ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

পাইকগাছায় পানি উত্তোলন নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নে কৃষি জমিতে লবণ পানি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ কৃষক ও ঘের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, যা নিরসনে উভয় পক্ষই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দ্বারস্থ হয়েছেন।
গতকাল ‎মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ৬নং লস্কর ইউনিয়নের লক্ষীখোলা গ্রামের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে ইউপি সদস্য টিএম হাসানুজ্জামান স্থানীয় ঘের ব্যবসায়ী মোঃ আকবর আলী গাজীকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
‎কৃষকদের আর্তি: “লবণ পানিতে মরছে স্বপ্ন”
‎অভিযোগে ইউপি সদস্য টিএম হাসানুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, লস্কর ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। ধান ও শাকসবজি চাষই তাদের একমাত্র উপজীবিকা। তিনি বলেন:
‎”এখানকার মানুষ কৃষি দিয়ে কোনোমতে সংসার চালায়, সন্তানদের পড়াশোনা করায়। কিন্তু আকবর আলী গাজীর মতো কিছু অসাধু ঘের ব্যবসায়ী নদী থেকে সরাসরি লবণ পানি তুলে চিংড়ি চাষ করছেন। এতে আবাদি জমিতে নোনা ছড়িয়ে পড়ে ধান ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আমরা বাধা দিলে উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
‎ঘের ব্যবসায়ীদের পাল্টা দাবি
‎অন্যদিকে, অভিযুক্ত আকবর আলী গাজীও একই দিনে ইউএনও বরাবর একটি পাল্টা অভিযোগ দাখিল করেছেন। তার দাবি, এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরেই মৎস্য চাষের জন্য পরিচিত এবং বহু মানুষ এর ওপর নির্ভরশীল। তিনি মৎস্য চাষের ধারাবাহিকতা রক্ষার দাবি জানান।
‎প্রশাসনের পদক্ষেপ
‎বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিযোগ দুটি আমলে নিয়েছেন।
‎তদন্ত ও শুনানির নির্দেশ: ‎ঘটনাটি সুষ্ঠু মীমাংসার জন্য লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সানা-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাকে উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানি করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও।
‎বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ কৃষকদের দাবি, কৃষিকে বাঁচাতে লবণ পানি উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, মৎস্য চাষিরা তাদের ব্যবসার সুরক্ষা চাইছেন। ইউনিয়ন পরিষদের শুনানির পরেই নির্ধারিত হবে এই দ্বন্দের ভবিষ্যৎ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাইকগাছায় পানি উত্তোলন নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ

আপডেট সময় :

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নে কৃষি জমিতে লবণ পানি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ কৃষক ও ঘের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, যা নিরসনে উভয় পক্ষই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দ্বারস্থ হয়েছেন।
গতকাল ‎মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ৬নং লস্কর ইউনিয়নের লক্ষীখোলা গ্রামের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে ইউপি সদস্য টিএম হাসানুজ্জামান স্থানীয় ঘের ব্যবসায়ী মোঃ আকবর আলী গাজীকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
‎কৃষকদের আর্তি: “লবণ পানিতে মরছে স্বপ্ন”
‎অভিযোগে ইউপি সদস্য টিএম হাসানুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, লস্কর ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। ধান ও শাকসবজি চাষই তাদের একমাত্র উপজীবিকা। তিনি বলেন:
‎”এখানকার মানুষ কৃষি দিয়ে কোনোমতে সংসার চালায়, সন্তানদের পড়াশোনা করায়। কিন্তু আকবর আলী গাজীর মতো কিছু অসাধু ঘের ব্যবসায়ী নদী থেকে সরাসরি লবণ পানি তুলে চিংড়ি চাষ করছেন। এতে আবাদি জমিতে নোনা ছড়িয়ে পড়ে ধান ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আমরা বাধা দিলে উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
‎ঘের ব্যবসায়ীদের পাল্টা দাবি
‎অন্যদিকে, অভিযুক্ত আকবর আলী গাজীও একই দিনে ইউএনও বরাবর একটি পাল্টা অভিযোগ দাখিল করেছেন। তার দাবি, এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরেই মৎস্য চাষের জন্য পরিচিত এবং বহু মানুষ এর ওপর নির্ভরশীল। তিনি মৎস্য চাষের ধারাবাহিকতা রক্ষার দাবি জানান।
‎প্রশাসনের পদক্ষেপ
‎বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিযোগ দুটি আমলে নিয়েছেন।
‎তদন্ত ও শুনানির নির্দেশ: ‎ঘটনাটি সুষ্ঠু মীমাংসার জন্য লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সানা-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাকে উভয় পক্ষকে নিয়ে শুনানি করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও।
‎বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সাধারণ কৃষকদের দাবি, কৃষিকে বাঁচাতে লবণ পানি উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে, মৎস্য চাষিরা তাদের ব্যবসার সুরক্ষা চাইছেন। ইউনিয়ন পরিষদের শুনানির পরেই নির্ধারিত হবে এই দ্বন্দের ভবিষ্যৎ।