মোহনপুরে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে হট্টোগোল, মৃত্যু
- আপডেট সময় : ৩৪ বার পড়া হয়েছে
কে পড়াবেন পবিত্র ইদুল ফিতরের (ঈদ) নামাজ? এমন প্রশ্ন উঠতেই দুইটি পক্ষে বিভক্ত গ্রামের লোকজন। কয়েকদিনের এমন টানাপড়নে গতকাল শনিবার (৭ মার্চ) ইফতার পরে উভয় পক্ষ বসার সিদ্ধান্ত হলে (জামায়ত-বিএনপি) দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এ সময় আলাউদ্দিন (৬৬) নামে এক ব্যক্তি পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারান। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে রাস্তায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জামায়াত পন্থী লোকজন মরদেহটি সামনে নিয়ে রাজশাহী–নওগাঁ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে মুরব্বীদের সিদ্ধান্তে মরদেহ বাড়ি পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত মসজিদের ইমাম ও ঈদগাহ এর ইমামতি করে আসছেন সাঁকোয়া বাকশৈল কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক আব্দুল জলিল। কিন্তু এবার ইমাম হিসেবে আ: জলিলের বিরোধিতা করে একটি পক্ষ। বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে সাঁকোয়া মডেল মসজিদে আলোচনার জন্য গ্রামের লোকজনকে ডাকা হয়। উক্ত আলোচনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উভয় পক্ষ নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাকবিতন্ডা থেকে হাতাহাতি শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় আলাউদ্দিন নামের ওই ব্যক্তি তার দুই ছেলেকে বাড়িতে ফেরাতে ঘটনাস্থলের দিকে গেলে আকর্ষিকভাবে অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তবে এই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জামায়াত নেতাকর্মীরা রাজশাহী–নওগাঁ মহাসড়কে কাঠের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এসময় সাঁকোয়া মোড়স্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়াও রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রাসেলের মোটর সাইকেলে আগুন ও বাড়িঘরে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ভাংচুর করা হয়েছে বিএনপি কর্মী ওমর ফারুক ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য আবু হেনার বাড়িঘর।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মোহনপুর থানা পুলিশের সদস্যরা পৌঁছালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিতে ব্যর্থ হয়। বিক্ষুদ্ধ জামায়াত কর্মীদের তোপের মুখে কোন পুলিশকে সামনে যেতে দেখা যায়নি। এমনকি কোন মিডিয়াকর্মীরাও ক্যামেরা বের করার সাহস করেনি। এভাবে প্রায় ৩ ঘন্টা রাজশাহী – নওগাঁ মহাসড়কের সাঁকোয়া মোড়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে থাকতে দেখা গেছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত পৌনে ১১ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এটিএম মাইনুল ইসলাম। পরবর্তীতে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং যান চলাচল শুরু হয়।
এবিষয়ে গনমাধ্যমকে উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল আওয়াল জানান, এই কর্মকান্ড দলীয় সিদ্ধান্তে নয়, এটি একটি স্থানীয় ঘটনা। মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসিররা এই ধরনের কার্মকান্ড করেছে। তবে নিহত আলাউদ্দিন জামায়াত ইসলামীর একজন কর্মী ছিলেন।
এদিকে মোহনপুর উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ বলেন, জামায়াত নেতা কর্মীদের হামলায় বিএনপি পার্টি অফিসে আগুন, বাড়িঘর ভাংচুর ও নেতাকর্মীদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আহতদের মেডিকেল এ ভর্তি করা হয়েছে।
মোহনপুর থানা কর্মকর্তা ওসি এসএম মঈনুদ্দীন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হযেছে। এখন পর্যন্ত কোন পক্ষের অ়ভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় দলের পক্ষ থেকে কোন দলীয় সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।




















