ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার কামারজানীর গোঘাট এলাকায় সিসিব্লক নদীগর্ভে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ২০ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানীর গোঘাট গ্রামে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সিসিব্লক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ভাঙন আতংকে ঘর-বাড়ী সরিয়ে নিচ্ছে ওই এলাকার মানুষ। ঘনবসতিপূর্ণ ১১শ মিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়ায় এসব স্থানে দ্রুত আপদকালীন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকার তীর ঘেঁষে প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের ঘনবসতি গ্রাম,একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র,একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মসজিদ রয়েছে। নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়া স্থান হতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুরত্ব ৬০ মিটারের মধ্যে হওয়ায় ভাঙন তীব্রতা বাড়তে থাকলে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে বৃহত্তর এলাকা।
পাউবো সূত্র বলছে, ২০১৭ সাল থেকে তীব্র নদী ভাঙনে প্রায় দেড় হাজার পরিবারের বাস্তুভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ২০২১ সালে সুন্দরগঞ্জসহ খানাবাড়ীর গোঘাট গ্রামে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ৪০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিপিপি অংশের সিসিব্লক দ্বারা প্রতিরক্ষার কাজ করা হলেও তা গত বছরের বন্যায় বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জরুরি কাজের আওতায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ করছেন কিন্তু শুকনো মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ন স্থানগুলো মেরামতে উদ্যোগ না নেয়ার ফলে গত কয়েক দিনে নতুন করে সিসিব্লক ধ্বসে গিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আবু সায়েম শাফিউল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অবহেলা ও উদাসিনতার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানায় উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে শুকনো মৌসুমে শত শত বার ঝুঁকিপুর্ন স্থানের মেরামতের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হলেও তিনি কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
নদীর তলদেশে ডাম্পিং করা সিসিব্লকগুলো অধিক গভীরতায় সরে যাওয়ার ফলে তীর সংরক্ষণ করা ব্লকগুলো নেমে গিয়ে নতুন করে ভাঙনের তীব্র বাড়তে শুরু করেছে।
গত শনিবার রাত নয়টার দিকে ওই গোঘাট গ্রামের সরকারি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংলগ্ন তীর সংরক্ষণ সিসিব্লক ধ্বসে গিয়ে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়। ফলে মুহূর্তে আতংকে পড়ে যায় গ্রামবাসী,ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়া শুরু হয়। ঘটনাস্থলে এসে পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শরিফুল ইসলাম তাৎক্ষণিক আপদকালীন কাজের অংশ হিসেবে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করেছেন।
তবে এলাকাবাসী বলছে, শুকনো মৌসুমে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকার ঝুঁকি বিবেচনায় কাজ করা হলে এই সময়ে এসে নদী ভাঙনের প্রভাব বিস্তার করতো না।
স্থানীয়রা জানায়, নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শরিফুল ইসলাম খুবই আন্তরিকতার সাথে কাজ করছেন। ভাঙনের বিষয়টি তিনি অবগত হওয়ার সাথে সাথে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আপদ কালিন কাজের অংশ হিসেবে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের পদক্ষেপ নেয় এবং গভীর রাত থেকে ডাম্পিং কাজ শুরু হয়। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক কিছুটা কেটে যেতে শুরু করেছে।
কামারজানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: মতিয়ার রহমান বলেন, কামারজানীর গোঘাট গ্রামটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকাটি দেখা দরকার। ঝুঁকি মোকাবেলায় আগাম পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গাইবান্ধার কামারজানীর গোঘাট এলাকায় সিসিব্লক নদীগর্ভে

আপডেট সময় :

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানীর গোঘাট গ্রামে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সিসিব্লক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ভাঙন আতংকে ঘর-বাড়ী সরিয়ে নিচ্ছে ওই এলাকার মানুষ। ঘনবসতিপূর্ণ ১১শ মিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়ায় এসব স্থানে দ্রুত আপদকালীন পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকার তীর ঘেঁষে প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের ঘনবসতি গ্রাম,একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র,একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মসজিদ রয়েছে। নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়া স্থান হতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুরত্ব ৬০ মিটারের মধ্যে হওয়ায় ভাঙন তীব্রতা বাড়তে থাকলে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে বৃহত্তর এলাকা।
পাউবো সূত্র বলছে, ২০১৭ সাল থেকে তীব্র নদী ভাঙনে প্রায় দেড় হাজার পরিবারের বাস্তুভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ২০২১ সালে সুন্দরগঞ্জসহ খানাবাড়ীর গোঘাট গ্রামে তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ৪০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিপিপি অংশের সিসিব্লক দ্বারা প্রতিরক্ষার কাজ করা হলেও তা গত বছরের বন্যায় বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জরুরি কাজের আওতায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ করছেন কিন্তু শুকনো মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ন স্থানগুলো মেরামতে উদ্যোগ না নেয়ার ফলে গত কয়েক দিনে নতুন করে সিসিব্লক ধ্বসে গিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: আবু সায়েম শাফিউল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অবহেলা ও উদাসিনতার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানায় উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে শুকনো মৌসুমে শত শত বার ঝুঁকিপুর্ন স্থানের মেরামতের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হলেও তিনি কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
নদীর তলদেশে ডাম্পিং করা সিসিব্লকগুলো অধিক গভীরতায় সরে যাওয়ার ফলে তীর সংরক্ষণ করা ব্লকগুলো নেমে গিয়ে নতুন করে ভাঙনের তীব্র বাড়তে শুরু করেছে।
গত শনিবার রাত নয়টার দিকে ওই গোঘাট গ্রামের সরকারি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সংলগ্ন তীর সংরক্ষণ সিসিব্লক ধ্বসে গিয়ে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়। ফলে মুহূর্তে আতংকে পড়ে যায় গ্রামবাসী,ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়া শুরু হয়। ঘটনাস্থলে এসে পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শরিফুল ইসলাম তাৎক্ষণিক আপদকালীন কাজের অংশ হিসেবে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করেছেন।
তবে এলাকাবাসী বলছে, শুকনো মৌসুমে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকার ঝুঁকি বিবেচনায় কাজ করা হলে এই সময়ে এসে নদী ভাঙনের প্রভাব বিস্তার করতো না।
স্থানীয়রা জানায়, নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শরিফুল ইসলাম খুবই আন্তরিকতার সাথে কাজ করছেন। ভাঙনের বিষয়টি তিনি অবগত হওয়ার সাথে সাথে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আপদ কালিন কাজের অংশ হিসেবে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের পদক্ষেপ নেয় এবং গভীর রাত থেকে ডাম্পিং কাজ শুরু হয়। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক কিছুটা কেটে যেতে শুরু করেছে।
কামারজানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: মতিয়ার রহমান বলেন, কামারজানীর গোঘাট গ্রামটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প এলাকাটি দেখা দরকার। ঝুঁকি মোকাবেলায় আগাম পদক্ষেপ গ্রহন করা প্রয়োজন।