ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তাপপ্রবাহে লিচু পুড়ে কৃষকের মাথায় হাত

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২৭ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার ঈশ্বরদীতে তীব্র খরা ও প্রচন্ড রোদের কারণে লিচু উপরের কিছু অংশে কালচে রং দেখা যাচ্ছে। লিচুর গায়ে বিবর্ণ রং দেখে বিপাকে পড়েছে চাষিরা। কম দামে এ লিচু বিক্রি করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। লিচুর জন্য বিখ্যাত ঈশ্বরদীতে এখন চলছে রসালো বোম্বাই লিচু সংগ্রহ ও বাজার জাতকরণের কাজে ব্যস্ত সবাই। লিচু চাষি বাগান মালিক, ব্যবসায়ী, আড়তদার সবাই এখন লিচু বাজার জাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছে। এর মধ্যেই প্রচণ্ড রোদে লিচুর চামড়া কালচে রং হওয়ায় সবার চোখে মুখে বিষণ্নতার ছাপ দেখা যায়। চামড়া পুড়ে যাওয়া লিচু অর্ধেকের কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এবার ভালো ফলনে চাষিরা যে লাভের আশা করেছিলেন শেষ মুহূর্তে খরায় লিচুর চামড়া পুড়ে যাওয়ায় তাদের লাভ অনেকটাই কমে যাবে। দেশের অন্যতম বৃহৎ লিচুর হাট ঈশ্বরদীর জয়নগরে গিয়ে দেখা যায় পাকা টকটকে রসালো লিচুর পাশাপাশি হাটে উঠেছে চামড়া পুড়ে যাওয়া বিবর্ণ কালচে লিচু। বাজারে সেরা লিচু যেখানে প্রতি হাজার ২০০০-২৫০০ টাকা দরে বেচাকেনা হয়। সেখানে চামড়া পোড়া লিচু প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা দরে। হাটে চামড়া পোড়া লিচুর সংখ্যাও অনেক বেশি। জয়নগর হাটে পোড়া লিচু বিক্রি করতে আসা চাষি জানান, এবার লিচুর ফলন ভালো ছিল কিন্তু আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে লিচুর চামড়া পুড়ে গেছে। ফলে লিচুর বাজারদর কমে যায়। চাষি বলেন প্রচণ্ড রোদের কারণে লিচু পুড়ে যাচ্ছে। পুড়ে যাওয়া লিচু খুব সস্তায় বেচাকেনা হচ্ছে। এ হাটে প্রতি হাজার লিচু ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৬০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। সবচেয়ে কমদামে বিক্রি হচ্ছে ঝরে পড়া লিচু ও রোদে পোড়া লিচু।
মানিকনগর গ্রামের লিচু বাগান মালিক দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, এবছরে লিচুর উৎপাদন বেশি। জয়নগর হাটে সর্বোচ্চ লিচুর আমদানি হয়। বৈরি আবহাওয়ার কারণে লিচু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ভাষায় একে পোড়া বলে। আজকের বাজারে ভালো মানের লিচু প্রতি হাজার ১২০০ থেকে ২৬০০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। জয়নগর লিচু হাটের আড়তদার বলেন এ হাটে প্রতি হাজার লিচু ১০০০ থেকে ২৫০০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। লিচুর বাজার কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে আবহাওয়া, আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তনের ফলে প্রচণ্ড রোদে লিচুর গায়ে কালো স্পট পড়ছে। এতে কৃষকেরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন বলেন, কয়েকদিন ধরে ঈশ্বরদীতে তাপপ্রবাহ বেড়েছে। তাপমাত্রা ৩৬-৩৮ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। এতে মানুষের পাশাপাশি প্রকৃতিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, ঈশ্বরদীতে এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। হঠাৎ করে দুই-তিন দিন ধরে প্রচণ্ড রোদের কারণে তাপপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় কিছু সংখ্যক লিচুর চামড়া পুড়ে কালচে হয়ে গেছে এতে চাষিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

