তারাকান্দায় ফখরুদ্দিন হত্যার জেরে ধরে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট
- আপডেট সময় : ২৬ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় মুদি ব্যবসায়ী ফখরুদ্দিন (৫৫) হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে গবাদি পশু ও মূল্যবান আসবাবপত্র লুটের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জানা যায়, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা কাকী ইউনিয়নের বগির পাড়ায় গত সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন ফখর উদ্দিন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে দাফন শেষে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।এরই জেরে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা একই গ্রামের আবুল হোসেন, লাল মিয়া, সুমন, রাশিদুল ও রাসেলের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা গবাদি পশু ও মূল্যবান আসবাবপত্র লুটের পর বাড়িগুলোতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে পাঁচটি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে বৃহস্পতিবার দিনেও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির কিছু অংশে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।ফখর উদ্দিন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল বারেক জানান, এ ঘটনায় থানায় ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে তৃতীয় পক্ষের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ফায়দা লোটার অভিযোগও উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রেফতার এড়াতে অনেক পুরুষ সদস্য বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তানভীর আহম্মেদ বলেন, “বাড়িঘরে হামলার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
সহকারী পুলিশ সুপার (ফুলপুর সার্কেল) রাকিবুর রহমান বলেন, “ফখর উদ্দিনের মৃত্যুর পর প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিরপরাধ কেউ যাতে আসামি না হয় এবং কোনো তৃতীয় পক্ষ যাতে ঘটনাটিকে কাজে লাগাতে না পারে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে তদন্ত চলছে।”



















