দাগনভূঞা ষাটোর্ধ্ব বয়সের গৃহহীন বৃদ্ধা মরিয়ম বেগমের আকুতি
‘মন্ত্রী সাবকে একটু বলেন না আমাকে একটা ঘর করে দিতে’
- আপডেট সময় : ১৮ বার পড়া হয়েছে
দাগনভূঞা গৃহহীন এক পরিবারের কষ্ট শুধু একটা “বাড়ি না থাকা” এটা তাদের পুরো জীবনের প্রতিদিনের সংগ্রাম। জন্মস্থান ছিলো রামগতি পরবর্তীতে নদী ভাঙ্গার কবলে সে বসতভিটা হারান মরিয়া খাতুন। এরপর আসেন মুছাপুর তারপর দাগনভূঞা বসবাস করছেন অনেক বছর। ষাটোর্ধ বৃদ্ধা বয়সে রোগ শোকে নিদারুণ কষ্ট শিকার করে প্রতিদিন ছুটে চলেন খাদ্যর সন্ধানে। ভিক্ষা করে চলছেন নিজে পাশাপাশি সংসারে ৪ জনকেও চালাতে হয় মানুষের দয়ায়। একটি কন্যা সন্তান বিয়ের বয়স হলেও দিতে পারছেন না বিয়ে। অপরদিকে একটি মাত্র ছেলে সন্তান কোন রকম উপার্জন করে চালাচ্ছেন দুই শিশু ও স্ত্রীসহ মা বোনকে। দিনশেষ নিজের আপন ঠিকানা বলতে কিছুই নেই।
দাগনভূঞার ইয়াকুবপুর ইউনিয়ন বিজয়পুর আশ্রয়ন প্রকল্পের একজনের ঘরে অস্থায়ী হিসেবে বর্তমানে এ পরিবারটি বসবাস করছেন। নিজের নেই কোন স্থায়ী ঠিকানা। বৃদ্ধা বয়সে প্যারালাইসিস, আলসার, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এ বৃদ্ধা নারী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার মৃত্যুর পর কবরের জায়গাটুকুও আমার নেই। কে দিবে জায়গা! কোথায় পাবো সাড়ে তিন হাত জায়গা! তিনি আরো জানান, আমার বয়স দিনদিন কমছে কোনদিন মরে যাই তার কোন ঠিকঠিকানা নেই। তবে এ বয়সে আমার একটি মেয়ে ও একটি সন্তানের বসবাসের জন্য এক টুকরো জায়গা কিংবা একটি ঘর দিলে শেষ বয়সে আপসোস বা কষ্ট বলতে কিছু থাকতো না। জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্খা একটি ঘর বা স্থায়ী ঠিকানা। অনেকেই ঘর পেয়েছেন কিন্তু আমার মত হতভাগাদের কপালে একটি ঘর এখন কেবলই স্বপ্ন। বাসস্থান না থাকায় কন্যা সন্তানকেও বিয়ে দিতে পারছেন না। কার কাছে যাবেন তিনি কিছুই জানেন না বুঝেন না। এত মানুষ আছেন দয়াবান কিন্তু কেউ আশ্বাস দেননি একটি থাকার স্থায়ী ঠিকানা করে দিবেন। আমাদের মত হতভাগাদের কপালে দুঃখ ছাড়া কিছুই নেই বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, একটি গৃহহীন পরিবার যে সব সমস্যার মধ্যে দিনযাপন করেন তারমধ্যে নিরাপত্তার অভাব, নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকলে তারা সবসময় ভয় আর অনিশ্চয়তায় থাকে, বৃষ্টি, ঝড়, ঠান্ডা কিংবা মানুষের খারাপ আচরণ সবকিছুই তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
খাদ্য ও পানির কষ্ট। নিয়মিত খাবার জোটে না, অনেক সময় না খেয়েই দিন কাটাতে হয়। বিশুদ্ধ পানির অভাবেও অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে,
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সমস্যা, খোলা আকাশের নিচে থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এসব কারণে রোগবালাই লেগেই থাকে, কিন্তু চিকিৎসা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে, শিক্ষার অভাব (বিশেষ করে শিশুদের)। গৃহহীন পরিবারের শিশুদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ কম থাকে। ফলে তাদের ভবিষ্যৎও অন্ধকার হয়ে যায়।
মানসিক কষ্ট ও অপমান। সমাজে তারা অবহেলিত থাকে, অনেক সময় অবজ্ঞা বা অপমানের শিকার হয়। এতে তাদের আত্মসম্মানবোধ ভেঙে যায়। সব মিলিয়ে, গৃহহীন একটি পরিবারের জীবন মানে প্রতিদিন বেঁচে থাকার লড়াই। তাদের কষ্ট বুঝতে পারা এবং সাহায্যের হাত বাড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব।
আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, একজনের দয়ায় এ পরিবারটি অনেক কষ্টে ভিক্ষা করে জীবনযাপন করছেন। তাদের কষ্টের শেষ নেই। মাথা গোঁজার জন্য একটি ঘর পেলে বৃদ্ধা বয়সে হয়তো কিছুটা শান্তি নিয়ে দিনযাপন করে যেতে পারতেন।
দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা সংসদীয় আসনে নির্বাচিত মাননীয় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু স্যার যদি
এ পরিবারকে একটি ঘর করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিতেন। কিন্তু এসব কথা কিভাবে বলবেন সে সুযোগ কিংবা দেখা তাদের জন্য স্বপ্ন মাত্র। দাদনার খাল খনন উদ্বোধনের দিন দেখা করার স্বপ্ন ছিল কিন্তু অতদূর পর্যন্ত গরীব মানুষদের দেখা করার সৌভাগ্য হয়নি এবং সুযোগ পাননি।
এলাকাবাসীদের মতে, মাননীয় মন্ত্রী খুব ভালো মনের মানুষ। মন্ত্রী যদি বলেন এ পরিবারটিকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিলে তারা আজীবন গৃহহীন থাকতে হবে না। তাই মাননীয় মন্ত্রীর কাছে সহযোগিতার বার্তাটি পৌঁছে দিতে দৈনিক গণমুক্তির পত্রিকায় প্রতিনিধিকে সবিনয় অনুরোধ জানিয়েছেন


















