ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

রামুতে বিজিবির অভিযানে ৬ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ৪৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, মাইন ও আইইডি সদৃশ বস্তু, দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ এবং অবৈধ জ্বালানি ও সার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ১১ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তুলাবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ২ লাখ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদের দিকনির্দেশনায় সহকারী পরিচালক মোঃ কবির হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল এ অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় এক ব্যক্তি মাথায় বস্তা নিয়ে আসার সময় দূর থেকে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে বস্তাটি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে বস্তার ভেতর বিশেষভাবে লুকায়িত ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ৯ এপ্রিল পৃথক অভিযানে অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন ও আইইডি সদৃশ বস্তুসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের টারগুপাড়া বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত পিলার ৫৩ ও ৫৪-এর মধ্যবর্তী ছায়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালালে ৪–৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৫টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৫টি সম্ভাব্য আইইডি, একটি মেটাল ডিটেক্টর, সোলার প্যানেল, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাইন ও আইইডিগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিম মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।
একই দিনে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর বাইশফাঁড়ী বিওপির টহলদল সীমান্ত পিলার ৩৭/২-এস সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি দাহ্য পাউডার, ৩ কেজি মেপোক্স (মিথাইল ইথাইল কিটোন পারক্সাইড), ৩ রোল নাইলন কাপড় এবং ৩ লিটার দাহ্য রাসায়নিক তরল জব্দ করে। জব্দকৃত এসব দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে এবং পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া ১১ এপ্রিল ভোররাতে নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি এলাকা থেকে অবৈধভাবে মজুদকৃত ৩৯৫ লিটার অক্টেন জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য কয়েক লাখ টাকা। একই সময়ে টাইম বাজার এলাকা থেকে ২০ বস্তা ইউরিয়া সার ও ৪ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্যও উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব জ্বালানি ও সার চোরাচালানের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির জানান, বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ জ্বালানি মজুদ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রতিরোধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রামুতে বিজিবির অভিযানে ৬ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ

আপডেট সময় :

কক্সবাজারের রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, মাইন ও আইইডি সদৃশ বস্তু, দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ এবং অবৈধ জ্বালানি ও সার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ১১ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তুলাবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ২ লাখ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদের দিকনির্দেশনায় সহকারী পরিচালক মোঃ কবির হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল এ অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় এক ব্যক্তি মাথায় বস্তা নিয়ে আসার সময় দূর থেকে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে বস্তাটি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে বস্তার ভেতর বিশেষভাবে লুকায়িত ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ৯ এপ্রিল পৃথক অভিযানে অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন ও আইইডি সদৃশ বস্তুসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের টারগুপাড়া বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত পিলার ৫৩ ও ৫৪-এর মধ্যবর্তী ছায়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালালে ৪–৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৫টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৫টি সম্ভাব্য আইইডি, একটি মেটাল ডিটেক্টর, সোলার প্যানেল, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাইন ও আইইডিগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিম মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে।
একই দিনে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর বাইশফাঁড়ী বিওপির টহলদল সীমান্ত পিলার ৩৭/২-এস সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি দাহ্য পাউডার, ৩ কেজি মেপোক্স (মিথাইল ইথাইল কিটোন পারক্সাইড), ৩ রোল নাইলন কাপড় এবং ৩ লিটার দাহ্য রাসায়নিক তরল জব্দ করে। জব্দকৃত এসব দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে এবং পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া ১১ এপ্রিল ভোররাতে নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি এলাকা থেকে অবৈধভাবে মজুদকৃত ৩৯৫ লিটার অক্টেন জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য কয়েক লাখ টাকা। একই সময়ে টাইম বাজার এলাকা থেকে ২০ বস্তা ইউরিয়া সার ও ৪ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্যও উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব জ্বালানি ও সার চোরাচালানের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল।
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির জানান, বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ জ্বালানি মজুদ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রতিরোধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।