তাপপ্রবাহে লিচু পুড়ে কৃষকের মাথায় হাত

আপডেট সময় :

পাবনার ঈশ্বরদীতে তীব্র খরা ও প্রচন্ড রোদের কারণে লিচু উপরের কিছু অংশে কালচে রং দেখা যাচ্ছে। লিচুর গায়ে বিবর্ণ রং দেখে বিপাকে পড়েছে চাষিরা। কম দামে এ লিচু বিক্রি করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। লিচুর জন্য বিখ্যাত ঈশ্বরদীতে এখন চলছে রসালো বোম্বাই লিচু সংগ্রহ ও বাজার জাতকরণের কাজে ব্যস্ত সবাই। লিচু চাষি বাগান মালিক, ব্যবসায়ী, আড়তদার সবাই এখন লিচু বাজার জাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছে। এর মধ্যেই প্রচণ্ড রোদে লিচুর চামড়া কালচে রং হওয়ায় সবার চোখে মুখে বিষণ্নতার ছাপ দেখা যায়। চামড়া পুড়ে যাওয়া লিচু অর্ধেকের কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এবার ভালো ফলনে চাষিরা যে লাভের আশা করেছিলেন শেষ মুহূর্তে খরায় লিচুর চামড়া পুড়ে যাওয়ায় তাদের লাভ অনেকটাই কমে যাবে। দেশের অন্যতম বৃহৎ লিচুর হাট ঈশ্বরদীর জয়নগরে গিয়ে দেখা যায় পাকা টকটকে রসালো লিচুর পাশাপাশি হাটে উঠেছে চামড়া পুড়ে যাওয়া বিবর্ণ কালচে লিচু। বাজারে সেরা লিচু যেখানে প্রতি হাজার ২০০০-২৫০০ টাকা দরে বেচাকেনা হয়। সেখানে চামড়া পোড়া লিচু প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকা দরে। হাটে চামড়া পোড়া লিচুর সংখ্যাও অনেক বেশি। জয়নগর হাটে পোড়া লিচু বিক্রি করতে আসা চাষি জানান, এবার লিচুর ফলন ভালো ছিল কিন্তু আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে লিচুর চামড়া পুড়ে গেছে। ফলে লিচুর বাজারদর কমে যায়। চাষি বলেন প্রচণ্ড রোদের কারণে লিচু পুড়ে যাচ্ছে। পুড়ে যাওয়া লিচু খুব সস্তায় বেচাকেনা হচ্ছে। এ হাটে প্রতি হাজার লিচু ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৬০০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। সবচেয়ে কমদামে বিক্রি হচ্ছে ঝরে পড়া লিচু ও রোদে পোড়া লিচু।
মানিকনগর গ্রামের লিচু বাগান মালিক দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকার প্রতিনিধিকে জানান, এবছরে লিচুর উৎপাদন বেশি। জয়নগর হাটে সর্বোচ্চ লিচুর আমদানি হয়। বৈরি আবহাওয়ার কারণে লিচু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ভাষায় একে পোড়া বলে। আজকের বাজারে ভালো মানের লিচু প্রতি হাজার ১২০০ থেকে ২৬০০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। জয়নগর লিচু হাটের আড়তদার বলেন এ হাটে প্রতি হাজার লিচু ১০০০ থেকে ২৫০০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। লিচুর বাজার কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে আবহাওয়া, আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তনের ফলে প্রচণ্ড রোদে লিচুর গায়ে কালো স্পট পড়ছে। এতে কৃষকেরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন বলেন, কয়েকদিন ধরে ঈশ্বরদীতে তাপপ্রবাহ বেড়েছে। তাপমাত্রা ৩৬-৩৮ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। এতে মানুষের পাশাপাশি প্রকৃতিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, ঈশ্বরদীতে এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। হঠাৎ করে দুই-তিন দিন ধরে প্রচণ্ড রোদের কারণে তাপপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় কিছু সংখ্যক লিচুর চামড়া পুড়ে কালচে হয়ে গেছে এতে চাষিরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।