসে কোরআন শিখতে পারা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। আমরা নিয়মিত ক্লাস করছি এবং প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি।’
প্রবীণ শিক্ষার্থী নূরজাহান বলেন, ‘ছোটবেলায় মক্তবে কায়দা পড়েছি, তবে ভালোভাবে শেখার সুযোগ পাইনি। এখন বিনামূল্যে এমন সুন্দর ব্যবস্থাপনায় সহীহ্ করে কোরআন শিখতে পারছি এটা আল্লাহর বিশেষ রহমত।’
বৃদ্ধ শিক্ষার্থী আব্দুল জলিল জানান, ‘শুধু তিলাওয়াত নয়, নামাজের ভুলগুলোও সংশোধন করা হচ্ছে। এতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’
রামপুর ইউনিয়নের সমাজসেবক ফয়সাল আহমেদ মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে নৈতিকতা, শুদ্ধতা ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁর ভাষায়, ‘তরুণ প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এমন সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ আরও প্রয়োজন।’
স্মরণে দুই মানবহিতৈষী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মরহুম আব্দুল করিম (অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা)’র বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও হাছনা বানুর দীর্ঘ নেক হায়াত ও সুস্বাস্থ্য কামনায় এই মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও তাঁদের জন্য দোয়া করেন।
মাস শেষে পুরস্কার ও সনদ মাসব্যাপী এই কোর্স শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, অগ্রগতি ও নিয়মিত উপস্থিতির ভিত্তিতে বিশেষ পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্য করিম-বানু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. ইউছুফ হোসাইন বলেন, ‘রমজান আত্মশুদ্ধি ও কোরআন নাযিলের মাস। আমরা চাই সমাজের প্রতিটি মানুষ সহীহ্ তিলাওয়াত শিখুক এবং শুদ্ধভাবে নামাজ আদায় করুক। এটি শুধু একটি কোর্স নয় এটি নৈতিক ও আত্মিক জাগরণের একটি প্রয়াস। আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত পরিসরে চালিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ।’
আলোচনায় মানবিক ও ধর্মীয় জাগরণ ত্রিশালজুড়ে এই উদ্যোগ এখন প্রশংসিত। ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করা, নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ দ্বীনি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যয়ে করিম-বানু ফাউন্ডেশনের এ আয়োজন ইতোমধ্যে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। পবিত্র মাহে রমজানে কোরআনের আলোয় আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কোরআন ও নামাজ শিক্ষা কোর্সে শিশু থেকে প্রবীণ সবাই এক কাতারে

আপডেট সময় :

পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক জাগরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে করিম-বানু ফাউন্ডেশন। ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে শুরু হয়েছে সহীহ্ কোরআন ও নামাজ শিক্ষা কোর্স। ইতোমধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রমজানের বরকতময় পরিবেশে উপজেলার পাঁচটি কেন্দ্রে অভিজ্ঞ ক্বারী ও দ্বীনি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এ কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের সহীহ্ তাজবিদে কোরআন তিলাওয়াত, নামাজের ফরজ-ওয়াজিব, সুন্নাত, প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল এবং দৈনন্দিন ইবাদতের শুদ্ধ পদ্ধতি হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।
শিশু থেকে প্রবীণ সবাই শিক্ষার্থী এই সম্পূর্ণ বিনামূল্যের কোর্সে অংশগ্রহণ করছে শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণ নারী-পুরুষ। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, বয়স্ক অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে শুদ্ধভাবে কোরআন পড়া ও নামাজ আদায় শেখার সুযোগ পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন।
পাঁচটি কেন্দ্রের মধ্যে দুটি কেন্দ্রে বয়স্কা মহিলা ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণীরা অংশ নিচ্ছেন। অপর তিনটি কেন্দ্রে বয়স্ক পুরুষ, স্কুল, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন। কেন্দ্রগুলো হলো, বীররামপুর ভাটিপাড়া কর্তাখালীর পাড় জামে মসজিদ, পৌর শহরের দরিরামপুরে মার্কাজুত তাহফিজ মাদরাসা, কানিহারী ইউনিয়নের জামতলা জামে মসজিদ, এলংজানি দারুল উলূম মাদরাসা ও কাকচর জামে মসজিদ।
শিক্ষার্থীদের অনুভূতি কিশোর শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘রমজান মাসে কোরআন শিখতে পারা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। আমরা নিয়মিত ক্লাস করছি এবং প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি।’
প্রবীণ শিক্ষার্থী নূরজাহান বলেন, ‘ছোটবেলায় মক্তবে কায়দা পড়েছি, তবে ভালোভাবে শেখার সুযোগ পাইনি। এখন বিনামূল্যে এমন সুন্দর ব্যবস্থাপনায় সহীহ্ করে কোরআন শিখতে পারছি এটা আল্লাহর বিশেষ রহমত।’
বৃদ্ধ শিক্ষার্থী আব্দুল জলিল জানান, ‘শুধু তিলাওয়াত নয়, নামাজের ভুলগুলোও সংশোধন করা হচ্ছে। এতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’
রামপুর ইউনিয়নের সমাজসেবক ফয়সাল আহমেদ মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে নৈতিকতা, শুদ্ধতা ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁর ভাষায়, ‘তরুণ প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এমন সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ আরও প্রয়োজন।’
স্মরণে দুই মানবহিতৈষী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মরহুম আব্দুল করিম (অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা)’র বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও হাছনা বানুর দীর্ঘ নেক হায়াত ও সুস্বাস্থ্য কামনায় এই মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও তাঁদের জন্য দোয়া করেন।
মাস শেষে পুরস্কার ও সনদ মাসব্যাপী এই কোর্স শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, অগ্রগতি ও নিয়মিত উপস্থিতির ভিত্তিতে বিশেষ পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পাবে।
প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্য করিম-বানু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. ইউছুফ হোসাইন বলেন, ‘রমজান আত্মশুদ্ধি ও কোরআন নাযিলের মাস। আমরা চাই সমাজের প্রতিটি মানুষ সহীহ্ তিলাওয়াত শিখুক এবং শুদ্ধভাবে নামাজ আদায় করুক। এটি শুধু একটি কোর্স নয় এটি নৈতিক ও আত্মিক জাগরণের একটি প্রয়াস। আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত পরিসরে চালিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ।’
আলোচনায় মানবিক ও ধর্মীয় জাগরণ ত্রিশালজুড়ে এই উদ্যোগ এখন প্রশংসিত। ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করা, নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ দ্বীনি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যয়ে করিম-বানু ফাউন্ডেশনের এ আয়োজন ইতোমধ্যে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। পবিত্র মাহে রমজানে কোরআনের আলোয় আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।