ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নওগাঁর ঠাকুরমান্দার ২শ বছরের পূরনো রাজখাড়া দেবত্তোর ষ্টেটের শ্রী শ্রী জয় কালি মাতা মন্দির ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের পরিদর্শন Logo সদর মডেল থানা ও রামু থানায় ১৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতার Logo এপেক্স বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন নুরুল আমিন চৌধুরী Logo জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসনের জোর তৎপরতা, সচেতনতার আহ্বান Logo ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্যের ডাক দিলেন তানিয়া রব Logo মানিকগঞ্জে পেটে লাথি মেরে ভ্রূণ হত্যার অভিযোগ Logo তারাকান্দায় বসতবাড়ি সংলগ্ন মাটি খনন করায় বসতবাড়ি ধসে যাওয়ার শঙ্কা Logo বলাৎকারের খবর প্রকাশ করায় সাংবাদিকদের নামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের মামলা Logo তারাকান্দায় ফখরুদ্দিন হত্যার জেরে ধরে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট Logo ডামুড্যায় ২ শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে মাছ ধরা উৎসব পালিত

ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের বাসায় বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের গোপন বৈঠক ঘিরে বিতর্ক

রাজশাহী ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ২৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের বাসভবনে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিকের গোপন ইফতার ও বৈঠককে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানামুখী প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজশাহীর সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন রাজশাহীতে দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ সিটি প্রেসক্লাব, মডেল প্রেসক্লাব ও মেট্রো প্রেসক্লাবের মতো একাধিক স্বীকৃত ও সুনামধন্য সাংবাদিক সংগঠন থাকা সত্ত্বেও কেন একটি বিতর্কিত সংগঠনকে নিয়ে এমন গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরেন্দ্র প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততায় সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল বলে স্থানীয় মহলের দাবি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেই ক্লাবকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে রাজশাহীর কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক। এই সিনিয়র সাংবাদিকদের তালিকায় রয়েছে ভারতীয় RAW এজেন্টের বেতনভুক্ত সাংবাদিকও। যার অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় ভারতীয় হাই কমিশনার অফিসের আস্থাভাজনে পরিনত হয় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব।
তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পতনের পর সংগঠনটির নেতারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপিমনা সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে তারা এখনো আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
এদিকে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের কার্যালয়ের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে প্রতি মাসে ক্লাবের নামে দুই বোতল মদ সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও তাকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ সহায়তা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগ ও গোপন বৈঠক ঘিরে রাজশাহীর সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই জানতে চাইছেন এই বৈঠক কি শুধুই ব্যক্তিগত নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে? দেশ ও স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের গোপন সমঝোতা বা পরিকল্পনা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে।
তবে এ বিষয়ে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম কিংবা সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তদন্তের দাবি উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের বাসায় বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবের গোপন বৈঠক ঘিরে বিতর্ক

আপডেট সময় :

রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের বাসভবনে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিকের গোপন ইফতার ও বৈঠককে ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানামুখী প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রাজশাহীর সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন রাজশাহীতে দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ সিটি প্রেসক্লাব, মডেল প্রেসক্লাব ও মেট্রো প্রেসক্লাবের মতো একাধিক স্বীকৃত ও সুনামধন্য সাংবাদিক সংগঠন থাকা সত্ত্বেও কেন একটি বিতর্কিত সংগঠনকে নিয়ে এমন গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরেন্দ্র প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততায় সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল বলে স্থানীয় মহলের দাবি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেই ক্লাবকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে রাজশাহীর কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক। এই সিনিয়র সাংবাদিকদের তালিকায় রয়েছে ভারতীয় RAW এজেন্টের বেতনভুক্ত সাংবাদিকও। যার অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় ভারতীয় হাই কমিশনার অফিসের আস্থাভাজনে পরিনত হয় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব।
তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পতনের পর সংগঠনটির নেতারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপিমনা সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে তারা এখনো আওয়ামী লীগের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
এদিকে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের কার্যালয়ের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমকে প্রতি মাসে ক্লাবের নামে দুই বোতল মদ সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও তাকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ সহায়তা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগ ও গোপন বৈঠক ঘিরে রাজশাহীর সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই জানতে চাইছেন এই বৈঠক কি শুধুই ব্যক্তিগত নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে? দেশ ও স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের গোপন সমঝোতা বা পরিকল্পনা করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে।
তবে এ বিষয়ে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম কিংবা সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তদন্তের দাবি উঠেছে।