×
  • প্রকাশিত : ২০২২-০৮-০১
  • ৩৮ বার পঠিত
সাঈদ আহাম্মেদ খান : মমতা সরকারের শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (৭০) একটা গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে অর্পিতা চট্রোপাধ্যায়ের (৩৪) সঙ্গে ২০১৭ সালে তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর। অর্পিতা যখন তখন পার্থের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অর্পিতাকে নিয়ে পার্থ সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড বেড়াতে যেতেন আলাদা আলাদা ফ্লাইটে। দেখা হতো হোটেলে। গোপন অভিসার আরও ঘনিষ্ঠ হয় যখন অর্পিতার ডেরায় কোটি কোটি টাকা জমা করতে থাকেন তৃণমূলের মন্ত্রী পার্থ। তারা বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে যেতে দূরের কোন জলাশয়ে। রাত হলে বেড়িয়ে পড়তেন লং ড্রাইভে। এভাবে চলছিলো সবকিছু। কিন্তু এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)  কর্মকর্তারা অর্পিতার তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের হদিস পেয়েছেন, যেখানে অন্তত ২ কোটি টাকা আছে। গত শনিবার মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে ইডি। ওই দিনই গ্রেফতার করা হয় অর্পিতাকেও। তার আগের রাতে অর্পিতার টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে নগদ ২২ কোটি টাকা উদ্ধার করে ইডি। এর পর তাঁর বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাট থেকে বুধবার রাতে উদ্ধার হয় প্রায় ২৮ কোটি টাকা।

সঙ্গে প্রচুর সোনা-রুপোর বাট, কয়েন, গহনাও। সেখানেই শেষ নয়। নগদের পাশাপাশি এ বার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা বিপুল অর্থেরও সন্ধান পেল ইডি। ইডির এক আধিকারিক বলেন, ‘অর্পিতার তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব ক’টি অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে ২ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। আমাদের সন্দেহ, এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে বহু লেনদেন করা হয়েছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ তাদের টাকার একটা বড় অংশের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন কোন ব্যবসায়ি, শিক্ষাবিদ ও প্রভাবশালির কানেকশন খোঁজে পেয়েছে ইডি। যা নিয়ে ঢাকায় এখন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বেড়েছে। অর্পিতা ও পার্থকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আলাদা কারাগারে পাঠানো হতে পারে। সুন্দরি অর্পিতার শুধু নিজের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টই নয়, একাধিক ভুয়ো সংস্থা তৈরি করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সেই অ্যাকাউন্টগুলি চিহ্নিত করার কাজ শেষ। ইডি খতিয়ে দেখছে, ওই সব অ্যাকাউন্টে লেনদেনের প্রকৃতি।  গ্রেপ্তারের পর সদ্য পদ হারানো তৃণমূল মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের টাকা পাচার নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম। এতে বলা হয়েছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর দু’টি ফ্ল্যাটে বিপুল অঙ্কের টাকা পাওয়ার ঘটনায় নড়ে বসেছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, বাংলাদেশে টাকা পাচারের সম্ভাবনার খবর প্রকাশ হওয়া মাত্রই তারা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। বাংলাদেশে পার্থের প্রভাব বলয়কে খতিয়ে দেখে পশ্চিমবঙ্গের এই প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা চিহ্নিত করেছে, যাঁরা তাঁর স্বার্থে কাজ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এই তালিকায় যেমন এক জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং মন্ত্রিসভার এক জন সদস্য, রয়েছেন প্রাক্তন এক সেনাকর্তাও। পার্থের বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে প্রথম দফায় উদ্ধার হওয়া টাকার যে ছবি প্রকাশিত হয়েছিল, তাতেই ‘বাংলাদেশ যোগ’-এর বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। ডাঁই করা নোটের মধ্যে একটি সাদা ব্যাগ ছিল বাংলাদেশের। টাকা যে ভাবে শক্তপোক্ত খামে ভরে ‘স্কচ টেপ’ দিয়ে প্যাক করা ছিল, তা যে সচরাচর পাচারের জন্য করা হয়, সেটাও গোয়েন্দারা ধারণা করছেন। বস্তুত প্রথম দিন থেকেই পার্থের বাংলাদেশ কানেকশানের তদন্ত শুরু করে দেন বাংলাদেশি গোয়েন্দারা। 

পার্থের টাকার একটা অংশ কয়েক দফায় পাচার হয়েছে কিনা তাও দেখা হচ্ছে। সেই টাকার একাংশ দিয়ে বাংলাদেশে বেনামে জমি-বাড়ি কেনা হয়েছে বলেও তাঁরা সূত্র পাচ্ছেন। বাকি অংশ তৃতীয় কোনও দেশে চালান হতে পারে। এ কাজে কলকাতার দু’টি ব্যবসায়িক সংস্থার যোগ প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ইডি-র দাবি, এই দুই সংস্থা পার্থের অর্থ পাচারে যুক্ত। একটি তৈরি পোশাকের কারবারি, অন্যটি শিক্ষার ব্যবসায় যুক্ত। তৈরি পোশাকের কারবারি সংস্থাটি দু’দেশেই ব্যবসা করে। বাংলাদেশের কয়েকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পোশাক আমদানি করে এ দেশে তাদের বিপণিগুলিতে বিক্রি করে এই সংস্থা। শিক্ষার ব্যবসায়ে যুক্ত সংস্থাটিও বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি কলেজ এবং ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল খুলতে আগ্রহী। বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা এবং এক জন প্রতিমন্ত্রী সে দেশে এই সংস্থার ‘স্বার্থ’ দেখে। ইডি-সূত্রের ভাষ্য- আদতে কুমিল্লার লোক পার্থের এই সব যোগাযোগ এবং ‘অর্থের সম্ভাব্য গতিপথ ও বিনিয়োগ’ বাংলাদেশের গোয়েন্দারা যাতে খতিয়ে দেখেন, সে  জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদেশ মন্ত্রণালয় হয়ে সে চিঠি শনিবারও তাঁদের হাতে পৌঁছয়নি বলে জানাচ্ছেন বাংলাদেশের গোয়েন্দা সূত্র। তবে তাঁরা আগেই এই তদন্ত শুরু করে দিয়েছেন।

শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন পার্থের আরেক বান্ধবী (অর্পিতা নয়) নিয়মিত বাংলাদেশে গিয়ে সেখানকার সব দেখাশোনা করতো। ওই বান্ধবী বাংলাদেশে পার্থের জমি-বাড়ি দেখাশোনা করতেন বলেও দাবি ইডি-র। প্রথমিক তদন্তে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা জেনেছেন, সে দেশের এক জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের সঙ্গে ‘বিশেষ ঘনিষ্ঠতা’ তৈরি করে তাঁকে ব্যবহার করেছেন এই বান্ধবী। প্রবীণ এই শিক্ষাবিদের হাত ধরেই  সবকিছু করা হচ্ছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ। পার্থ এবং অর্পিতাকে এখন ইডি জিজ্ঞাবাদ করছে আরও টাকা কোথায় রাখা আছে তার হদিছ জানার জন্য। এ যেক টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন তারা বিভিন্ন বাড়িতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat